জনপ্রিয় সংবাদ

x

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসা ছাড়ার ব‌্যবস্থা

সোমবার, ০৫ আগস্ট ২০১৯ | ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ | 25 বার

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসা ছাড়ার ব‌্যবস্থা
ন‌্যাম ভবন

রাজধানীতে সংসদ সদস্যদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে সংসদের দক্ষিণ পাশে মানিক মিয়া এভিনিউতে রয়েছে ন্যাম ভবন । প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে নাখালপাড়াতেও রয়েছে এমপিদের আবাসনের ব্যবস্থা । সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর এ দুই জায়াগাতে সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থানায় তাদের বাসস্থানের ক​।

যতদিন সংসদ সদস্য থাকেন ততদিন এসব বাসায় থাকার অধিকার রাখেন এমপিরা। তবে যারা মন্ত্রিসভার সদস্য হন তখন তাদের জন্য মন্ত্রিপাড়ায় বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। মন্ত্রিপাড়ায় বাসা পেয়ে যাওয়ার পর এমপি হিসেবে পাওয়া বাসাটি ছেড়ে দিয়ে উঠতে হয় নতুন বাসায়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন করে বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু করেন চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী। এবারই প্রথম লটারির মাধ্যমে বাসা বরাদ্দ দেন তিনি। এতে করে তদবিরের সুযোগ বঞ্চিত হন অনেক এমপি। সাধারণত বড় বাসা আর ভালো বাসার জন্য অনেক সংসদ সদস্য তদবির করে থাকেন।

এমপিদের চাহিদার ভিত্তিতে সংসদ সচিবালয় থেকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার যেহেতু মন্ত্রিসভায় বেশিরভাগই নতুন মুখ তাই এমপি হিসেবে বাসা বরাদ্দ পাওয়া অনেককেই ন্যাম ভবনের বাসা ছেড়ে মন্ত্রিপাড়ায় যাওয়ার চিঠি দেওয়া হয়। তবে সংসদ সচিবালয় থেকে বাসা ছাড়ার জন্য কয়েক দফা নোটিশ দেওয়ার পরেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ গেছে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

সদ্য শেষ হওয়া তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিন অর্থাৎ ১১ জুলাই সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় নাম উল্লেখ না করে ন্যাম ভবনে বাসা দখল করে থাকা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের ভর্ৎসনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভায় সংসদ নেতা বাসা না ছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “ন্যাম ভবনের বাসা যদি এতই ভালো লাগে তাহলে মন্ত্রিপাড়ার বাসা ছেড়ে দিন, এখানে চলে আসুন। আর আপনাদের বাসা দেওয়া হয়েছে ড্রাইভার, পিয়ন, আত্মীয় থাকার জন্য না। বাসায় যারা থাকেন না তারা বাসা ছেড়ে দেন।”

কিছু দিন আগেও একটি অনলাইন নিউজপোর্টালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেই প্রতিবেদনের পর অনেকেই বাসা ছেড়ে দিলেও এখনও ন্যাম ভবনের বাসা দখলে রেখেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ৬ নম্বর ভবনের ৯০২ নম্বর ফ্ল্যাটটি এখনও নিজের দখলে রেখেছেন। অন্যদিকে মন্ত্রিপাড়ায় তার জন্য রয়েছে আরেকটি বাসা। মন্ত্রী হয়েও ন্যাম ভবনের বাসা দখলে রাখায় অন্য এমপিদের বাসা বরাদ্দ দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে সংসদ সচিবালয়। তার দখলে থাকা ১৮০০ বর্গফুটের বাসা সংসদকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বার বার ফোন করা হলেও দেব-দিচ্ছি করে সময় কাটাচ্ছেন বলে জানান এক কর্মকর্তা।

অন্যদিকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ মানিক মিয়া এভিনিউয়ের ২ নম্বর ভবনের নবম তলায় ১২৬০ বর্গফুটের বাসার পাশাপাশি তিনি সংসদ চত্বরের ভেতরে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া আরেকটি বাসায় থাকেন। সংসদ চত্বরের ভেতরে বাংলো বি-৬ নম্বরের বাসাটি গত ১ জুন বুঝে নেন প্রতিমন্ত্রী। তারপরেও ন্যাম ভবনের বাসাটি ছাড়েননি তিনি।

সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে শরিফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, কিছু জিনিসপত্র থাকায় এখনও যেতে পারিনি। তবে এ সপ্তাহে ছেড়ে দেব।

এদিকে বার বার বলার পরেও বাসা না ছাড়ায় গত সপ্তাহে তার ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের দখলে থাকা ৪ নম্বর ভবনের ৪০১ নম্বর ফ্ল্যাটেরও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা তাদের বার বার তাগিদ দিয়েছি। পরে চিফ হুইপের নির্দেশক্রমে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ছেড়ে যাবেন বলে কথা দিয়েছেন। তবে যেহেতু এখনও চাবি বুঝে পাইনি তাই ধরে নিচ্ছি তাদের দখলেই আছে।

Development by: webnewsdesign.com