টাঙ্গন নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে

পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে তিন শতাধিক পরিবার

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১:৫৯ অপরাহ্ণ | 20 বার

পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে তিন শতাধিক পরিবার

 

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় টাঙ্গন নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার ২নং কোষারানীগঞ্জ ইউপির কোষাবন্দর পাড়া গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চলাচলের রাস্তা, বাঁশঝাড়, গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বেশকিছু বাস্তভিটা। ভাঙন ঠেকাতে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন, নদীর তীর রক্ষায় একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলার কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, তার ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদীর ভাঙনে কোষাবন্দর গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার হুমকির মধ্যে রয়েছেন। কয়েক বছর ধরে নাকটি ব্রিজের সতীরঘাট থেকে কোষাবন্দর গোরস্থান পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর ডান তীর ভেঙে গেছে। প্রতি বছর বর্ষায় নদীর পাড় ভাঙছে। এরই মধ্যে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা, গাছপালা, বাঁশঝাড় এবং ৭/৮টি বাড়ি নদীতে মিশে গেছে। এবারের বন্যায় তিনটি বাড়ি নদীতে চলে গেছে। শতাধিক বাড়ি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। নদী ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে এমন একটা অবস্থায় এসেছে যা বলার ভাষা নেই বলে মন্তব্য বলেন ওই জনপ্রতিনিধি। তিনি আরও বলেন, এলাকার বাসিন্দারা বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকে। নদীর পাড় রক্ষা করার মতো সামর্থ্য ইউনিয়ন পরিষদের নাই। ক্ষতিগ্রস্তদের রিলিফ দিয়ে সহায়তা করা ছাড়া তারা কিছু করতে পারছেন না। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরকে জানানো হয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, গত বন্যায় ওই এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি বাড়ি নদী বিলীন হয়ে গেছে। তাদের তালিকা করে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা বিধবা আহেদা বানু জানান, এবারের শেষ বন্যায় পইশানজুসহ তিনজনের বাড়ি নদীতে চলে গেছে। তার অন্যান্য ঘর নদীতে ভেঙে গেছে। একটি মাত্র মাটির ঘর অবশিষ্ট আছে। সেটিও ভাঙার পথে।এটি নদীতে চলে গেলে তার মাথা গোঁজাবার মতো আর কোনো ঠিকানাই থাকবে না। মোহাম্মদ নামে এক বৃদ্ধ জানান, নদী ভাঙার কারণে স্থানীয় গোরস্থানে যাওয়া যায় না। কেউ মারা গেলে লাশ নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। দুই কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। রায়হান আলী জানান, জন প্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরছি কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। ঠাকুরগাঁওয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, কোষাবন্দরসহ টাঙ্গন নদীর তীর রক্ষায় চারটি প্রকল্প প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। এর মধ্যে তিনটির কাজ হয়ে গেছে। এটিও আশা করছি আগামী অর্থ বছরে হয়ে যাবে।



 

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
বিপুল সম্পদের মালিক হাসপাতালের হিসাবরক্ষক

Development by: webnewsdesign.com