Recent News
">

বিশেষ প্রতিবেদক: আইন লঙ্ঘন করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় গড়ে উঠেছে কেমিক্যাল তৈরীর অবৈধ্য কারখানা।

অবৈধ্যভাবে কেমিকেল ব্যবহার, সংরক্ষণ, বিপনন ও সরবরাহ সবই চলছে লোকচক্ষুর আড়ালে। কেমিক্যাল আমদানি করার লাইসেন্স ও বিপজ্জনক কেমিক্যালসহ নানা দাহ্য পদার্থের ব্যবহার, বিপনন ও সরবরাহের নানা প্রকার বিধি বিধান থাকলেও তা কোন তোয়াক্কা না করেন চলছে মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়া, বিসমিল্লাহ ভিলা, বাড়ী নং-৭ রোড নং-১ পুরাতন মসজিদ রোড়ে জনবহুল পরিবেশে অবৈধ্যভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

সরজমিনে আমাদের প্রতিনিধি কারখানায় প্রবেশ করতে চাইলে ঢুকতে দেয়নি । সাংবাদিক বললে প্রথমে তারা গেইট খুলতে চায়নি পরবর্তীতে গেইটে বার বার শব্দ করার ফলে আশেপাশের অনেক মানুষ জড়ো হয়ে যাওয়ায় খুলতে বাধ্য হয়। বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করার পর কাউকে কাজ করতে দেখা যায়নি । তিনজন কেমিষ্ট আছেন তারা মশারির ভিতরে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায় আর একজন ম্যানেজার আমাদের সাথে কথা বলেন।

কারখানার ম্যানেজার বলেন, এখানে অবৈধ্য কিছু নেই আপনারা চাইলে ঘুরে দেখতে পারেন। কারখানায় বড় বড় অনেকগুলো ড্রাম সারিবদ্ধ ভাবে দাড়ানো তার সাইটে লেভেলে বড় বড় করে ইংরেজীতে লেখা Flammable Liquid (দাহ্য তরল পদাথ) । অনেকগুলো বস্তায় রয়েছে খালি বোতল। তবে একটি ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল ঘরটিতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি ।

আমাদেরকে দেখে তারা কাজ করেনি সবাই মশারির নীচে ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের ম্যানেজারকে কাগজপত্রের কথা জিজ্ঞেস করলে সব কাগজপত্র কোম্পানীর অফিসে আছে বলেন। পরবর্তীতে তিনি মালিকের ফোন নম্বরে যোগাযোগ কথা বলিয়ে দেন। রিলায়েন্স এন্টারপ্রাইজ কমলাপুরের ২২, রাজ্জাক টাওয়ারের ৫ম তলায় কোম্পানীর অফিস । মালিকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন ভাই আমি ষ্টুডেন্ট মানুষ কিছুদিন আগে লেখাপড়া শেষ করে এ ব্যবসায় নেমেছি কোন কাগজপত্র এখনও করেনি।

কোন প্রকার রাসায়নিক মজুতের কোনরকম অনুমোদন ছাড়াই নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে রিলায়েন্স এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুত, পরিবহন ও বিক্রির ক্ষেত্রে আইন না মানার ফলে অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুকি বাড়ছে। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের এক পরিদর্শকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, যে কোন কেমিক্যাল মজুত উৎপাদন বিপনন করতে হলে প্রথমে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ারসার্ভিস সার্টিফিকেট লাগবে । এসব কাগজ ঠিক থাকলে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কাগজ জমা দিলে আমরা সরজমিনে দেখে ছাড়পত্র দিব। যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানের কোন অনুমোদন নেই যদি কেহ আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন। অথচ যেকোন প্রোডাক্ট উৎপাদন ও বাজারজাত করতে হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি করে নিতে হয়। তিনি বলছেন মেশিনের কালি বানিয়ে বিক্রি করছেন। ইংরেজী ও চাইনিজ ভাষায় লেভেল লাগানো দেখেই বুঝা যায় এগুলো চাইনিজ বলে দেশের বিভিন্ন কোম্পানীতে বিক্রি করা হয় আদতে এগুলো সবই নকল ।

কয়েকদিন পর পর তারা কারখানা পাল্টায়, এখানে ২ বছরের বেশী হলেও আজ পর্যন্ত আশেপাশের কেউ ঐ কারখানার মালিক বা ম্যানেজার কাউকে চেনেন না। আশেপাশের লোকজনের বক্তব্য তারা সবসময় গেইট বন্ধ করে ভিতরে কাজ করে। তারা বাহিরে কখনও বের হয় না। তাই ঐ বাড়ির ভিতর কি হচ্ছে তা কেউ জানে না।