জনপ্রিয় সংবাদ

x



ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট-১৯

শিকড় ছোঁয়া মূর্ছনায় মাতবে আজ সবাই

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৮:৩৯ পিএম | 22 বার

শিকড় ছোঁয়া মূর্ছনায় মাতবে আজ সবাই
শিকড় ছোঁয়া মূর্ছনায় মাতবে আজ সবাই

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯’। পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত শিকড় সন্ধানী গানের উৎসবে ঢাকায় এসেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান শিল্পী ও সংগীতসাধকরা ।

শোণিতধারায় যে সুরের স্রোত বহমান, হাজার বছরেও যার আবেদন ম্লান হয়নি, সেই লোকসংগীত নিয়ে পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯’ । বর্ণাঢ্য এই উৎসব উপলক্ষে ঢাকায় এসেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান শিল্পী ও সংগীতসাধকরা। তাদের লক্ষ্য নিজ নিজ লোকসুরের সুধা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া। গানে গানে শিকড়ের নির্যাস তুলে ধরতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯’।



ইট-কাঠের এই ঢাকা শহরে আজ থেকে আবারও শুরু হচ্ছে লোকসংগীত উৎসব। যেখানে শিকড়ের সুর-মূর্ছনায় ডুব দিতে ছুটে আসবেন অগণিত সংগীতপ্রেমী। বিকেল থেকে তাই লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে ঢাকা আর্মি স্টেডিয়াম। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা এসব মানুষের চাওয়া একটাই, লোকসুরের মূর্ছনায় শিকড়ের স্পর্শ পাওয়া। এ কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বিগত চার বছরের ইতিহাস ঘেঁটে এটাই সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত এই উৎসবে গানপাগল মানুষগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হবে- তা অনুমান করা কঠিন নয়। কেন এই উৎসব নিয়ে মানুষের এত মাতামাতি? এর প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায়, বাউল, বৈষ্ণব, সাধকের সুরে মোড়া কথাগুলো তাই আজও আমাদের প্রতিনিয়ত শুধু বিনোদন নয়, কাঁদায়-হাসায় এবং যাপিতজীবন ও সৃষ্টিরহস্য নিয়ে ভাবিয়ে তোলে।

শিকড়কে চেনা ও জানার স্পৃহা বাড়িয়ে দেয়। এ জন‌্যই হয়তো লোকগানের আবেদন হাজার বছরেও এতটুকু ম্লান হয়ে যায়নি। বরং ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, মুর্শির্দি, জারি, সারি, আর বাউল মাহাত্ম্য দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে এর বিশ্ব মানচিত্রের আনাচে-কানাচে। এই গানে মিশে থাকা মানবতাবাদ এবং সহজ জীবনদর্শনের আগ্রহী করে তুলেছে বিভিন্ন দেশের গানপাগল মানুষকে।

