সর্বশেষ সংবাদ

x


মুক্তিযুদ্ধের পরিবারটির অসহায়

মুক্তিযুদ্ধের ৫ সদস্য নিহত হলেও পরিবারটির অসহায়

সোমবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৫:২২ অপরাহ্ণ | 44 বার

মুক্তিযুদ্ধের ৫ সদস্য নিহত হলেও পরিবারটির অসহায়
মুক্তিযুদ্ধের ৫ সদস্য নিহত হলেও পরিবারটির অসহায়

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর বিমান হামলায় একই পরিবারের ৫ সদস্য নিহত হলেও পরিবারটির পাশে কেও দাড়ায়নি। সাহায্য বা স্বীকৃতি তো দুরের কথা খোঁজও নেয়নি কেও। এ ভাবে অবহেলায় কেটে যাচ্ছে মকছেদুর রহমানের পরিবারের। মোকছেদুর রহমানের বাড়ির ছিল মুক্তিবাহিনীর শক্ত ঘাটি। তাদের লুকিয়ে রাখা থেকে শুরু করে খাবারের জোগান দিতেন মোকছেদুর। ঘটনার দিনও দুপুরের খাবার পৌছে দিয়ে নিজ ঘরের বারান্দায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসেছিলেন। ভাবছিলেন রাতের খাবার কি হবে। এমন সময় হঠাৎ গিলাবাড়িয়া গ্রামের আকাশে শত্রুর বিমান। বিকট শব্দে পর পর বেশ কয়েকটি বোমা এসে পড়ে তার বাড়িতে। বোমায় মোকছেদুর রহমান তার স্ত্রী ছকিনা খুতনসহ তাদের তিন সন্তান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বেঁচে যান ১০ বছরের এক ছেলে মিজানুর রহমান ও ৮ বছরের এক মেয়ে চায়না খাতুন। গ্রামবাসিরা জানান, স্বাধীনতার পর স্বজন হারানো এতিম দুই শিশু অনেক কষ্ট করেই বড় হয়েছেন। বড় করে তুলেছেন তাদের সন্তানদের। পড়ালেখাও করিয়েছেন, কিন্তু স্বাধীন দেশে তাদের কর্মসংস্থান হয়নি। পায়নি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। আর এই স্বীকৃতির জন্য তাদের লড়াই করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে রিট দাখিল করেছেন, যা শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে। মোকছেদুর রহমান ছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গিলাবাড়িয়া গ্রামের ভয়মান জোয়ার্দ্দারের ছেলে। তিনি পেশায় ছিলেন আইনজীবী সহকারী। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর শত্রুর বোমা হামলায় মারা যান মোকছেদুর রহমান তার স্ত্রী ছকিনা খাতুন, তিন সন্তান তোতা মিয়া, পাতা মিয়া ও এক মেয়ে রানু খাতুন। আর বেঁচে যান বড় ছেলে মিজানুর রহমান (১০) ও ছকিনা খাতুন (৮)। মোকছেদুর রহমানের ভাতিজা শামছুর রহমান (৭০) জানান, স্বাধীনতার এতা বছর পার হলেও তাদের পাশে কেও দাড়ায়নি। সেদি বেঁচে যাওয়া মিজানুর রহমান জানান, ছোট বেলায় বাবা-মা, ভাই-বোন হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তাদের এক চাচী জয়গুন নেছা রান্না করে দিতেন, তাই খেয়ে বেঁচে ছিলেন। রাত হলেই ভয় নিয়ে ঘুমাতে হতো। অনেক দিন ঘরের মধ্যে দুই ভাই-বোন কান্নাকাটিও করেছেন। তিনি আরো বলেন, বাঁচার জন্য তিনি দর্জির কাজ শুরু করেন। এই দর্জির কাজ করেই জীবন চালিয়েছেন। এখন তার চার ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়েটি বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে শাহীনুর আলম একটি ফার্মেসীতে কাজ করেন। মেঝো ছেলে তুহিনুর আলম সিএ শেষ করে এখন বেকার। সেজো ছেলে তুষানুর আলম জগনাথ বিশ^বিদ্যালয় থেকে এমএ করে বেকার। ছোট ছেলে জুলফিকার আলী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে বিবিএ করে এখন বেকার। মিজানুর রহমানের দাবি তদ্বির ও টাকা দিতে না পারায় ছেলেদের চাকুরী হচ্ছে না। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের জন্য ২ হাজার করে টাকা অনুদান দেন। এই তাদের শেষ প্রাপ্তি। কিন্তু তারা শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি চান। এ জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ছুটেছেন। কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। যা বর্তমানে শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে। রিটকারীর আইনজীবি মোঃ মনিরুজ্জামান লিংকন জানান, তারা পরিবারটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি আদালতে চেয়ে আবেদন করেছেন। আশা করছেন শুনানী শেষে রায় তাদের পক্ষেই আসবে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার সিদ্দিক আহমেদ বলেন, স্বাধীনতায় পরিবারটির অবদান ছিল। স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বদরুদ্দোজা শুভ জানান, নতুন ভাবে তালিকাভুক্ত করার কোন চিঠিপত্র আসেনি। এ ধরনের কিছু আসলে অবশ্যই যথাযত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে, যা যাচাই বাচাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। হরিণাকুন্ডুতে বেধড়ক পিটানোর পর হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন কৃষক, পুলিশ বলছে তদন্ত করে ব্যবস্থা স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভায়না গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মসলেম উদ্দীন নামে এক কৃষককে বেধড়ক পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি ভায়না ইউনিয়নের ভায়না গ্রামের মৃত তসলেম উদ্দিনের সেজো ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কৃষক মসলেমের খেসারী ক্ষেত দেখতে যায়। এ সময় ভায়না গ্রামের কুঠি মাঠে আখের মন্ডলের ছেলে সেকম মন্ডল, তৈয়ব আলীর ছেলে আনিস, কোরবারসহ অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা মসলেমকে মারধর করে। আহত অবস্থায় তাকে হরিণাকুন্ডু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় হরিণাকুন্ড থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন আহত ব্যক্তির ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন। এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডু উপজেলার জোড়াদাহ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই মিঠু সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কারণে আসামী কোরবান ও অনিস আহত মসলেমের বড় ভাই মহসিন ও ভাতিজা সাদ্দাম হোসেনকে হুমকী দেওয়া হচ্ছে। শনিবার সকালে সাদ্দামের বড় চাচি রিজিয়া খাতুন ও তার মা রওশন আরাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর হুমকী দেয় আনিস ও কোরবান। হামলার আশংকায় পরিবারটি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আছে। এ ব্যাপারে শনিবার বিকালে সাদ্দাম হোসেন হরিণাকুন্ডু থানায় জিডি করতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেন ডিউটি অফিসার। ভায়না গ্রামের সেকম মন্ডল এ বিষয়ে মোবাইলে জানান, ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে মসলেম পড়ে গিয়ে সামান্য আঘাত লেগেছে। তবে চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে মসলেমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ সদর অফিস,

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
কর্মহীন ও অসহায়দের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক অপু

Development by: webnewsdesign.com