সর্বশেষ সংবাদ

x


৩০ বছর ঝুপড়িতে বসবাস, তবুও মেলেনি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের জমি সহ ঘর

শুক্রবার, ০৯ জুলাই ২০২১ | ৮:৪৯ অপরাহ্ণ | 161 বার

৩০ বছর ঝুপড়িতে বসবাস, তবুও মেলেনি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের জমি সহ ঘর
৩০ বছর ঝুপড়িতে বসবাস, তবুও মেলেনি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের জমি সহ ঘর

৩০ বছর ঝুপড়িতে বসবাস, তবুও মেলেনি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের জমি সহ ঘর । গৃহহীন ও ভূমিহীনদের দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার অভাবে নবাবগঞ্জে মেলেনি অনেক অসহায়দের মাঝে ।

বাড়ি বাড়ি যেয়ে সবার কাছ থেকে চেয়ে এনে খাওয়া মানুষটি নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের উত্তর চৌকিঘাটার ভোটার মো.হারুন ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ধারে ধারে গিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেও পায়নি সরকারের একটি ঘর। স্থানীয় ইউপি সদস্যরা তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে । একটি মেয়ে নিয়ে রাতের অন্ধাকারে জঙ্গলে বাস করছেন তিনি, কখনো কারো বাড়িতে, কখনো বা বাজারের কোনো দোকানে একটু খাবারের আসায় ছুটে চলে হারুন। দিনভর এই ছুটাছুটি সামান্য টাকা আর একটু খাবারের আশাতেই । কিছুটা মানসিক সমস্যা থাকায় এলাকায় তাকে সবাই চেনে ‘হারুন পাগলা’ নামে।

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্ত্রী ও কিশোরী মেয়েকে নিয়ে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদী পাড়ের নির্জন ঝোপে ভাঙাচোরা একটি ঝুপড়িতে বাস করছেন তিনি । লোকমুখে যখনই শুনেছে অনেক গৃহহীন ও ভূমিহীনরা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছে হারুন,হারুনের বউ, হারুনের মেয়েও স্বপ্ন দেখছিল একটি নতুন ঘরের ? ঘর না পেয়ে সবার কাছে একটি মিনতী করে দাবি জানাচ্ছে একটি ঘরের জন্য।

হারুন জানান আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ ঘুড়েছি অনেকের কাছে তবুও মেলেনি কাঙ্খিত একটি ঘর । এমনকি সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমি সহ ঘরের জন্য বলেও সেখানে মেলেনি সুফল।

এলাকাবাসীরা জানান, হারুন উপজেলার আগলা খাঁন হাটি গ্রামের মৃত কায়েম ও ছালেহা দম্পতির ছোট ছেলে । তার মানসিক সমস্যা থাকায় আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা তাকে ‘পাগলা হারুন’ নামে চেনেন।

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ভিটে মাটি বিক্রি করার টাকা তার বড় ভাই নিয়ে চলে যান। তারপর থেকে হতদরিদ্র হারুন মানুষের কাছে চেয়ে খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেই চলছে।

বাধ্য হয়ে উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের আগলা ব্রীজের পূর্ব পাশের নদীর তীরের ঝোপে একটি ঝুপড়িতে স্ত্রী আছমা আক্তার ও ১২ বছরের কিশোরী মেয়ে সম্পাকে নিয়ে থাকেন হারুন ।

তার দিন কোন রকমে কাটলেও রাতে কিশোরী মেয়েটিকে নিয়ে ভয়ে ভয়ে রাত কাটান পরিবারটি। হারুনের স্ত্রী আছমাও কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

সরেজমিনে গ্রামটিতে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মন্টু মিয়া ও ব্যবসায়ী মো.আলাউদ্দিন, বিল্লাল, আজহার, নান্নু মাদবর সহ বেশ কয়েক জনের সঙ্গে । তাঁরা বলেন, হারুন অত্যন্ত অসহায় ও নিরীহ মানুষ । লোক হিসেবেও ভালো । আমরা তার খারাপ কিছু কখনও দেখিনি।

ভিক্ষা বৃত্তি ও মানুষের কাছে চেয়ে চিন্তে টাকা ও খাবার সংগ্রহ করাই তার কাজ । তার কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে । কথা এলো মেলো বলেন তিনি । তার স্ত্রীরও একই অবস্থা ।

মেয়েটিও দিন দিন বড় হচ্ছে । আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাদের মেয়ে পড়ালেখা করতে না পেরে অসুস্থ মাকে ঘরের কাজে সাহায্য করেন ।

দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা ওই ঝোপে ভয়ের মধ্যে থেকে খুবই দুঃখ কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন । তারা যদি সরকারি ভাবে কোনো সাহায্য সহযোগিতা বা নিরাপদ বাসস্থান পায় তাহলে আমরা স্থানীয়রা খুবই খুশি হবো ।

হারুন পাগলার সঙ্গে কথা বলতে ওই ঝোপের বাড়িতে ঢুকতেই গা ছমছম করার মতো অবস্থা। ভাঙা চোরা ঝুপড়িতে পাওয়া গেলো হারুনকে ।

হারুন বলেন, বাবা-মা মইরা যাওয়ার পর আমাগো আগলা খাঁন হাঁটির গ্রামের বাড়ির বাবার জমি আমার বড় ভাই বারেক ও আমি মিলে বেইচা দেই। কিন্তু আমার ভাই প্রতারণা করে জমি বেচার সব টেকা নিয়ে পলাইয়া যায় । পরে আর তারে পাই নাই । তারপর কোমরগঞ্জের একটি সরকারি জায়গায় ব্যানার দিয়া ‘ছাপড়া’ বানাইয়া থাকছি দশ বছর । সেই খানে আমার ছোট্ট পুলাটারে শিয়ালে কামড় দেয়। তারপর সে মইরা যায় । ওইখান থেকে চেয়ারম্যান আমাকে উঠায় দিলে আমি আগলা দক্ষিণ চৌকিঘাটা গ্রামের ইসতিয়াক ভাইয়ের লগে কথা কইয়া তাঁর ঝোপের জায়গায় পলিথিন আর বেড়া দিয়ে এই ঘরটায় থাহি ।

হারুন বলেন, “আমি একটা ঘর চাইতে বহুবার চেয়ারম্যান-মেম্বরের কাছে গেছি। কেউ দেয় নাই। হুনছি আমাগো প্রধানমন্ত্রী জমির লগে ঘর দিতাছে, হেই ঘরও চাইছি পাই নাই।”

একথা বলেই ঘর থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে এসে তা দেখিয়ে হারুন কেঁদে কেঁদে আরও বলেন,আমি এতিম আমার কেউ নাই। আমার জায়গা নাই, ঘর নাই কিছুই নাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে থাকবার একটা ঘর চাই, আপনে আমারে দয়া করেন।

 

 

ঘর থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে এসে তা দেখিয়ে হারুন কেঁদে কেঁদে আরও বলেন,আমি এতিম আমার কেউ নাই। আমার জায়গা নাই, ঘর নাই কিছুই নাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে থাকবার একটা ঘর চাই, আপনে আমারে দয়া করেন-ছবি: প্রতিনিধি

 

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সিকিম আলী মেম্বারের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হারুন কে আমি বহুবার ঘর ও ভাতার জন্য আইডি কার্ড দিয়ে একটা আবেদন করতে বলেছি ।

এমনকি আবেদন লিখার জন্য একটি দোকানও দেখিয়ে দিয়েছি। তারপর না পারলে বলেছি আমার কাছে আসতে। কিন্তু সে কিছুই করেননি। এছাড়াও হারুনের মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে দিতে চেয়েছি। তাতেও তিনি রাজি হয়নি। হারুন পাগলা এরকম করলে আমি কি করবো আপনারাই বলেন।

নবাবগঞ্জের বাহ্রা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাফিল উদ্দিন মিয়া বলেন, এর আগে হারুন কে একটি ঘর দেয়া হয়েছিল। তখন এক ব্যক্তি ঘরটি তোলার জন্য তাকে একটি জমি দিতে চেয়েছিল। কিন্তু জমিটি না দেয়ায় ওই ঘরটি আর দেয়া সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমিসহ একটি ঘর হারুন কে দেয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করব।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো.মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ভাতা পাওয়ার জন্য হারুন আমাদের কাছে আবেদন করলে তাদের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মনজু বলেন, হারুনের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি, আপনার কাছ থেকে জানলাম। পরিবারটি যদি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মাধ্যমে বা যে কোনো মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার কাছে জমা দেয় তাহলে সেগুলো যাচাই বাছাই করার পর ওই পরিবারটি যে সকল সরকারি সাহায্য সহযোগিতার পাওয়ার যোগ্য তার ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে।

এছাড়া একই ইউনিয়নে বাহ্রা ইউপির সাবেক সদস্য সেলু মেম্বার, মতিয়ার রহমান, হাসিনা বেগম, আগলা ইউনিয়নের মজিবর রহমান, নূর হোসেন, গালিমপুর ইউনিয়নের ডালিয়া আক্তারের অবস্থা একেবারেই নাজেহাল অবস্থা। তারাও সরকারের দেওয়া একটি ঘর পেতে চান।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
দোহারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের বিদায় সংবর্ধনা

Development by: webnewsdesign.com