সর্বশেষ সংবাদ

x



ঢাকার দোহারে গান্ধীজি আশ্রম পরিদর্শন করেছেন ভারতের হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী দাশ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬:৩৪ অপরাহ্ণ | 58 বার

ঢাকার দোহারে গান্ধীজি আশ্রম পরিদর্শন করেছেন ভারতের হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী দাশ
ঢাকার দোহারে গান্ধীজি আশ্রম পরিদর্শন করেছেন ভারতের হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী দাশ

আজ দুপুর ২টার দিকে বাংলাদের সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপির আমন্ত্রণে দোহারে
গান্ধীজি আশ্রমে পরিদর্শন করেন বাংলাদেশের বিদায়ী ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী দাশ।

ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান আইজিপি ড.বেনজির আহমেদ।



স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচির মোস্তফা কামাল উদ্দিন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবীবুর রহমান বিপিএম বার পিপিএম, ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃঃ মারুফ হোসেন সরদার এসময় উপস্থিত ছিলেন ।

১৯৩৭ সাল বাংলা দিনপঞ্জিতে তখন ১৩৪৫ বঙ্গাব্দ। ইংরেজ শাসন শোষণের দাবানলে মুক্তিকামী ভারতবাসী ঐক্যবদ্ধ দেশ মাতৃকাকে মুক্তির জন্য অহিংসা চেতনার দিশারী, স্বদেশী আন্দোলনের মহান পুরোঠা হিন্দু, মুসলিম মিলনের মহান অগ্রদূত, ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী।

ব্রিটিশ খেদাও ভারত মাকে স্বাধীন কর, বিলেতি পণ্য বর্জন কর, স্বদেশী পণ্য গ্রহণ কর, এই ব্রত নিয়ে মালিকান্দা গ্রামে আগমন করেন গান্ধীজি।

এই মহান ব্যক্তির আগমনে পথকে প্রশস্থ ও বেগমান করেন তারই যোগ্য সহচর ডঃ প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ। তিনি পশ্চিম বাংলার প্রথম মূখ্যমন্ত্রী হিসাবে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ সাল হইতে ১৪ই জানুয়ারী ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত হন এবং দ্বিতীয় বারের মতো ১৯৬৭ সালের ২রা নভেম্বর আরেকবার মূখ্যমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হন। তিনি মালিকান্দা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ঘোষ পরিবারের কীর্তিমান সন্তান।

তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সমগ্র ভারত বর্ষের অভয় আশ্রম এসোসিয়েশন এর সভাপতি পদে আসীন থেকে কলকাতায় ১৯৮৩ সালের ১৮ই ডিসেম্বর ইহধাম ত্যাগ করেন।

স্বদেশী আন্দোলনকে বেগমান করার জন্য মহাত্মা গান্ধীজি দোহার উপজেলার মধুরচর গ্রামে একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এই ঘরটিতে মহাত্মা গান্ধীজি ভক্ত বৃন্দ নিয়ে বাস করতেন।

যতদূর জানা যায় তিনি ২(দুই) বার এই আশ্রমে অবস্থান করেছিলেন। প্রথম যখন আসেন তখন ১৯৩৭ সাল। সে সময় তিনি এখানে ৭ (সাত) দিন অবস্থান করেছিলেন।

অতঃপর ১৯৪৩ সালে ২য় বার এসে ৯ বা ১৩ দিন অবস্থান করেন। দেশী পণ্য উৎপাদনের মন্ত্রে ভারত বাসীকে উজ্জীবিত করতে নিজে চরকায় সূতা তৈরি করতেন। এবং দেশবাসীকে উৎসাহ যোগাতেন। আর্তপীড়িতদের সেবার জন্য এখানে ৫০ (পঞ্চাশ) শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন এবং শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে জাতিকে জাগ্রত করতে এখানে একটি হাই স্কুল করেছিলেন।

ভারত মহাদেশের কালজয়ী পুরুষ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধী ওরফে মহাত্মা গান্ধী এসেছিলেন এবং অত্র অঞ্চলের মানুষকে আন্দোলনের পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি এই অঞ্চলে এসেছিলেন কংগ্রেস নেতা প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ এর আমন্ত্রণে প্রায় সপ্তাহকাল তিনি অবস্থান করেন।

সে সময় তাহার সংগী ছিলেন সরোজিনী নাইডু, সীমান্ত গান্ধী, আঃ গাফফার খান ও আরো অনেকে। মহাত্মা গান্ধীজির অাহবানে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় একটি অভয় আশ্রম নির্মাণের। তৎকালীন প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ এর প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলে সকলে ঐক্যবদ্ধ হন। অত্র অঞ্চলে প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ ছিলেন সকলের অহংকার। সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কংগ্রেসের ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এই আশ্রম থেকে।

দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাহিত্যিক, সমাজ সেবকরাও এই অভয়াশ্রম পরিদর্শনে আসেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অমর কথা শিল্পী শরৎ চন্দ্র চট্টপাধ্যায় এর আগমন।

গান্ধীজি অভয় আশ্রম মহা-শ্মশান ঘাটের ২১ ( একুশ) শতাংশ ভূমি শুধুমাত্র অভয় আশ্রমের নামে রেকর্ডভুক্ত আছে। বাদ বাকী সমস্ত সম্পত্তি বিভিন্ন ব্যক্তি নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এখানে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। জরাজীর্ণ, ভেঙ্গে পরা এই আশ্রমটিকে সমাজ হিতৈষী ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় মেরামত করে গান্ধীজির স্মৃতি রক্ষার্থে একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়।

অতঃপর ১৯৯৭ সালে আজকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী এ্যাড আব্দুল মান্নান খান, এবং বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসমত কাদির গামা, ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সেক্রেটারি অজিৎ রায়কে সাথে নিয়ে এই আশ্রমটি পরিদর্শন করেন।

২৪মে ২০১৩ গান্ধীজি আশ্রম পরিদর্শনে আসেন ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব ডাঃ মনোজ কুমার মহাপাত্র।

তার সফর সঙ্গী ছিলেন বর্তমান নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্টের সভাপতি রাহা নব কুমার। এরপর স্থানীয় হিতৈষী যুবকেরা এটি দেখাশোনা করেন।

আজ সেই আশ্রমটি পরিদর্শন করেন ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ,

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি, আইজিপি ড.বেনজির আহমেদ।

অনুষ্ঠানের প্রথমেই বক্তব্য রাখেন বিদায়ী ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, ভারত বাংলাদেশ একে অপরের কাছের বন্ধু। ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক অটুট রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সু-সম্পর্ক বিদ্যমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার দোহারের মালিকান্দা এলাকায় গান্ধীজির আশ্রম পরিদর্শন কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ভারতের রাষ্ট্রদূত রীভা গাঙ্গুলী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যের পর বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন রীভা গাঙ্গুলী। এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি একটি ফলজ গাছের চারা এবং রীভা গাঙ্গুলী একটি বনজ চারা রোপন করেন।

বৃক্ষ রোপনের পর গান্ধীজি আশ্রমের ঘরটি পরিদর্শন করে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখান এবং গান্ধীজির আশ্রমের পুরো স্থানটির দৃশ্য অবলোকন করে ঘুরে দেখেন অতিথিরা।

আশ্রম পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল আইজিপি ডক্টর বেনজীর আহমেদ,

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিুবর রহমান বিপিএম বার পিপিএম, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
সরকারি নিদের্শনা তোয়াক্কা না করে বান্দুরা হলিক্রশ স্কুল এন্ড কলেজে চলছে পরীক্ষা

Development by: webnewsdesign.com