যার পরিপ্রেক্ষিতে লোকগান ও এর শিল্পী এবং সাধকদের নিয়ে রীতিমতো গবেষণাও শুরু হয়েছে। মূলত লোকগানের প্রবল শক্তি আমাদের পরিচিত করে তুলছে বহির্বিশ্বে। এ কারণেই ইউনেস্কো ২০০৫ সালে বাউল গানকে ইন্টেনজিবল হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতকাল পরও লোকগান নিয়ে এই যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম আচ্ছন্ন হয়ে আছে, এর শক্তি আসলে কোথায়? এ প্রশ্ন করতেই কণ্ঠশিল্পী চন্দনা মজুমদার বলেন, ‘লোকগান হলো অনেকটা দর্পণের মতো, যার কথা ও সুর নিজেকে চেনার এবং গহিনে লুকিয়ে থাকা আপন মানুষটিকে সঠিকভাবে জানার সুযোগ করে দেয়। এর সুরে আছে মাটির সুবাস। রূপবদলের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির যে পালাবদল হয়, তেমনই বৈচিত্র্যপূর্ণ লোকগানের বিভিন্ন ধারা। তাই বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, জারিসহ প্রতিটি লোকগানেই আছে নানা রসের মিশ্রণ। এটাই লোকগানের শক্তি। এ কারণেই শিকড় চিনিয়ে দেওয়া এই গান সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছে একেকটি জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।’ চন্দনা মজুমদারের এ কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অনেকে। কণ্ঠশিল্পী শাহ আলম সরকারের কথায়, ‘কেউ যখন লোকগান শোনেন, তখন মনের গহিন থেকে এক ধরনের আত্মিক টান অনুভব করেন। মনে হতে পারে সাদাসিধে কথা, কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, এই গানের গহিনে মিশে আছে যাপিতজীবনের বাস্তব কিছু দৃশ্যপট। সুরেও পাবেন প্রকৃতির নির্যাস। তাই তো এই গানের প্রেমে পড়া শুধু সময়ের ব্যাপার। লোকগানের কথা-সুর আর বাউল সাধকদের গায়কি দর্শককে যেমন মুগ্ধ করবে, তেমনি ভাবনার অতলেও ডুবিয়ে দেবে- অন্তত আমার অভিজ্ঞতা এ কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি।’ চন্দনা মজুমদার ও শাহ আলম সরকারের এই মত নিয়ে কারও কোনো দ্বিধা থাকবে বলে মনে হয় না। কেন না, তাদের এই মতের সঙ্গে মিলে যায় অন্য বাউল সাধকদের কথাও। যাদের কথায় স্পষ্ট, এ কেবল গান নয়, এ সুরের মোড়কে বন্দি এক জীবনদর্শন। এর অপূর্ব সুরে আর কথায় আত্মা হয় পরিশুদ্ধ। যে কারণে লোকগান হয়ে উঠেছে চিরকালের।

পঞ্চমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯’ উৎসব নিয়ে আয়োজকদের ভাষ্য, নতুন প্রজন্মকে লোকসংগীতে আগ্রহী করে তুলতেই তাদের এই ধারাবাহিক আয়োজন। যে সংগীত শতাব্দীর পর শতাব্দী বাংলার মানুষের জীবনধারার সঙ্গে মিশে আছে, তার সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণাও তৈরি করে দেওয়া তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের লোকসংগীতের ধরন, চর্চা এবং তাদের পরিবেশন ভঙ্গি সম্পর্কেও এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা জানাতে চান। আর এটা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, গত চার বছরে অগণিত সংগীতপ্রেমী ও তরুণ শিল্পীদের মধ্যে লোকগান দারুণভাবে সাড়া ফেলেছে। অন্তত যারা লোকগান নিয়ে আলাদা করে কোনো গান করত না, তারাও মেতে উঠেছে এই সংগীত নিয়ে। এতেই প্রমাণ হয়, লোকগান হলো আমাদের মন, প্রাণ ও অন্তরের গান। লোকগানই হবে বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের সংস্কৃৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার নতুন উপলক্ষ। এই বাস্তবতা ও অনুপ্রেরণা থেকেই স্কয়ার, মাছরাঙা টেলিভিশন ও সান ফাউন্ডেশনের পঞ্চমবারের মতো এই উৎসবের আয়োজন করেছে।

