জনপ্রিয় সংবাদ

x

বই পড়ার অজানা যত উপকারিতা

রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৬ | ১১:১১ পূর্বাহ্ণ | 401 বার

বই পড়ার অজানা যত উপকারিতা

বই পড়া নাকি খুব ভাল। বই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখে, অনুভূতিকে সতেজ রাখে এমন আরও অনেক উপকারের কথাই শোনা যায় বই পড়া নিয়ে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আসুন জেনে নিই সেই সব গবেষণার কথা যা আমাদের কাছে বই পড়ার প্রকৃত উপকারিতা প্রমাণ করে।

স্ট্রেস কমায়
প্রচন্ড মানসিক চাপে আছেন আপনি। কী করেন এমন সময়ে? কফি পান করেন বা একটু হেঁটে আসেন? সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, বই পড়া এরচেয়ে বেশী কার্যকর। গান শোনা, হাটাহাটি করা বা কফি পান করার চেয়ে বই পড়া দ্রুত স্ট্রেস কমায়, মনোযোগ ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়, ফ্রেশ অনুভূতি দেয়।

ইনসমনিয়া থেকে মুক্তি
এটা গবেষণায় প্রমাণিত যে বই পড়া আপনার ঘুম না হওয়ার সমস্যাকে স্বাভাবিক করে। অর্থাৎ আপনি যদি ইনসমনিয়ার রোগী হন তাহলে বই পড়াই আপনার রাতের ঘুম ফিরিয়ে দিতে সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।

মোবাইল ফোন বা টেলিভিশনের আলো মস্তিষ্কে সিগনাল পাঠায় যে এখন জেগে থাকতে হবে। বিপরীত দিকে হালকা আলোয় বই পড়া মস্তিষ্কে ঠিক উল্টো সিগনাল দেয়।

সহানুভুতিশীল করে
এমন কি কখনো হয়েছে কল্পকাহিনী পড়তে পড়তে এক সময় আপনার মনে হয়েছে আপনিও যেন গল্পের একটা অংশ হয়ে গেছেন? বই আমাদের মাঝে একটা আবেগের সম্পর্ক তৈরি করে। আমরা গল্পের সাথে সংযুক্ত বোধ করতে শুরু করি। এভাবে নিয়মিত বই পড়া আমাদের বাস্তব জীবনকেও প্রভাবিত করে এবং আমরা ব্যক্তিগত সম্পর্কে আরও সহানুতিশীল হই।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়
ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, বই পড়া আমাদের দিনে দিনে আরও স্মার্ট করে। একটা বই শেষ করার পর বহুদিন পর পর্যন্ত বইটির ইতিবাচক প্রভাব থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বই পড়ার সময় মস্তিষ্ক এতভাবে কাজ করে যে তা আপনার নিউরোলজিকাল পরিবর্তন ঘটায় এবং মেমরি মাসলকে উজ্জ্বীবিত করে।

ডিপ্রেশন কমায়
গবেষণা প্রমাণ করে যে, বই পড়া ডিপ্রেশন কমানোর জন্য সবচেয়ে বেশী কার্যকরি। আপনি যদি নিজেই হন নিজের গাইড তাহলে আপনার খুব কাছের বন্ধু হতে পারে এই বই। প্রেরণা দান করে এমন বই পড়ুন। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করে বই। জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয় বই।

জীবনের লক্ষ্য নির্ধারনে সাহায্য করে
বই আমাদের সামনে তুলে ধরে নানান রকম মানুষের গল্প। বই পড়ে জানা যায় কত কত জীবনের কথা, সেইসব জীবনের হাসি-কান্না, ভাল থাকা, মন্দ থাকার কথা। অনেক বই আছে যেখানে সাহসী মানুষের জীবনের গল্প লেখা থাকে। কীভাবে একজন মানুষ একেবারে হেরে যাওয়া অবস্থান থেকে আবার ঘুরে দাঁড়ান, কীভাবে যার কিছুই নেই সেই মানুষটিও শক্তিশালী মানুষে পরিণত হন তার বাস্তব গল্পও আমরা জানতে পারি। এই গল্পগুলো আমাদের পথ দেখায়। জীবনের লক্ষ্য তৈরিতে সাহায্য করে।

ব্যক্তিত্ব গঠন করে
পড়াশোনা আমাদের ব্যক্তিত্ব যতটা গঠন করতে সক্ষম ততটা কি আর কোন উপায়ে সম্ভব? জীবনের ঘটনাগুলো আমাদের অভিজ্ঞ করে, কৌশলী করে। কিন্তু একটি আকর্ষণীয় দৃঢ় ব্যক্তি হিসেবে নিজেক প্রকাশ করতে চাইলে আপনার জন্য পড়ার কোন বিকল্প নেই। জ্ঞান হার মানায় বয়স, পদবী, বাহ্যিক সৌন্দর্য্যসহ অন্য সব কিছুকে।

চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করে
আপনি যত পড়েন তত জানেন এবং জানার সাথে বদলে যায় আপনার দেখার চোখ। বদলে যায় বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। প্রবাদ আছে, একজন অশিক্ষিত মানুষ কাদাকে দেখে শুধু ভেজা মাটি হিসেবে। আর এক জোড়া শিক্ষিত চোখ সেই কাদার মাঝে খুঁজে পায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনু-পরমাণু।

শব্দশক্তি
পড়াশোনা অবশ্যই আপনার ভাষাজ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম। আপনি যত পড়বেন তত নতুন শব্দ জানবেন। একই শব্দের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহার জানবেন। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। কিন্তু একজন ব্যক্তি যার সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন কিছুই তেমন পড়া হয় নি তিনি হয়ত একজন পড়ুয়া ব্যক্তির জানা অনেক বাংলা শব্দ কখনো শোনেনই নি। আর আপনি যদি বাংলার পাশাপাশি ভিন্ন ভাষার বই পড়ার প্রতিও আগ্রহী হন তাহলে সেই ভাষার সব শব্দ চলে আসবে আপনার নখদর্পনে।

লেখার ক্ষমতা তৈরি করে
জীবনের গল্প আপনার মাঝে গল্প তৈরির ক্ষমতা দিতে পারে স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু সেই গল্পকে জীবন্ত করে লিখতে চান? আরও গল্প পড়ুন। নানান রকমের লেখনী আপনার লেখার শক্তিকে সমৃদ্ধ করবে। অনেকটা আপনার অজ্ঞাতেই। আগেই যেহেতু আমরা জানলাম, পড়াশোনা আমাদের ভাষাজ্ঞান বাড়ায় তাই এটি যে আপনার লেখক হবার পথে আপনাকে এগিয়ে দিচ্ছে কয়েক ধাপ তা বোধ হয় ব্যাখ্যা করে বলবার প্রয়োজন নেই। একই সাথে বই পরিচয় করায় অনেক জানা-না জানা সংস্কৃতির সাথে, পরিস্থিতির সাথে।

ফলে একই সময়ে কয়েকটি চরিত্রকে তার মত উপলব্ধি করে রূপায়ণের ক্ষমতা তৈরি হয় আপনার এবং ধীরে ধীরে আপনি হয়ে উঠতে পারেন একজন ভাল লেখক।
বইয়ের বিকল্প একমাত্র বই। আর কিছু নয়, তাই বই নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিজেই আবিষ্কার করুন অন্য এক ব্যক্তিত্ববান মানুষকে আপনার মাঝে।

Development by: webnewsdesign.com