জনপ্রিয় সংবাদ

x



সাংবাদিক ভাইদের বঞ্চিত করবেন না : তথ্যমন্ত্রী

শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:৫৭ অপরাহ্ণ | 18 বার

সাংবাদিক ভাইদের বঞ্চিত করবেন না : তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিক ভাইদের বঞ্চিত করবেন না : তথ্যমন্ত্রী

টেলিভিশন মালিকদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, সাংবাদিক ভাইদের বঞ্চিত করবেন না। তারা অনেক কষ্ট করে চ্যানেলগুলো চালায়। খেয়ে না খেয়ে, তিন মাস চার মাস বেতন না পেয়ে এবং বাচ্চাকে স্কুলে রেখে বা হাসপাতালে দিয়েও তারা সংবাদ সংগ্রহ করেন। টেলিভিশনের জন্য তারা কাজ করেন তাদের সেই দরদটা অনুধাবন করবেন। তাই অনুরোধ সাংবাদিক ভাইদের কেউ বঞ্চিত করবেন না। কোনো সাংবাদিকের অহেতুক কারও চাকরিচ্যুতি ঘটবে না এটিই আমার প্রত্যাশা।’

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) ‘সম্প্রচার গণমাধ্যমের সংকট’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার ও প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।



প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রচার আইন বহু আগেই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এখনও প্রতিউত্তর আসেনি। গণমাধ্যম কর্মী আইন নিয়ে অগ্রগতি আছে। বেশ অগ্রগতি হয়েছে। খুব সহসাই তা পার্লামেন্ট হয়ে পাশ হয়ে আসবে। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের শ্রমিক হিসবে যে আখ্যা দেওয়া হয়ছিল, তা থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের আলোকে একটি নীতিমালা তৈরি করা দরকার। প্রত্যেক কর্মীকেই নিয়োগপত্র দেওয়া উচিত।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘টেলিভিশন শিল্পের সমস্যা অনেক দিনের পু্ঞ্জীভূত সমস্যা। এরইমধ্যে টেলিভিশন শিল্পের অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। যেমন-টেলিভিশনের ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলে চলে যাচ্ছিল। বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে যে কোনো বিজ্ঞাপন দেখানো আইনসম্মত নয়।’

তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ আরও বলেন, ‘যারা বিদেশি চ্যানেল ডাউনলিংকের পারমিশন পেয়েছে তাদের অনেকবার আমরা হুঁশিয়ার করেছি। বাংলাদেশের যে বিজ্ঞাপনগুলো বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে চলে যাচ্ছিলে সেগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের কয়েকটি কোম্পানির আবার ভারতের নিবন্ধিত কোম্পানি। ভারতেও তাদের কারখানা রয়েছে। ভরতের রেজিস্ট্রার্ড কোম্পানি যখন বিজ্ঞাপন দেয় সেটি আমাদের আইনে আওতায় পড়ে না। এখানে কিছু জটিলতা রয়েছে। এরপরও আমরা ব্যাখ্যা চেয়েছি। অর্থাৎ বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশি চ্যালেনের মাধ্যমে দেশে বিজ্ঞাপন প্রচার কিছুটা কমেছে বন্ধ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারেও নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করার চিন্তা-ভাবনা করাছি। তবে এক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে সম্প্রচার মাধ্যম এখনা ডিজিটাল হয়নি। এটি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অন্তরায়। সম্প্রচার মাধ্যমে ডিজিটাল করার জন্য আমরা কাজ করছি।’

মতবিনিময় সভায় সারাবাংলা ডটনেট ও জিটিভির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাঠামো নেই। মালিকদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো এটি একটি ব্যবসা। তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সুযোগ থাকলেও কিন্তু এখানে কোনো গ্রাচ্যুটি বা বেতন বৃদ্ধি নেই। গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন হয় না কিংবা বেতন বন্ধ থাকে তবুও কি অনুষ্ঠান বন্ধ থাকে? সংবাদ বন্ধ থাকে? সন্তানকে দুধ দিতে না পেরে, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখেও আমাদের কর্মীরা অফিস করে বেতন না পেলেও। তার এই ডেডিকেশনের মূল্য কখনও পায় না, বিশেষ করে টেলিভিশন সাংবাদিকরা।’

