পঞ্চগড়ে কিশোরী গৃহকর্মী ধর্ষণের পর বাপ-ছেলের যত কৌশল

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০ | ২:২৬ অপরাহ্ণ | 117 বার

পঞ্চগড়ে কিশোরী গৃহকর্মী ধর্ষণের পর বাপ-ছেলের যত কৌশল
পঞ্চগড়ে কিশোরী গৃহকর্মী ধর্ষণের পর বাপ-ছেলের যত কৌশল

পঞ্চগড়ে বিভিন্ন প্রলোভন আর ভয়-ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘ দুই বছর ধরে এক কিশোরী গৃহকর্মীকে বাপ-ছেলে মিলে ধর্ষণ করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তারা হলেন, সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া এলাকার লম্পট আলী আজম প্রধান (৫০) এবং তার ছেলে ইকবাল হোসেন বাবু।
জানা গেছে, গত দুই বছর থেকে লম্পট আলী আজমের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে আসছে ওই কিশোরী। তখন থেকেই কখনো আলী আজম আবার কখনো তার ছেলে ইকবাল হোসেন বাবু জোড়পূর্বক ধর্ষন করে তাকে। হত-দরিদ্র বাবার মেয়ে পেটের দায়ে এসব সহ্য করলেও দিনদিন বাড়তে থাকে বাপ-ছেলের অমানুষিক আচরণ।
ওই কিশোরী জানায়, নির্যাতনের মাত্রা সহ্যসীমা অতিক্রম করলে আলী আজমের স্ত্রীকে ঘটনা খুলে বলে সে। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আলী আজম ও তার ছেলে ইকবাল হোসেন তড়িঘড়ি করে গত ১০ জুলাই দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার তরতবাড়ী এলাকার বয়জ উদ্দীনের ছেলে ড্রাইভার মকবুল হোসেনের সাথে বিয়ে দেয় তাকে। বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামী মকবুল হোসেনকে অকপটে পূর্বের ঘটনা বলে দেয় ভিকটিম কিশোরী। মকবুল কথা গুলো মোবাইলে রেকর্ড করে রাখে। পরে কিশোরীর পরিবারকে খবর দিয়ে নিয়ে তালাক নামা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বাবার বাড়িতে ফেরৎ পাঠান তাকে।
এদিকে, বিয়ের পরও ওই কিশোরী বাবার বাড়িতে কেন এমন প্রশ্নে কানাঘোসা শুরু হয় স্থানীয়দের মাঝে। বেড়িয়ে আসে আসল ঘটনা। খবর পেয়ে গত ৬ আগষ্ট ভিকটিমের বাড়িতে ভিড় করে গণমাধ্যম কর্মীরা। তবে ভিকটিমের পরিবারের কেউ মুখ খুলতে রাজী হননি। ওই কিশোরী বর্তমান মামার বাড়িতে অবস্থান করছে এটুকুই জানান তার বাবা। তবে তার বাবার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিলো কি যেন ভয় কাজ করছে তার মনে। পরে কিশোরীর মামার বাড়িতে গিয়ে জানা যায় মূল কাহিনী।
স্থানীয়রা জানান, আলী আজম ও তার ছেলের অশালীন আচরনে এলাকার কেউ মুখ খুলেননা। দলীয় পরিচয় আর প্রভাবে জিম্মি ভুক্তভোগি পরিবারটি। কিছু হলেই আলী আজম তার ছেলে কথিত সাংবাদিক ইমরান হোসেন রাজুকে দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করান।
তাদের হুমকি থেকে বাদ পড়েনি গণমাধ্যম কর্মীরাও। আলী আজমের মেয়ে জামাই পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের বুড়িপাড়া এলাকার বিপ্লব হোসেন মুঠোফোনে সাংবাদিকদের পরিচয় দেন পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ তার শ্বশুর।
অমরখানা ইউনিয়নের সদস্য একরামুল হক বলেন, অসহায় পরিবারটি ভয়ে মুখ খুলছেনা। আর অভিযোগ ছাড়া আমরাও কিছু করতে পারছিনা।
ওই কিশোরীর মামা দুলাল হোসেন বলেন, আমার বোন, ভাগ্নিদের শান্তি মত ওই এলাকায় চলাফেরা এবং কারো বাড়িতে যেতে পর্যন্ত দেন না ধর্ষক আলী আজম। তাদের অনাচারে অতিষ্ট অসহায় পরিবারটি।
এদিকে, মামার বাড়ির পরিবারকেও চাপে রাখতে আটেন অন্য কৌশল। একই দিন রাতে আলী আজম, ছেলে ইকবাল হোসেন বাবু ও মেয়ে জামাই বিপ্লব হাড়িভাসা ইউনিয়নের জিন্নাতপাড়া এলাকায় মামা দুলালের বাড়িতে যান। তবে এবার বিপত্তে ঘটে। স্থানীয়রা মিলে তিনজনকেই আটকে রাখেন। খবর পেয় হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ওই রাতেই মুচলেকা লিখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
প্যানেল চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনা সত্য তবে অনেক পুরনো। আমরা একটা ফয়সালা করে দিয়েছি।
অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু ,এ সময় ঘটনাস্থলের উপস্থিত থেকে মুসলেখা দিয়ে বিখ্যাত ধর্ষক আলী আজম ও ছেলে ইকবাল হোসেন বাবু কে ওখান থেকে ছাড়িয়ে আনেন।

এছারাও এলাকায় জানাযায় আলী আজম ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে গায়ের জোরে নানা অপকর্ম করে থাকেন।



আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
“ইয়ুথ ব্লাড ডোনার ক্লাব”র দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত

Development by: webnewsdesign.com