বৃহস্পতিবার ৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট

নেত্রকোনায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি

মদনে বেকার সমস্যার সমাধান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে হাওরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর আওতায় মুরগি পালনের অস্থায়ী ঘর নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘর নির্মাণ বাস্তবায়ন হয়েছে কাগজে-কলমে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা। অথচ তা না করে উপকারভোগীদের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। কোনো তদারকিও করছেন না প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাওরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মদন উপজেলায় মুরগি পালনের জন্য ২০টি দল গঠন করা হয়। প্রতিটি দলে রয়েছেন ২৫ সদস্য। একজন উপকারভোগীর জন্য রয়েছে অস্থায়ী মুরগি পালনের ঘর, ১৩টি মুরগি, দুটি মোরগ, খাদ্য ও ওষুধসহ বিভিন্ন উপকরণ।

মুরগি পালনের অস্থায়ী ঘরগুলো নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে রাজধানীর নাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ছয় হাজার টাকা ব্যয়ে একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে দেবে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঘর নির্মাণ না করে উপকারভোগীদের ডেকে নিয়ে নিম্নমানের কিছু কাঠ, টিন দিয়েছে। বাধ্য হয়ে এসব দিয়েই ঘর তৈরি করছেন তারা।

অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রত্যেক উপকারভোগীকে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন তারা। পরবর্তী সুবিধা পাবেন না- এমন ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক উপকারভোগী জানান, মুরগি পালনের জন্য তাদের ঘর দেওয়ার কথা বলে পৌরসভায় নিয়েছে। পরে পচা কতগুলো কাঠ আর টিন দিয়েছেন। নিজ খরচে টিন ও কাঠগুলো বাড়িতে নিয়ে মুরগির ঘর নির্মাণ করতে হয়েছে। ঘরগুলো দুই মাসের বেশি টিকবে না বলে আশঙ্কা তাদের।

প্রকল্পের তিয়শ্রী ইউনিয়নের মাঠকর্মী রেবেকা সুলতানার দাবি, তার ইউনিয়নে ৭৪ জন মুরগি পালনের ঘর নির্মাণসামগ্রী পেয়েছেন। তবে তাদের কাউকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাহিদ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মদন উপজেলায় মুরগি পালনের জন্য ৫০০টি ঘর আমরা নিজেরাই তৈরি করে বিতরণ করেছি। মদন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন তখন আমাদের সঙ্গে ছিল।

মদন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভেটেরিনারি সার্জন অমিত সাহা জানান, ৫০০ জনকে ঘর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০টি মতো তৈরি করে দিয়েছে ঠিকাদার। বাকিগুলোর নির্মাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহিদুল্লাহ জানান, এটা স্থানীয় কোনো বিষয় নয়। এই প্রকল্পের বিষয়টি প্রকল্প পরিচালক দেখবেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:২৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

dhakanewsexpress.com |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোঃ মাসুদ রানা হানিফ সম্পাদক