সীমানা চিহ্নিত করে খালের পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পাড় বাঁধাই, সবুজায়ন ও ওয়াকওয়ে করা হবেঃ ডিএনসিসি মেয়র

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ | ৫:০৩ অপরাহ্ণ | 18 বার

সীমানা চিহ্নিত করে খালের পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পাড় বাঁধাই, সবুজায়ন ও ওয়াকওয়ে করা হবেঃ ডিএনসিসি মেয়র
সীমানা চিহ্নিত করে খালের পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পাড় বাঁধাই, সবুজায়ন ও ওয়াকওয়ে করা হবেঃ ডিএনসিসি মেয়র

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ডিএনসিসি এলাকায় খালগুলোর সীমানা চিহ্নিত করে খালের পাড় থেকে অবৈধ সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করে পাড় বাঁধাই, সবুজায়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নিকট হস্তান্তরের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা এবং ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

আতিকুল ইসলাম আরো বলেন, আগে বৃষ্টি হলেই খালের পানি নেমে যেত। কিন্তু এখন বৃষ্টির কয়েক ঘন্টা পরও রাস্তা থেকে পানি নামে না। রাস্তা-ঘাট পাকা, ভবন নির্মাণ, পুকুর, লেক ও অন্যান্য জলাশয় ভরাট ইত্যাদির করে পানি নিষ্কাশনের জায়গা আমরা বিভিন্নভাবে বন্ধ করে ফেলেছি। সর্বত্র ইট-কংক্রিটের স্থাপনা করেছি। খোলা জায়গা থাকলে পানি দ্রুত শোষণ হয়ে যায়। তবে খাল যাতে কেউ দখল করতে না পারে সেজন্য সিটি জরিপ অনুসারে খালের সীমানা চিহ্নিতকরে, খালের দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এছাড়া খাল খনন/পূনঃখনন করে খালে পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হবে। খালের দুই পাড় বাঁধাই, সবুজায়ন, ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া যেসব খালে জলযান চলাচল করতে পারে সেখানে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



খালের পানি দূষণ রোধে আতিকুল ইসলাম বলেন, কোনোভাবেই পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের সংযোগ খালের মধ্যে সরাসরি দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে বায়োলজিকেল সেফটি ট্যাঙ্ক নির্মাণের কথা ভাবা যেতে পারে। ডিএনসিসির নিজ উদ্যোগে কয়েকটি খাল ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকার পূর্বাঞ্চলে পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, “ঢাকার পূর্ব অংশে এনভায়রনমেন্টাল সেন্সেটিভ এরিয়া আছে। তাই পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমনঃ ঢাকার পূর্ব অংশের সকল খালের দখলমুক্ত করতে হবে, খালের ওয়াটার কেরিং ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে, পাড় বাঁধাই করে সবুজায়ন করে হাঁটার ব্যবস্থা করতে হবে। সকল খাল, জলাশয় ও নদীকে নিয়ে ব্লু নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। ডিএনসিসির ১৮টি ওয়ার্ডের একশান প্ল্যানেও ব্লু নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। বালু নদীর তীর ধরে যে ইস্টার্ন বাইপাসের কথা বলা হচ্ছে, সেখানেও “ভায়াডাক্ট” পদ্ধতি অবলম্বন করে বাইপাস নির্মাণ করা যেতে পারে, যাতে খাল ও নদীর সংযোগ স্বাভাবিক থাকে। পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। ড্রেনেজ মাষ্টার প্ল্যান অনুযায়ী ওয়াটার রিটেনশান পন্ড এবং ড্যাপের প্রস্তাব অনুযায়ী ওয়াটার ইকোপার্ক তৈরি করা হবে, যা ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া নদীর সাথে খালগুলোর সংযোগ তৈরি করতে হবে”।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, “১৯৮৮ সালের আগে ঢাকার খালগুলো তদারকি করত তৎকালীন ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই খালগুলো ওয়াসার কাছে গেল তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তাই এতোদিন খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণে অনেকটা সমন্বয়হীনতা ছিল। তিনি বলেন, এখন ঢাকার ২৬টি খাল ওয়াসার কাছ থেকে ডিএনসিসি এবং ডিএসসিসিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ওই দুটি সংস্থা করবে। এতে নগরে আর জলাবদ্ধতা হবে না”।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, “নতুন বছরের প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় তারপরের দিন, শনিবার হতেই আমরা প্রাথমিকভাবে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। জিরানি খাল, মান্ডা খাল ও শ্যামপুর খাল এবং পান্থপথ বক্স কালভার্ট ও সেগুন বগিচা বক্স কালভার্ট হতে, যেখানে দীর্ঘদিনের স্তুপকৃত বর্জ্য যা শক্ত হয়ে গিয়েছে, বর্জ্য অপসারণের বিশাল কর্মযজ্ঞ আমরা হাতে নিয়েছি। আগামী মার্চের মধ্যে এই তিনটি খাল ও দুটি বক্স কালভার্ট হতে বর্জ্য অপসারণ করার কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি।” এই অপসারণ কার্যক্রমে ঢাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, “এই তিনটি খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং বক্স কালভার্টগুলোর কি অবস্থা, কাজ শুরু না করলে আমরা বুঝতে পারব না। আগামী মার্চের মধ্যে এই তিনটি খাল ও দুটি বক্স কালভার্ট যদি আমরা পরিষ্কার করতে পারি, তাহলে আগামী জুন নাগাদ বাকীগুলো ধরব”।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উভয় সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসার কর্মকর্তাবৃন্দ, ওয়ার্ড কাউন্সিলরবৃন্দ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
শ্রমিক ছাড়া দেশ অচল, ঠাকুরগাঁও ৩ আসনের এম পি জাহিদুর রহমান।

Development by: webnewsdesign.com