গত চার বছর ধরে যে উৎসব দর্শক-শ্রোতার মাঝে সাড়া ফেলেছে, তার পঞ্চম আয়োজন জমকালো হবে- এটাও মনে করছেন অনেকে। কী থাকছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্টের এবারের আয়োজনে এবং অংশগ্রহণকারী কে বা কারা, এবার তার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯’-এর উদ্বোধনী আয়োজন শুরু হবে দেশের স্বনামধন্য নৃত্যশিল্পী শামীমা হোসাইন প্রেমার নৃত্যদল ‘ভাবনা’র পরিবেশনা দিয়ে। উৎসবে দলটি ধামইলসহ লোক ঘরানার নৃত্য পরিবেশন করবে। ২০০৭ সালে শুদ্ধ নৃত্যচর্চায় বিশ্বাসী ভাবনা নৃত্যদলের আবির্ভাব হয় দেশে। শুরু থেকেই দলটি মঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সৃষ্টিকর্ম নৃত্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে চেয়েছে। পাশাপাশি ঐহিত্যবাহী লোকনৃত্যের পরিবেশনা দিয়ে মনোযোগ কেড়েছে দর্শকদের। এরই মধ্যে দলটি ‘ভানুসিংহের পদাবলি’, ‘পাপমোচন’, ‘শকুন্তলা’সহ বেশ কিছু নৃত্য প্রযোজনা দিয়ে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দলটি ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্টে’-এ অংশ নিচ্ছে। ভাবনা নৃত্যদলের পরেই মঞ্চে উঠবে জর্জিয়ান ফোক ব্যান্ড শেভেনেবুরেবি। এ দলটি জর্জিয়ান লোকসংগীতকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ২০০১ সালে গঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের লোক বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে দলটি ভিন্নধর্মী সংগীতায়োজন করে আসছে। গান করার পাশাপাশি দলটি জর্জিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকগান সংগ্রহ করে থাকে।

ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পারফর্ম করা এই ব্যান্ড এবারই প্রথম ঢাকায় লোকসংগীত উৎসবে পারফর্ম করবে। জর্জিয়ান এই দলের পাশাপাশি দেশের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী শাহ আলম সরকারের পরিবেশনা থাকছে আজ উৎসবের প্রথম দিনে। যিনি বাউল সংগীতকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে কয়েক দশক ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ছয় শতাধিক লোকগানের অ্যালবাম প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন আসরে পালাগান করে আসছেন শাহ আলম সরকার। এবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্টে তার সঙ্গে একই মঞ্চে আজ গাইবেন ভারতের ‘দ্য কিং অব ভাঙড়া’খ্যাত কণ্ঠশিল্পী দালের মেহেন্দি। অ্যালবামের পাশাপাশি প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় তিনি। ‘বলো তারা রা রা’, ‘তিনাক তিন তা না না’, ‘রঙ দে বাসন্তী’সহ অগণিত জনপ্রিয় গানের এই শিল্পী এই প্রথম ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯’-এ অংশ নিচ্ছেন। আজ রাতের শেষ শিল্পী হিসেবে তিনি মঞ্চে উঠবেন।

‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’-এর দ্বিতীয় দিনের আয়োজন শুরু হবে রিয়েলিটি শো ‘বাউলিয়ানা’র আলোচিত তরুণ কণ্ঠশিল্পী কামরুজ্জামান রাব্বি ও শকিকুল ইসলামের পরিবেশনা দিয়ে। যারা দেশের বড় বড় মঞ্চে লোকগান গেয়ে এরইমধ্যে দর্শক মনোযোগ কেড়েছেন। তাদের পরেই মঞ্চে উঠবেন বাউল কাজল দেওয়ান। মাতাল কবি আব্দুর রাজ্জাকের এই শিষ্য এ পর্যন্ত তিন শতাধিক লোকসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে বাউল ও পালাগান গেয়ে পেয়েছেন অগণিত শ্রোতার ভালোবাসা। আজ কাজল দেওয়ানের পর মঞ্চে উঠবেন পাকিস্তানের সুফি ঘরানার নন্দিত কণ্ঠশিল্পী হিনা নাসরুল্লাহ। উর্দু, সিন্ধি ও সারাইকি ভাষার সুফি গান গেয়ে এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংগীতপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯’-এ প্রথম পারফর্ম করতে ঢাকা সফরে এসেছেন হিনা। আগামীকাল সুফি ঘরানার বেশ জনপ্রিয় গান শোনাবেন তিনি। তার পরিবেশনা শেষ হলে মঞ্চে উঠবেন বাউল ও সুফি গানের কণ্ঠশিল্পী ফকির শাহাবুদ্দিন। যিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাউল গান গেয়ে অগণিত দর্শক-শ্রোতার মনোযোগ কেড়েছেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাউল গান নিয়ে নিরলস গবেষণা চালিয়ে গেছেন, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। দেশের নানা প্রান্ত ঘুরে এরই মধ্যে তিনি পঁয়তাল্লিশ হাজারেরও বেশি বাউল গান সংগ্রহ করেছেন। সেখান থেকে নির্বাচিত কিছু গান থাকছে তার আগামীকালের পরিবেশনায়। দ্বিতীয় দিনের শেষ পরিবেশনা থাকছে মালির লোকসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী বলা হয় হাবিব কইটের গান। ব্যান্ড বামাদার সঙ্গে এটাই হবে ঢাকার মঞ্চে তার প্রথম পরিবেশনা।

