জনপ্রিয় সংবাদ

x



মৌজা বদল ও জাল দলিলে জমি আত্মসাৎ ! জড়িত দুই সাংবাদিক

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১২:১৬ অপরাহ্ণ | 85 বার

মৌজা বদল ও জাল দলিলে জমি আত্মসাৎ ! জড়িত দুই সাংবাদিক
সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকার নুরুদ্দিন ভুইয়ার ছেলে হাসানুর রশিদ ভৃইয়া সহ অন‌্যান‌্যরা । ইনসেটে ফিরোজ ও টুটুল

গাজীপুরে মৌজা বদল করে জাল দলিলের মাধ্যমে একটি পরিবারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আত্মসাৎ করা জমি উদ্ধারসহ জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার সকালে সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূমির প্রকৃত মালিক দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকার নুরুদ্দিন ভুইয়ার ছেলে হাসানুর রশিদ ভৃইয়া।

নিজ বাসায় এতে তার ভাই জিলানুর রশীদ ভুইয়া, বোন উম্মে আরা, ইসমত আরাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, পাট্টা দলিলসহ এসএ ও আরএস রেকর্ডমূলে গাজীপুরের জয়দেবপুর মৌজার দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকার ৫টি দাগে ৩৪৫ শতাংশ জমির রেকর্ডিয় মালিক তার মা জাহানারা বেগম। মা মারা যাওয়ায় তারা ভাই-বোনেরা মালিক হয়। কিছু বুঝে উঠার আগে ২০১৬ সালের ১৫ জানুয়ারি সকালে জেলা শহরের রথখালা এলাকার মো. ইউনুস মিয়া (৬৫), পশ্চিম জয়দেবপুরের হরিদাস সাহা (৪৮), ভুরুলিয়ার এম এ ফিরোজ ও পূর্ব চান্দনা এলাকার লতিফ সরকারসহ (দুজন সাংবাদিক) অচেনা কিছু লোক এসে ১৮৭ শতাংশ জমি ক্রয়সুত্রে মো. ইউনুস মিয়া মালিক দাবি করে প্লট ও স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে।

পরে কাগজপত্র সংগ্রহ করে দেখেন দখল করা জয়দেবপুর মৌজার দলিল নম্বর ৩২২/৬৬ ও ৮৮৮৪/৬৮ । দাতা হাসানুরের মা জাহানারা বেগমসহ আরও তিনজন গ্রহীতা মো. ইউনুস মিয়া। এসময় ভূমি সংশ্লিষ্ঠ অফিস ও কাগজপত্র সংগ্রহ করে তারা বুঝতে পারেন দখল নেওয়া জমির দেখানো দলিল দুটি জাল দলিল।

জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ওই ৪ জনের নামে ও অচেনা ৭-৮ জনকে আসামি করে গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় হাসানুর বাদী হয়ে মামলা নং ৫৯(৭)১৯ দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ৫ আগস্ট গাজীপুর জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুর সদর সাব রেজিস্টার সাব কবলা দলিলের মৌজা হাড়িনাল, এসএ ৯৯ দাগের ৯শতাংশ জমি, দাতা মোন্তাজদ্দিন ১১ নম্বর বালাম বইয়ের ৩ থেকে ৪ নম্বর পৃষ্ঠায় এবং ১৯৬৮ সালে ৮৮৮৪ নম্বর দলিলের দাতা আবুল হাসেম খাঁ, দলিলটি ৮২ নম্বর বালাম বইয়ের ২৭৯ হতে ২৮০ পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ ছিল। যা ক্ষতিগ্রস্থ বা পাতা ছেঁড়া অবস্থায় আছে বিধায় সহি মোহর নকল সরবরাহ করার সুযোগ নাই।

হাড়িনাল মৌজার ৯শতাংশ জমির দলিলের ফটোকপিতে মৌজা জয়দেবপুর ও দাতা জাহানারা ও গ্রহীতা মো. ইউনুস মিয়া, জমির পরিমাণ ১৮৭ শতাংশ বসানো জাল দলিলে ২০১২-১৩ সালে ইউনুসের নামে জোত নম্বর ৯৩৭৭ এবং ৯৫৭১ খোলে। পরে একাধিক আম মোক্তার ও সাফ কবলা দলিল, নামজারি ও জোতসৃষ্টি করে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা।

গণমাধ্যমে জমি জবর দখলসহ সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিসের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে ইউনুস মিয়ার বিরুদ্ধে বিবিধ মোকদ্দমা নম্বর ১০/১৬ দায়ের করে তার জোত দুটি বাতিল করে। কিন্তু চক্রটি আমমোক্তার বলে সাবকবলা দলিল গ্রহীতাদের নামে বাতিল করা জোত থেকে নথির নম্বর ৮৬/১৭-১৮জোত নম্বর ১১৬৯২, নথি নম্বর ৩৭৬৪/১৬-১৭ জোত নম্বর ১১৯০৫, নথি নম্বর ৩৪৭০/১৬-১৭ জোত নম্বর ১১৮০৩ এবং নথি নম্বর ৩৪৫৯/১৬-১৭ জোত নম্বর ১১৭১৫ ভুক্ত হয়। পূর্বে বাতিল করা ৯৫৭১ নম্বর জোত থেকে প্রভাবশালী মো. কামাল হোসেন গয়রহ নামে নথি নম্বর ৩৯৩৫/১৮-১৯ মুলে জোত নম্বর ১০৮০৪ খুলে খাজনা পরিশোধ করে।

এদিকে হাসানুর তার মা জাহানারা বেগমের নামে খোলা জোতে খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে জানতে পারেন গাজীপুর পৌর ভূমি অফিসের ভলিয়ুমে জাহানারা বেগমের নামে খোলা পৃথক চারটি জোতের পাতা উধাও। জাল দলিলে নামজরি, বাতিল হওয়া নথি মুলে নামজারি ও জোত খোলাসহ সাব রেজিস্টার ও তহসিল অফিসের ভলিয়ুমের পাতা গায়েবের কর্মযজ্ঞে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

250
বাদলের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

Development by: webnewsdesign.com