জনপ্রিয় সংবাদ

x

ফাইভ-জি: অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০১৯ | ২:৫৯ অপরাহ্ণ | 54 বার

ফাইভ-জি: অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ।

ঢাকা: পঞ্চম প্রজন্মের মুঠোফোন সেবা ফাইভ-জি চালু করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফাইভ জি সিটি ও ফাইভ জি মিউজিক সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

দেশে ফেরার পর মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সারাবাংলাকে বলেছিলেন, ‘নতুন কোনও প্রযুক্তি চালু করার আগে, আমাদের যে টুকু জ্ঞান অর্জন করা দরকার, তথ্য সংগ্রহ করা দরকার, আমরা সেই তথ্যগুলো সংগ্রহ করছি।’

এর আগে মুঠোফোন অপারেটরগুলোকে ফাইভ-জি চালু করতে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।

অপারেটগুলো বলছে, সরকারের সঙ্গে সঙ্গে তারাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফাইভ-জি’র সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণা থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টাও চলছে। পরিকল্পনা তৈরি করছে টেলিযোগাযোযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিও। ২০২১ সালেই ফাইভ চালুর লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

মন্ত্রীও জানিয়েছেন, যথাসময়েই ফাইভ-জি’র যুগে প্রবশে করবে দেশ।

এদিকে, গত বছরের জুলাইয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ফাইভ –জি’র পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবির সহযোগিতায় ফাইভ-জি প্রযুক্তির প্রদর্শন করে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ফাইভ-জি ইকোসিস্টেম কিভাবে কাজ করবে তা দেখানো হয়। এছাড়াও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের রূপান্তরে ফাইভ- জি’র ব্যবহার প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তী প্রজন্মের এই তারহীন প্রযুক্তি মানুষের প্রতিদিনের জীবনধারা পরিবর্তন করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চালকবিহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি, বিগ ডাটা, ইন্টারনেট অব থিংকস, স্মার্ট সিটি এবং নেটওয়ার্ক তৈরিতে ফাইভ-জি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফাইভ-জি’র বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে সারাবাংলার সঙ্গে কথা হয় রবি আজিয়াটার।

জানতে চাইলে রবির কমিউনিকেশনস অ্যান্ড করপোরেট রেসপনসিবিলিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবির সারাবাংলাকে বলেন,  ‘রবি-ই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফাইভ-জি’র পরীক্ষা চালিয়েছে। বর্তমানে যে সব দেশে ফাইভ-জি চালুর চেষ্টা চলছে, আমরা সরকারের সঙ্গে মিলে তা পর্যবেক্ষণ করছি এবং সেখান থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। ফাইভ-জির পরীক্ষা চালিয়ে আমরা প্রমাণ করেছি যে রবি আবারও সবার আগে এই প্রযুক্তি চালু করতে প্রস্তুত।’

রবির শীর্ষ এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ফাইভ-জি চালু করলে বাংলাদেশ অবশ্যই ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে এগিয়ে যাবে, তবে গ্রাহকরা ফাইভ-জি কী কী কাজে ব্যবহার করবেন তা আগে নির্ণয় করতে হবে। সেটি করতে পারলেই ফাইভ-জি’র সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করা যাবে। ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি)’কে মাথায় রেখে ফাইভ-জিকে মানুষ কেমন করে ব্যবহার করতে পারে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

ইকরাম কবির বলেন, বিশ্বের দু’একটি দেশে কেবল স্বচালিতে গাড়িতে ফাইভ-জির পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বিশ্বের কোথাও এখনও ফাইভ-জি’র ব্যবহারিক কোন উদাহরণ নেই। আর বাংলাদেশের মানুষ কোন কোন খাতে ফাইভ-জি ব্যবহার করবে, তা ভাবতে হবে। এবং তা নিয়ে আরও গবেষণা হতে পারে।

অন্যদিকে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামাল সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফাইভ জি নিয়ে কথা বলার মতো সময় এখনো আসেনি। তবে এ প্রযুক্তি যখন চালু হবে বরাবরের মতোই গ্রামীণফোন গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা নিয়ে আসবে।’

মোস্তাফা জব্বার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছি ২০২১ থেকে ২৩ সালের মধ্যে ফাইভ-জি চালু করবো। এবং আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে যে ঘোষণা আছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিঃসন্দেহে তা বাস্তবায়ন করবো। সে লক্ষ্যে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সুনির্দিষ্ট এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার আমরা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

সারাবাংলার এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘ফাইভ জির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কোনও বিষয় নেই। আমরা ইতোমধ্যে ফাইভ জি’র টেস্ট করে ফেলেছি। ফাইভ জি আমরা চালু করবো। সম্ভব যদি না হতো তাহলে শেরাটনে এর টেস্টই করতে পারতাম না। টেস্ট করে সেট হয়ে বসে আছি। ফাইভ জির ফাইনালিস্ট স্টার্ডাটটা হওয়া বাকি আছে। ফাইভ জির ফাইনালিস্ট স্টান্ডার্ডটা এই বছরের মধ্যে হয়ে যাবে। তখন আমরা ফাইভ-জি স্টান্ডার্ড ফলো বাংলাদেশ ফাইভ-জি চালু করবো।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সারাদুনিয়া সম্ভাব্যতা যাচাই করে এখন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করছে। ওয়ার্ল্ড রোল আউট করবে, আমরা তার সাথে থাকবো। একসঙ্গে এগিয়ে যাবো।’ এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সবগুলো মুঠোফোন অপারেটগুলোকে ডেকে ফাইভ-জি চালুর জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে ফাইভ-জির জন্য রেডি হও।’

ফাইভ জি কী?

পঞ্চম প্রজন্মের মুঠোফোন সেবায় ইন্টারনেটের গতি হবে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি। তবে বিশ্বব্যপী ফাইভ-জি’র গতির মান (স্ট্যান্ডার্ড) এখনও নির্ধারণ হয়নি। ফাইভ জি প্রযুক্তি চালু হলে ড্রোনের মাধ্যমে গবেষণা, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও অগ্নি নির্বাপনে সহায়তা পাওয়া যাবে। চালকবিহীন গাড়ি, লাইভ ম্যাপ, ট্রাফিক তথ্য পড়ার ক্ষেত্রে ফাইভ জি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বেশিরভাগ দেশ ২০২০ সালে এ সেবাটি চালু করতে চায়। তবে চলতি বছরেই দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনে ফাইভ-জি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসে এরইমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভ-জি চালু হয়েছে। দেশটির ডাচ রেলস্টেশনে এ সেবা চালু করা হয়েছে। সেখানে ফাইভ-জি সেবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ছিল ৭.৪০ গিগাহার্জ। গত বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে ফাইভ জি চালুর পর স্টার্লিং পাখির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। হইগেনসন পার্কে এ চিত্র দেখা যায়। ওই এলাকায় সম্প্রতি ফাইভ-জি চালু হয়।

আরও এক ধাপ এগিয়ে বিশ্বের প্রথম কোন দেশ হিসেবে সিক্স জি নিয়ে পরীক্ষামূলক গবেষণা চালিয়েছে চীন। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে সিক্স-জি সেবা চালু করতে চায় চীন। ফাইভ-জি প্রযুক্তি গবেষণা গ্রুপের প্রধান সু জিন বলেন, সিক্স জি নিয়ে ২০২০ সালে আনুষ্ঠিক কাজ শুরু হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে সিক্স জি নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনা আছে চীন সরকারের।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অপরাধে ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬১হাজার টাকা জরিমানা

Development by: webnewsdesign.com