তৃতীয় ও শেষ দিনের আয়োজনে প্রথমে মঞ্চে উঠবেন কাওয়ালি গানের সাড়া জাগানো কণ্ঠশিল্পী মালেক দেওয়ান। তিনি বিশ্বাস করেন, কাওয়ালি গানের মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বব্যাপী। সেই বিশ্বাস নিয়েই টুনু কাওয়ালের এই শিষ্য উৎসবের শেষ দিন কাওয়ালির পাশাপাশি পরিবেশন করবেন মাইজভাণ্ডারি গান। মালেক দেওয়ানের পর মঞ্চে উঠবে রাশিয়ার করেলিয়া অঞ্চলের আলোচিত ব্যান্ড সাত্তুমা। নিউ ফোক ঘরানার এই ব্যান্ডটি এরই মধ্যে রাশিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, এস্তোনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সংগীত পরিবেশন করে দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রথম ঢাকার মঞ্চে সংগীত পরিবেশনের জন্য তারা নির্বাচন করেছেন নিজ দেশের জনপ্রিয় লোকগানগুলো। সাত্তুমার পর মঞ্চে উঠবেন দেশের লোকগানের নন্দিত কণ্ঠশিল্পী চন্দনা মজুমদার। মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন ছাড়াও চলচ্চিত্রে নিয়মিত গান করেন তিনি। ২০০৯ সালে শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। লালন শাহ, হাছন রাজা, রাধারমণ, শাহ আবদুল করিমসহ বিভিন্ন গীতিকবির গান গেয়ে জয় করেছেন অগণিত সংগীতপ্রেমীর হৃদয়। এর আগেও লোকসংগীত উৎসবে গান গেয়ে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। তার পরিবেশনা শেষে উৎসবের সমাপ্তি টানতে মঞ্চে উঠবে উপমহাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড জুনুন। পাকিস্তানি এই ব্যান্ড এর আগেও একাধিকবার বাংলাদেশ সফরে এসেছে। এবারের সফরটি তাদের কাছে অন্যরকম। কেননা এ দলটি এবার সুফির সঙ্গে রক ফিউশনের পরিবেশনা তুলে ধরবে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্টের মঞ্চে। আরও কিছু ভিন্নধর্মী সুফি গানের পরিবেশনা তুলে ধরতেই তাদের এবারের ঢাকা সফর।

উৎসব আয়োজন ও শিল্পীদের তালিকা দেখে অনুমান করে নেওয়া যায়, বিগত বছরের মতো এবারও উৎসবটি সফল হবে। জনপ্রিয় শিল্পীদের উপস্থিতির জন্য যতটা না সাড়া জাগাবে, তারচেয়ে বেশি শ্রোতার মনোযোগ কাড়বে এ আয়োজন মাটির গানের- এই মত সংগীতপ্রেমীদের। যাদের বিশ্বাস, শিকড় সুধার জন্য দিন দিন মানুষের তৃষ্ণা বেড়েই চলেছে। ধীরে ধীরে নতুন প্রজন্মের অনেকে জেনে গেছে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কতটা সমৃদ্ধ। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিজ দেশের লোকগানের পার্থক্যটাও ধরিয়ে দিচ্ছে এই লোকসংগীত উৎসব। আরও একবার তাই লোকগানের মূর্ছনায় দেশবাসী মেতে উঠবে- তা ধরে নেওয়াই যায়।

250

Development by: webnewsdesign.com