সর্বশেষ সংবাদ

x



৫৪ ধারার নতুন মামলায় জেলে

নিখোঁজের ৫৩ দিন পর সাংবাদিক কাজল বেনাপোলে উদ্ধার

সোমবার, ০৪ মে ২০২০ | ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ | 28 বার

নিখোঁজের ৫৩ দিন পর সাংবাদিক কাজল বেনাপোলে উদ্ধার
চিত্রসাংবাদিক কাজল

নিখোঁজ হওয়ার ৫৩ দিন পর গতকাল রবিবার যশোরের বেনাপোলে উদ্ধার হয়েছেন সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। তবে তিনি পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি। কবে ফিরতে পারবেন, সে নিশ্চয়তাও পাওয়া যায়নি। কারণ কাজলকে বিজিবি সীমান্তে অবৈধ পারাপারের অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে তাঁকে গতকাল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে হাতকড়া পরিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ বিশেষ পাহারায় যশোরে পাঠিয়ে দেয়। বিজিবির করা অবৈধ পারাপারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কাজলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন গতকাল বিকেলে জানান, “আমাদের ছেলে মনোরম পলক যশোরে। সে বলেছে, ‘বাবাকে ছাড়াতে অনেক সময় লাগতে পারে।’”



এদিকে যশোরে পাঠানোর আগে সাংবাদিক কাজলকে পোর্ট থানার ওসি মামুন খান ও নাভারণ সার্কেল এএসপি জুয়েল ইমরান জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে গণমাধ্যমের কাছে তাঁরা এ ব্যাপারে কিছু বলেননি।

অবশ্য পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁকে বেনাপোল থেকে যশোর পুলিশের ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এরপর মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের দায়ের করা মামলায় ঢাকায় পাঠানো হবে, নাকি আদালতে পাঠানো হবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

যেভাবে উদ্ধার : বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুরের একটি মাঠ থেকে কাজলকে উদ্ধার করে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের টহলদল। অনুপ্রবেশের অভিযোগে সাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে শনিবার গভীর রাতে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।

রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী কাজলকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার মধ্যরাতে বিজিবির টহলদলের সদস্যরা সাদিপুর সীমান্তের একটি মাঠ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে। অবৈধভাবে ভারত থেকে আসার সময় তাঁকে আটক করা হয়। রাতে তাঁকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে শফিকুল ইসলাম কাজলকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপারের অভিযোগে বিজিবি একটি মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকায় নিজের পত্রিকা ‘পক্ষকাল’ অফিস থেকে বের হন। এর পর থেকে তাঁর আর সন্ধান না পেয়ে পরদিন

১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তাঁর স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন। পরে ১৮ মার্চ রাতে কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তাঁর ছেলে মনোরম পলক। একসময়ের জাসদ ছাত্রলীগ নেতা কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর সন্ধান দাবিতে পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন ও সাংবাদিকরা মাঠে নামেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও কাজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে।

কাজলকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত ২১ মার্চ সংস্থাটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংস্থাটি একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করে। তাতে নিখোঁজের আগে কাজলকে সর্বশেষ রাজধানীর হাতিরপুল এলাকায় তাঁর অফিসের সামনে দেখা যায়।

গত ৯ এপ্রিল সাংবাদিক কাজলের ফোন নম্বরটি বেনাপোলে চালু হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়। কাজলের নিখোঁজ/অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই মুন্সী আবদুল লোকমান বলেছিলেন কাজলের ফোন নম্বরটি চালু হয়েছিল। লোকেশন দেখিয়েছে বেনাপোল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে নম্বরটি চালু থাকার সময় কম হওয়ায় বেনাপোলে কোনো অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।’

অন্যদিকে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে অনুপ্রবেশের মামলায় আদালত জামিন দিয়েছেন। তবে ৫৪ ধারার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুপুর ৩টার দিকে তাঁকে যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে আনা হয়। বিকেল ৫টার দিকে শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তাঁকে আদালতে আনার সময় তাঁর ছেলে মনোরম পলকসহ কয়েকজন স্বজন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের পাসপোর্ট আদেশের ১১/৩ ধারায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।

কাজলকে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে একটি থ্রি হুইলারে করে পুলিশ সদস্যরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনেন। এ সময় তাঁর হাত পিছমোড়া করে হাতকড়া পরানো ছিল। কাজলের মুখভর্তি ছিল সাদা দাড়ি। পরনে ছিল ফুল হাতা গেঞ্জি ও খাকি রঙের প্যান্ট। থ্রি হুইলার থেকে নামানোর পর কাজলকে তাঁর ছেলে পলক জড়িয়ে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

কাজলের আইনজীবী দেবাশীষ দাসের জুনিয়র আইনজীবী সুদীপ্ত ঘোষ জানান, বিকেল ৫টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে হাজির করলে বিচারক শুনানি শেষে অনুপ্রবেশের মামলায় কাজলকে জামিন দেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার শেরেবাংলা, কামরাঙ্গীর চর ও হাজারীবাগ থানায় আইসিটি অ্যাক্টের মামলা থাকায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ আটকাদেশ পেতে নতুন করে ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের আবেদন জানায়। পরে বিচারক এ মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কাজলের ছেলে মনোরম পলক বলেন, ‘একটি মামলায় জামিন হয়েছে। বাবা বেঁচে আছেন এ জন্য শুকরিয়া জানাই। বাবার খোঁজখবর রাখার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।’

শিল্প সচিবের দায়িত্ব নিলেন কে এম আলী আজম

Development by: webnewsdesign.com