মঙ্গলবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

লালমনিরহাট পাউবো’র কাণ্ড, বালির পরিবর্তে মাটি কেটে জিও ব্যাগ ভরাট

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট

লালমনিরহাট পাউবো’র কাণ্ড, বালির পরিবর্তে মাটি কেটে জিও ব্যাগ ভরাট

তীব্র তিস্তার ভাঙন। আতঙ্কে কয়েক হাজার পরিবার। জরুরি ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ পাউবো’র। তবে অভিযোগ জিও ব্যাগে বালির পরিবর্তে ভরাট করছে মাটি। তাও নদী ভাঙা পরিবারের ভিটে মাটি ক্ষেত কেটে। শুধু ভিটে-মাটি কেটে জিও ব্যাগ ভরাট নয়, নদীর ধারে কৃষকের জমির মাটিও কাটা হয়েছে।

এই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে। জরুরি ভাঙন রোধের নামে পাউবো’র লুটপাট কয়েক লক্ষাধিক টাকা। জিও ব্যাগ ভরাটে অনিয়ম দুর্নীতিতে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

কাজের ঠিকাদার কে তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনিও জানান, ঠিকাদার তিনজন, কিন্তু তাদের নাম জানা নাই।

সরেজমিনে লালমনিরহাট সদরের খুনিয়াগাছ চোঙ্গাদ্বারা ও দিঘলটারী হিন্দু পল্লী গেলে দেখা যায় তাদের অনিয়মের চিত্র।

জানা গেছে, সম্প্রতি তিস্তায় বন্যা দেখা দেয়। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। লালমনিরহাট সদরের খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে চোঙ্গাদ্বারা ও দিঘলটারী হিন্দু পল্লীতে দেখা দেয় ভাঙন। দুই কিলোমিটার ভাঙনরোধে পাউবো জিও ব্যাগ ফেলে ভরাট করে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তও নেয়। জিও ব্যাগে বালি ভরাট করে ফেলার জন্য জরুরিভাবে টেন্ডার পায় ৩ জন ঠিকাদার। প্রাথমিক ভাবে ৮ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার বরাদ্দ হয়। প্রতি বস্তা ৫শ’ টাকা। কিন্তু জিও ব্যাগে বালির পরিবর্তে করছে মাটি ভরাট।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, নদী ভাঙনে শিকার মানুষের শেষ সম্বল বসত-ভিটে, কৃষি জমি ও নদীর পাড় কেটে ভরাট করছে পাউবো’র জিও ব্যাগ।

চোঙ্গাদ্বারা গ্রামের আনছার আলী জানান, তার বসত-ভিটে অর্ধেক নদীতে গেছে বাকি অর্ধেকও মাটি কেটে জিও ভরাট করছে পাউবো’র লোকজন। বাধা দিলেও মানছে না তারা।

দিঘলটারীর হিন্দু পল্লীর মিনতি বালার চোখের জল পড়ছে তবু বলছে স্বামীর ভিটের মাটি কাটপার নাগছে বাধা দেই তাও মানে না।

এলাকাবাসী জানান, আমাদের জমি ভাঙন রক্ষায় জিও ব্যাগ নদী ভাঙনরোধ করবে কিন্তু বলি না দিয়ে তার পরিবর্তে আমাদের জমি-বসত ভিটে কেটে জিও ভরাট করে কাজ করছে। তাহলে বালির টাকা যাবে কার পকেটে।
খুনিয়াগাছ ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাদল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশে বালি না থাকায় বালি তোলা সমস্যার কারণে মাটি কেটে জিও ভরাট করছে।

টিআইবির সনাক এর পক্ষ থেকে ডা. আশিক ইকবাল জানান, মানুষের ক্ষতি করলো তিস্তার ভাঙন। তার উপর পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসত ভিটে কেটে জিও পূরণ করছে। তাহলে বালুর টাকা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, নদী থেকে বালি উত্তোলনের সমস্যার কারণে মাটি কেটে আপাতত জিও ব্যাগ ভরাট করে ফেলা হচ্ছে।

অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড উত্তরাঞ্চল প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ আমিরুল হক ভূঁইয়া জানান, জিও ব্যাগ মাটি দিয়ে ভরাট করে নদীতে ফেলার নিয়ম নেই, বালি দিয়ে ভরাট করে নদীতে ফেলতে হবে। যদি এ রকম ঘটনা ঘটে তা হলে খতিয়ে দেখা হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

dhakanewsexpress.com |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
মোঃ মাসুদ রানা হানিফ সম্পাদক