সর্বশেষ সংবাদ

x


পুরান ঢাকায় আছে ২৫ হাজার রাসায়নিক কারখানা!

শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৪:২৬ অপরাহ্ণ | 346 বার

পুরান ঢাকায় আছে ২৫ হাজার রাসায়নিক কারখানা!

রাজধানীর চকবাজারের চুরিহাট্টায় আগুনে পুড়ে গেছে পাঁচটি ভবন। সেই আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৭ জন। ঢামেকের বার্ন ইউনিটে নয়জন পাঞ্জা লড়ছেন মৃত্যুর সাথে। স্বজনদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২০ জন।

ধারণা করা হচ্ছে আগুনের সূত্রপাত একটি গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকে। পরে যা পাশের একটি ভবনে থাকা ক্যামিকেল গোডাউনের সংস্পর্শে এসে ব্যাপকতা পায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন এতো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে সড়ক থেকে মানুষ দৌড়ে পালানোরও সুযোগ পায়নি।

২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর নবাব কাটরায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে প্লাস্টিক ও ক্যামিকেলের ফ্যাক্টরি ছিল। ফলে আগুনের লেলিহান শিখা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ওই দুর্ঘটনায় ১২৪ জন প্রাণ হারান। আহত হন অর্ধশতাধিক।

তখন সরকার পুরান ঢাকা থেকে সব ধরনের কেমিক্যাল বা রাসায়নিক ফ্যাক্টরি সরাতে নির্দেশ দেয়। এ ঘটনা তদন্তে করে দেওয়া হয় দুইটি তদন্ত কমিটিও। তবে ওই কমিটির করা সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। যার ফল ভোগ করে চকবাজারের শতাধিক সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে এলাকার বিভিন্ন গলি ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে, চকবাজার এলাকায় ৭০ ভাগের বেশি ভবনে বিভিন্ন পণ্য ও কেমিক্যালের গোডাউন রয়েছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গোডাউনের পেছনে রয়েছে ভবন মালিকদের বেশি মুনাফার লোভ, প্রশাসনের অবহেলা ও স্থানীয়দের অসচেতনতা। অধিক মুনাফার জন্য প্রত্যেক বাড়ির মালিক তাদের ভবনের বেসমেন্ট বা নিচের তলায় গোডাউন ভাড়া দিয়ে থাকে। তবে তারা খবর রাখে না গোডাউনে ঠিক কি রাখা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু চকবাজারই নয় পুরান ঢাকার বেশিরভাগ বাড়িতেই রয়েছে কোনো না কোনো কিছুর গোডাউন ও কারখানা। যার মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক, বৈদ্যুতিক তার তৈরির কারখানাও।

বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) তথ্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকায় প্রায় ২৫ হাজার রাসায়নিক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ আবাসিক বাড়িতে। অথচ পুরান ঢাকায় মাত্র ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি-রফতানি ও মজুদ করার অনুমোদন রয়েছে। আর রাসায়নিক দ্রব্য থেকে পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন রয়েছে মাত্র ৭০টি প্রতিষ্ঠানের।

হাজী বাল্লু রোডের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনই চায় না এখান থেকে কেমিক্যালের গোডাউন সরুক। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রশাসন টাকা পায়। কেমিক্যালের গোডাউন না থাকলে প্রশাসনের বাড়তি টাকা পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

কবাজারের বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন ফারুক বলেন, একটি বাসায় ফ্যামিলি ভাড়া দিলে প্রতিমাসে ভাড়া হয়তো পাওয়া যায় ২০ থেকে ২৫ হাজার। অগ্রিম সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা। কিন্তু কেমিক্যালের গোডাউন ভাড়া দিলে পাওয়া যাবে পঞ্চাশ হাজার, অগ্রিম পাওয়া যাবে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা। তাহলে কেন গোডাউন ভাড়া দেবে না?

অধিকাংশ বাড়িতে কেমিক্যালের গোডাউন ভাড়া দেওয়ার পেছনে চাহিদা বেশি থাকা, বেশি মুনাফার লোভ, প্রশাসনের গাফিলতির পাশাপাশি সচেতনতা না থাকার বিষয়গুলো উঠে এসেছে স্থানীয়দের বক্তব্যে।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
কর্মহীন ও অসহায়দের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক অপু

Development by: webnewsdesign.com