জনপ্রিয় সংবাদ

x

সুদহার কমাতে নতুন কৌশল নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শনিবার, ০৯ মার্চ ২০১৯ | ৬:৫৯ অপরাহ্ণ | 39 বার

সুদহার কমাতে নতুন কৌশল নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও শুধু রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংক ছাড়া কোনো ব্যাংকই প্রকৃত অর্থে তা কার্যকর করেনি। এখনও অনেক ব্যাংক ১৩-১৪ শতাংশ হারে ঋণ বিতরণ করছে। এসব কারণে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ন্যায় সুদহার কার্যকর করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী ঋণের সুদ বছর ধরে হিসাব করার কথা। ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে এভাবেই আলোচনা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেটি মানা হয় না। নানা রকম ফাঁক-ফোকর ও সরল সুদের পরিবর্তে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আরোপের ফাঁদ পাতা হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ঋণগ্রহীতারা। এছাড়া সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোকে যে নির্দেশনা দেয়া আছে তা কার্যত সরকারি ব্যাংক ছাড়া কেউ পালন করছে না। তাই সুদহারের পরিবর্তন আনতে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক একেএম আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সুদ আরোপের দেশি-বিদেশি পদ্ধতি পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করবে। এর ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকের সুদহার কমানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সূত্র আরও জানান, ঋণের বিপরীতে চক্রবৃদ্ধি হারে (সুদের ওপর সুদ আরোপ) সুদ আরোপ পদ্ধতি বাদ দিয়ে সরল হারে (সুদের ওপর সুদ আরোপ নয়) সুদ আরোপের পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এতে ঋণের সুদের হার কিছুটা কমবে।

—————————————–

‘‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত, ঋণের সুদহারে পরিবর্তন আনা।
সবচেয়ে ভালো হয়, সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে থাকলে’’

—————————————–

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঋণের সুদ বছর ভিত্তিতেই হিসাব করার নিয়ম। গ্রাহকদের সঙ্গে এভাবেই কথা হয়। কিন্তু প্রায়োগিক ক্ষেত্রে তা একেক ব্যাংক একেকভাবে করে। যে কারণে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ঋণের বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলে এ বৈষম্য হতো না। এতো ব্যাংক থাকার পরও যেহেতু প্রতিযোগিতা গড়ে ওঠেনি সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নীতি করে দেয়া উচিত।

এদিকে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদ হিসাব করে তিন মাস পরপর। এই সুদ পরিশোধ করা না হলে মূল ঋণের সঙ্গে যোগ করে। এতে মূল ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এর ওপর আবার সুদ আরোপ করে। এতে ঋণের সুদহার আরো বেড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ জাগরণকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত, ঋণের সুদহারে পরিবর্তন করা। সবচেয়ে ভালো হয়, সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে থাকলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্যোগ নিয়ে দেখতে পারে। তবে ব্যাংকগুলো কতটা পরিপালন করবে সেটা হচ্ছে মূল বিষয়।

প্রকাশিত মিথ‌্যা সংবাদের প্রতিবাদে বিবৃতি জানিয়েছে “সাউথ বনশ্রী ইয়োথ সোসাইটি”

Development by: webnewsdesign.com