সর্বশেষ সংবাদ

x



প্রতারনার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জনের ক্লিনিক পরিদর্শণ ও কৈফিয়ত তলব

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০ | ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | 89 বার

প্রতারনার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জনের ক্লিনিক পরিদর্শণ ও কৈফিয়ত তলব
প্রতারনার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জনের ক্লিনিক পরিদর্শণ ও কৈফিয়ত তলব

রাজধানী ঢাকায় রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার রেস্ট কাটতে না কাটতেই ঠাকুরগাঁওয়ে কৃঞ্চ চন্দ্র রায় নামে এক প্রতারকের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই প্রতারক এক দরিদ্র প্রান্তিক চাষির কাছে সিজার পরবর্তী চিকিৎসা দেয়ার নামে ৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জেলা সিভিল সার্জন ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের কিসামত তেওয়ারীগাঁও মুন্সিপাড়া নামক এলাকায় পাকা সড়কের পাশে গ্রাম এলাকায় গড়ে উঠেছে “জনসেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার”। কথিত এই ক্লিনিকের নেই সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স, নিজস্ব ভবন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সার্বক্ষনিক চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনিয় সরঞ্জাম। তারপরেও স্বাস্থ্য বিভাগকে বদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ঠকিয়ে চিকিৎসা নামে প্রতারনা করছে।
অভিযোগে জানা যায় করোনাকালীন সময়ে গত ৭ মে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার কিসামত হাজারী গ্রামের প্রতিমা রাণী (৩৬) সন্তান সম্ভাবা অবস্থায় ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন। চিকিৎক না থাকায় ৮ মে শহরের পপুলার ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে রাতেই ডা. হামিদুর রহমান তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। কিন্তু রোগীর শরীরে জন্ডিসসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ৯ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ১৫দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় খানিকটা সুস্থ হয়ে উঠলে প্রতারক কৃঞ্চ চন্দ্র রায় দালালের মাধ্যমে কৌশলে তার জনসেবা ক্লিনিকে এনে পুনরায় ভর্তি করায়। এ ব্যাপারে রোগীর স্বজনদের সাথে ২ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি হয়। চিকিৎসা শেষে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিল হাকিয়ে দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা দেখা দিলে প্রতিবেশি রহিম, রাজ্জাকুল, রফিকুল, আইনুল ও মহিলা ইউপি সদস্যসহ অনেকেই এগিয়ে আসেন। পরে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে রোগী রিলিজ নিতে হয়।
প্রতিমা রাণীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাথে ২ লাখ টাকার কথা হয়। কিন্তু রিলিজের সময় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। শেষে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে রিলিজ নিতে হয়েছে।’
রোগী প্রতিমা রাণীর ভাই আনন্দ চন্দ্র রায় বলেন, সামান্য একটা রোগীর পরিসেবার ঘটনায় প্রথমে ২ লক্ষ টাকা এবং রিলিজের সময় আরো ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করে। ওই প্রতারক রোগীর ভূঁড়ি বেড় করে সেলাই না করার হুমকি দেয় বলে জানান। তিনি আরো বলেন যে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা দিয়ে ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসা যেতো। সে আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে। প্রতিমার ভগ্নিপতি মনোরঞ্জন রায় বলেন রোগী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেকটা সুস্থ হয়ে যায়। সে সময় ইদুল ফেতরের বন্ধ থাকার কারনে রোগীর স্বামী অনুকূলকে ভূল বুঝিয়ে প্রতারক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় দালাল দিয়ে তার ক্লিনিকে এনে ভর্তি করায়। এতে অনুকূল জমি বন্ধক, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী বিক্রী করে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানায়, জনসেবা ক্লিনিকে সার্বক্ষনিক চিকিৎসক ও নার্সসহ চিকিৎসা সরঞ্জজাম কোনকিছুই নেই বেশ কয়েকজন মেয়ে থাকলেও নার্সের পোশাক পড়া কাউকে দেখা যায়নি। তারপরও গ্রামের সহজ সরল মানুষকে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই ক্লিনিকের নামে একাধিক অভিযোগ আছে। এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য কথা বলতে গেলে পুলিশকে দিয়ে হয়রানি করায়। কিসামত তেওয়ারীগাঁও গ্রামের রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি পঞ্চগড়ের কিসামত হাজারী গ্রামের প্রতিমা রাণী (৩৬) সিজার পরবর্তী সমস্যা নিয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা চুক্তিতে ভর্তি হন জনসেবা ক্লিনিকে। চিকিৎসা শেষে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আরও মোটা অংকের টাকা দাবি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর ভূঁড়ি বেড় করে সেলাই না করার হুমকি দেয় এবং পরে এক ধরনের জিম্মি করে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ব্যাপারে জনসেবা ক্লিনিকের পরিচালক কৃঞ্চ চন্দ্র রায় জানান, প্রত্যেকটা ব্যবসার দালাল আছে। তিনি উদ্ধত ভাষায় বলেন, আমি ৭১ এর যুদ্ধ করব। রোগী বেঁচে থাকার পরও কাবঝাপ মারা গেলে যে কি হবে। এজন্য ১৩ টা রোগীকে নিয়ে শেখ হাসিনার বরাবরে দরখাস্ত করব। প্রয়োজনে শেখ হাসিনার কাছে যাবো।
বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক অনার্স অ্যাসোসিয়েশন ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডন চৌধুরী জানান, জনসেবা ক্লিনিক আমাদের সমিতির সদস্য না। সে কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। সভাপতি জুলফিকার আলী ভূট্টো বলেন, ক্লিনিকে অপারেশনসহ যে সমস্ত চিকিৎসা দেয়া হয়, তার জন্য নির্ধারিত চার্ট আছে। সেই রেড চার্ট প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে ঝুলানো থাকার কথা। একটা সিজার করতে সর্বোচ্চ ৮-১০ হাজার টাকা নেয়া হয়।
ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার জানান, যখন কোন ক্লিনিকের সকল প্রকার শর্ত পূরণ থাকে না তখন তাদের কাছে কাগজপত্র চেয়ে একটা সময় দেওয়া হয়। তারপরও কোন ক্লিনিকের মালিক যদি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয় তখন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ওই ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ক্লিনিকটি পরিদর্শন করে কর্তপক্ষকে একটি পত্র দেওয়া হয়েছে। যদি তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে না পারে তবে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
“ইয়ুথ ব্লাড ডোনার ক্লাব”র দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত

Development by: webnewsdesign.com