জনপ্রিয় সংবাদ

x



রাবির দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলো আসলে কী ?

বুধবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১:১৩ এএম | 145 বার

রাবির দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলো আসলে কী ?
রাবির দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলো আসলে কী ?

রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অনেক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরাই স্থাপনাগুলো দেখে পরিকল্পিত ফুলের ব্যালকনি বা বারান্দা ভেবে ভুল করে বসেন। নান্দনিক ডিজাইনের রং ও স্টেইনলেস স্টিলের রেলিং দিয়ে ঘেরা পরিচ্ছন্ন ফুলের ব্যালকনি ছাড়া এটি আর কিছুই মনে হওয়ার অবকাশ রাখে না। কৌতূহলবসত অনেকেই জানতে চান যে এই ছোট ছোট স্থাপনাগুলো আসলে কী? শুনে অবাক হতে হয় যে, এটি আসলে আবর্জনা ফেলার স্থান, অর্থাৎ ডাস্টবিন। আবর্জনা ফেলার এই স্থাপনাগুলো সুন্দর মন্তব্য বা প্রশংসা আসে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে​ে
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ। তারই অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে নতুন করে স্থায়ী এসব ডাস্টবিন। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন রাখতে বিভিন্ন প্রকার ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়। এ সকল প্রচেষ্টা প্রথম দিকে আলোর মুখ দেখালেও সচেতনার অভাবে শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বিভিন্নস্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগ, ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে এসব ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ থেকে ৪ রকমের ডাস্টবিন রয়েছে। এরপরেও নিজেদের সচেতনার অভাবে যত্রতত্র ময়লা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের পিছনে, ২য় বিজ্ঞান ভবনের পার্শ্বে, ৩য় বিজ্ঞান ভবনের দুই পার্শ্বে ২টি, ক্যাফেটেরিয়ার সামনে ও বিভিন্ন হলের ভিতরে স্থায়ী ডাস্টবিন তৈরি করা হয়েছে। স্থায়ী ডাস্টবিন ছাড়াও আবর্জনা ফেলার জন্য বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবন ও প্রশাসন ভবনের ভিতরে অস্থায়ী ডাস্টবিনে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া রাস্তার পার্শ্বে ও গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে ঝুলন্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পথচারীদের ময়লা ফেলার জন্য এ ঝুলন্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।



অন্যদিকে, এসব ডাস্টবিনের ময়লা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য স্থায়ীভাবে ২১টি ডাস্টবিন তৈরি করা হয়েছে। এসব ডাস্টবিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণস্থানে স্থাপন করা হয়েছে। যাতে করে ময়লা আবর্জনা এই ডাস্টবিনে জমা করা হয়। এরপরে সেখান থেকে গাড়িতে করে আবর্জনা বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জিনাত পারভিন বৃষ্টি বলেন, আমাদের থাকার কক্ষটা যেভাবে পরিষ্কার রাখি, বাড়ি পরিষ্কার রাখি তেমনি করে এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও আমাদেরই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে দুষণমুক্ত রাখতে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তৈরি করতে হবে সচেতনতা। চাইলেই আমরা পারি, বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার রাখতে। আর সেজন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না আমাদেরকে। আমাদের সবাইকে সচেতনতার জায়গা থেকে ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্টস্থানে ফেলতে হবে। তবে ক্যাম্পাসের ভিতরে যে খাবারের দোকানগুলো রয়েছে তার অধিকাংশই আবর্জনা নির্দিষ্টস্থানে না ফেলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামান মিলন জানান, আমরা প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি তখন বিভিন্নস্থানে ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যেত। ফলে অনেক সময় একটু বৃষ্টি হলে দুর্গন্ধ ছড়াতো। এই ডাস্টবিন স্থাপনের পরে কিছুটা কমে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আদলে এসব ডাস্টবিন তৈরি করা হয়। ডাস্টবিন প্রতি ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে ২১টি ডাস্টবিন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আরো কয়েকটা তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতনার অভাবে ডাস্টবিনে ব্যবহার না হওয়ার ফলে প্রশাসনের এ প্রচেষ্ট অনেকটাই মলিন হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বিভিন্নস্থানে অনেক সময় ময়লার স্তূপ জমে থাকতে দেখা যায় । এমন কী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ব্যস্ততম টুকিটাকি চত্বরেও ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমে থাকতে দেখা যায়।
এ ব্যাপারে উপ-উপাচার্য আনান্দ কুমার সাহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বিভিন্ন প্রকার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্নস্থানে ডাস্টবিন ও রাস্তার ধারে ঝুলন্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার রাখার জন্য সবার আগে প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। আর সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মচারীদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। যাতে উচ্ছিষ্ট যত্রতত্র ভাবে না ফেলে নিদিষ্ট স্থান অর্থাৎ ডাস্টবিন ব্যবহার করে ময়লা ফেলার জন্য। আর সেটা সম্ভব হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি সৌন্দর্যও অনেক বৃদ্ধি পাবে

250

Development by: webnewsdesign.com