বৃহস্পতিবার ৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগ

প্রকল্প পরিচালকদের অনৈতিক সুবিধা দেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৬ আগস্ট ২০২২ | প্রিন্ট

প্রকল্প পরিচালকদের অনৈতিক সুবিধা দেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের দরপত্র প্রাপ্তদের কাছ থেকে অনৈকিতভাবে লাখ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

আর এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তর ও সচিব এর দপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহপরিচালক (ডিজি) এবং প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকটি প্রকল্পের জন্য আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ৭ শতাধিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আর ওই সব প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রত্যেক জনের কাছ থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে দুর্নীতির মাধ্যমে দালালদের সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে উল্লেখিত প্রকল্প পরিচালকদের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়েছেন। এসব ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অডিও রেকর্ডে জানা গেছে। আর ওই সব অডিও রের্কড প্রতিবেদকের কাছেও রয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, য্বু উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালকদের আহ্বানকৃত আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে গত ৫মে জনবল নিয়োগের দরপত্র নং ৩৪.০১.–১৪০. এ প্রদানকৃত অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে ভুয়া কাগজধারী ও পছন্দের প্রতিষ্ঠান আল মমিন আউটসোর্সিং কে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের নোয়া, চুক্তি ও কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হচ্ছেন আব্দুল লতিফ মোল্লা। এ ছাড়া, একই অধিদপ্তরের অপর প্রকল্প পরিচালক ড. এস. এম. আলমগীর কবির এর আহ্বানকৃত গত ২ জুন তারিখের দরপত্র নং ৩৪.০১.০০–৬২.- এ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের নোয়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অর্থ প্রাইভেট লিমিটেড এবং গালফ সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনামিকা সামাদ এসব অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সকল অর্জিত কার্যক্রমের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে যুব উন্নয়নের কতিপয় কর্মকর্তা প্রশ্রয়ে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের সাথে সমঝোতা ছাড়া এই দপ্তরের কোনো দরপত্রের যোগ্যতা সম্পূর্ণ দরদাতা প্রতিষ্ঠান কাজ পায় না। গত ১৬মে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আব্দুল লতিফ মোল্লা এর চাহিদামত প্রকল্পের শর্তরোপ কাগজপত্র আল মমিন আউটসোর্সিং নামক প্রতিষ্ঠানের নাই। কিন্তু ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রের আবেদনের সঙ্গে যে সব প্রমাণপত্র দাখিল করা হয়েছে। তার সম্পূর্ণ নিজে বানিয়ে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে। এ অভিযোগ থাকার পরও উক্ত দরপত্রের মূল্যায়ন কমিটি সিডিউলের শর্তানুযায়ী দরদাতাদের দাখিলকৃত কোনো প্রকারের কাগজপত্রাদি যাচাই-বাছাই না করেই আল মমিন আউটসোর্সিং নামক প্রতিষ্ঠান হতে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে উক্ত জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজনকৃত কাগজধারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নোয়া, চুক্তি ও কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি বেকার চাকরী প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সরকারী চাকরীর নামে হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগে জানা গেছে।

তাছাড়া, ড. এস এম আলমগীর কবির প্রকল্প পরিচালক, ‘দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য়)’ প্রকল্প, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কে সর্বমোট ৫টি লট অর্থাৎ লট-০১,০২,০৩,০৪. এবং ০৫ হিসেবে বিভক্ত করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। উক্ত দরপত্রে অর্থ প্রাইভেট লিমিটেড এর পক্ষ থেকে লট-০১ এ অংশগ্রহণ করে এবং গালফ সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রাঃ লিমিটেড -০৪ লট এ অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু আগের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল লতিফ মোল্লা এর আহ্বানকৃত দরপত্রের ন্যায় কতিপয় কর্মকর্তার সাথে বহিরাগত দালাল চক্রসহ গঠিত সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে পচ্ছন্দের প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প পরিচালক ড. এস এম আলমগীর কবির আহ্বানকৃত উপরেল্লিখিত লট নং- ০১ হতে ০৫ পর্যন্ত আউটসোর্সিং ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে নোয়া পেয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সকালের সময়-এ প্রমাণপত্র ছাড়াও ঘুষ প্রদানের অডিও রেকর্ডিং রয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও বহিরাগত দালালদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে সকল দরদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদামত শর্তে সম্মতি প্রদান করেছেন। শুধু সেই সকল দরদাতা প্রতিষ্ঠান সমূহকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আহ্বানকৃত দরপত্রের দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য় পর্যায়) প্রকল্প এর লট নং- ০১ হতে ০৫ এ রেসপনসিভ করে তাদের অনুকূলে নোয়া, চুক্তি ও কার্যাদেশ সম্পাদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আর একই প্রকল্প এর চাহিদাকৃত জনপ্রতি জনবল সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সরবরাহের নিমিত্তে মো. মিজানুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্টেট সার্ভিস লিমিটেড ও একুশে সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড কে ১ লাখ ১০ হাজার, ১ লাখ ২০ হাজার, ১ লাখ ৩০ হাজার এবং মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলাল প্রিমা এ্যাসোসিয়েট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পদানুযায়ী সিন্ডিকেট সদস্যদের হাতে দিতে হবে বলে চুক্তি করা হয়। আর সেই চুক্তি মোতাবেক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল অগ্রীম ১০ লাখ টাকা এবং সৈয়দ আতিকুল ইসলাম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধলেশ^রী সিকিউরিটি এন্ড ক্লিনিং সার্ভিসেস (প্রা.) লিমিটেড, লট নং- ০১ বাবদ অগ্রীম ৩০ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের কাছে প্রদান করেছেন বলে দুদকে লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উল্লেখিত প্রকল্পগুলোতে মোট ৪৮টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এরপর একই মালকের দু’টি প্রতিষ্ঠানকে দুটি নোয়া দেওয়া হয়। আর অপর তিনটি প্রতিষ্ঠানকে তিনটি নোয়া দেওয়া হয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের দালালের মাধ্যমে আঁতাত করে কার্যাদেশ পেয়ে থাকেন। ফলে পেশাদার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের চাহিদামত উৎকোচ দিত অপরাগতা প্রকাশ করায় তাদেরকে কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে না।

আর বৈধভাবে উল্লেখিত প্রকল্পের নোয়া পাওয়া হতে বঞ্চিতদের পক্ষে অর্থ প্রাইভেট লিমিটেড লিখিত অভিযোগ করেছেন। আর গালফ সিকিউরিটি সার্ভিসেস (প্রাঃ) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনামিকা সামাদ এর লিখতি অভিযোগে বলেছেন,প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. এস এম আলমগীর কবির ও প্রকল্প পরিচালক আব্দুল লতিফ মোল্লা আহ্বানকৃত দরপত্র বরাদ্দে দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক পরবর্তীতে দরপত্রের মূল্যায়নপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আর এই প্রকল্পগুলো বরাদ্দে দুর্নীতির সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও তাদের বিরুদ্ধে পিপিআর-২০০৮ এর ১২৭ ধারা মোতাবেক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ড. এস. এম. আলমগীর কবির এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদক কে তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৩৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৬ আগস্ট ২০২২

dhakanewsexpress.com |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোঃ মাসুদ রানা হানিফ সম্পাদক