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষিত সরকার ক্ষমতায়, উদার-অসাম্প্রদায়িক সরকার ক্ষমতায়, কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যম আজকে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। কিন্তু কী কারণে তারা কেন উদ্যোগ নেননি এই জায়গায়, সেটাও কিন্তু আমাদের জিজ্ঞাসার ব্যাপার। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর একটি কমিটি করে দেওয়া হলো, অনলাইনের জন্য নীতিমালা করতে কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই অনলাইনের নীতিমালা হয়নি। ২০১০ সাল থেকে চেষ্টা করে ব্রডক্রাস্ট সম্প্রচার আইন করা হয়েছে, ড্রাফট দেওয়া হয়েছে, সেটি আসেনি। গণমাধ্যম কর্মী আইন সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও হয়নি।’

সারাবাংলার এডিটর ইন চিফ আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে আজ উন্নয়নের স্পৃহা জেগেছে শেখ হাসিনার সরকারের কারণে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে। এ উন্নয়নের বার্তা আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিই, বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিই। কিন্তু বাংলাদেশের মিডিয়ার কোনো পরিবর্তন নেই, উন্নয়ন নেই। আজকে যদি মিডিয়াকে শুধুমাত্র লাভ-ক্ষতির বিচারে দেখা হয়, তাহলে আমি বলবো বাংলাদেশের মিডিয়া না থাকাই ভালো। যে মালিক তার সমস্ত ব্যবসার প্রোটেকশন দেয়, সুরক্ষা নেয় মিডিয়ার মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যবহার করে, সেই গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো সুরক্ষা নেই। আমরা মনে হয়, তাদের আত্ম জিজ্ঞাসার সময় এসেছে তারা কোন পথে হাঁটবেন?’

এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা বলেন, ‘টিআরপির টাইমিংয়ে অনেক বেশি সংকটে আছি। বিকেল ৫টার পর কারও ঘরে বাংলাদেশি কোনো চ্যানেল চলে না। কারণ বিভিন্ন সিরিয়াল শুরু হয়ে যায়। নিউজ চ্যানেলের প্রাইম টাইমে হস্তক্ষেপ চাই। চ্যানেলের কন্টেন্টে এত বৈষম্য নেই, রেটের ব্যাপারে সাম্য চাই। মিনিমাম রেট ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা উচিত। বিজ্ঞাপন কতক্ষণ চালাতে পারব তাও নির্ধারণ করা উচিত। ন্যূনতম বিজ্ঞাপন রেট অন্তত ১০ হাজার টাকা করার দাবি করছি।’

একাত্তর টিভির সিইও মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘দেশে অহেতুক চ্যানেল বাড়িয়ে লাভ নেই। চ্যানেলগুলো পরিচালনার জন্য সঠিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রীয় প্রোটেকশন দিতে হবে। বর্তমানে যে বাজার রয়েছে সেই পরিস্থিতিতেও সবকটি চ্যানেল উইন উইন সিচুয়েশনে থাকতে পারে। সে জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

ব্রডক্রাস্ট জার্নালিস্টের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক রাজা বলেন, ‘ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে মালিকদের সরকারের চাপ দেওয়া উচিত। গণমাধ্যমকর্মী আইন বাস্তবায়ন হলে আমাদের অনেক অধিকার রক্ষা পাবে।’

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমপক্ষে ১৮টি চ্যানেলে ২ থেকে ৫ বছর ধরে ইনক্রিমেন্ট বন্ধ। এক থেকে তিন মাসের বকেয়া আছে ৮ থেকে ১০টি চ্যানেলে। ছয় মাসের বকেয়া আছে দুটি চ্যানেল। গত এক বছরে কমপক্ষে ৯ টি চ্যানেল থেকে জনবল ছাটাই করা হয়েছে। বার্তা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১ টি চ্যানেলে। ৩০টি টিভি চ্যানেলের ২৮টিতে নেই গ্রাচুইটি, ২৫টিতে নেই প্রভিডেন্ট ফান্ড। বিজ্ঞাপনের বড় একটি অংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সভাপতি মোল্লা জালাল, ডেইলি অবজারবারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, একাত্তর টিভির হেড অব কন্টেন্ট নূর সাফা জুলহাজসহ অন্যরা।

সূত্র : সারাবাংলা

250
৩৩৩ কল সেন্টারের মাধ্যমে ডিএনসিসির সেবা হটলাইনের উদ্বোধন

Development by: webnewsdesign.com