জনপ্রিয় সংবাদ

x

ডিসির যৌন কেলেঙ্কারিতে বিব্রত সরকার

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ২:২২ অপরাহ্ণ | 21 বার

ডিসির যৌন কেলেঙ্কারিতে বিব্রত সরকার
ডিসির যৌন কেলেঙ্কারির এই চিত্রে সরকার এখন বিব্রত

দেশে যৌন নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। নিজ সহকর্মী অথবা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছেন তারা। এমন বেশ কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত করছে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এসব ঘটনায় উপসচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তদন্ত ছাড়াও যৌন হয়রানির প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলার ঘটনাও ঘটেছে।

কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত খোদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। সরকারের শীর্ষ পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দুঃখজনক। যার বিরুদ্ধেই অভিযোগ আসুক না কেন তার তদন্ত করা হচ্ছে।

এবং দোষী হলে বিভাগীয় মামলা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ যৌন কেলেঙ্কারি ঘটনায় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনায় এসেছেন জামালপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর।

সম্প্রতি ওই ডিসির একটি নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে তার অফিসের একজন নারী কর্মচারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে দেখা যায়। তবে ঘটনা অস্বীকার ও ভিডিওটি সাজানো বলে দাবি করেন ডিসি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ডিসির আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ফেসবুক মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে ধারণ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ৩ আগস্টের।

এরপর গতকাল শনিবার আরও একটি ২৫ মিনিটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে একই সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখা গেছে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ঘটনা অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি সাজানো ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করলেও তিনি গুরুত্ব দেননি।

এরপরই বানোয়াট ভিডিওটি একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তবে ভিডিওটিতে দেখানো কক্ষটি অফিসের ভেতরে ডিসির বিশ্রাম নেওয়ার কক্ষ ও ভিডিওর ওই নারী তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক বলে স্বীকার করেন তিনি।

এর আগে অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রায় এক বছর ধরে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে আসছিলেন উপ-সচিব একেএম রেজাউল করিম রতন। এ ঘটনার মামলায় চার্জশিট প্রকাশের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এ সংক্রান্ত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজে প্রিন্সিপাল থাকা অবস্থায় এক ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে কৌশলে কোমল পানীয় খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করেন একেএম রেজাউল করিম রতন।

এসময় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন তিনি। পরে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টানা একবছর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন রেজাউল করিম রতন। ২০১৮ সালে পদোন্নতি পেয়ে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হন তিনি।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত ২৪ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অভিযোগে ওই ছাত্রী আরও জানান, গত ২ জুন বিকালে ধানমন্ডির ৮ নং ব্রিজ এলাকায় ওই উপসচিব তার নিজ গাড়ি দিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়।

এসময় গাড়ি থেকে নেমে ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং মারধর করলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই উপসচিবকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরে ওই ছাত্রী বাদি হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করে। এর পরও প্রতিদিনই ওই ছাত্রীকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

এছাড়া গত বছরের ২৪ অক্টোবর নাটোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলামুর রহমানের বিরুদ্ধে এক নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী নারী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযোগ— ডিসি তাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কুপ্রস্তাব ও রাতে সার্কিট হাউসে যাওয়ার জন্য চাপ দেন।

কুপ্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় তাকে দাপ্তরিকভাবে হয়রানি করেন। এর প্রতিকার চেয়ে ওই ম্যাজিস্ট্রেট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ সূত্র জানায়, ডিসি গোলামুর রহমান ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার কার্যালয়ের ওই নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে সমপ্রতি ফেসবুক মেসেঞ্জার এবং মোবাইল ফোনে কুপ্রস্তাব দেন। এ অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ডিসি বিভিন্নভাবে ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে হয়রানি করেন।

পরে ভুক্তভোগী ওই নারী ম্যাজিস্ট্রেট লিখিতভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবগত করেন। ফলে মন্ত্রণালয় তাকে অন্যত্র বদলি করে। এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর ২৬ নভেম্বর মোহাম্মদ গোলামুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দুমাস পূর্বে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার নারী সুবিচার প্রার্থনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করে। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মাঠ প্রশাসনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেয়। দুই দফা তদন্ত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মাঠ প্রশাসন।

ওই নারীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজের সাথে ওই নারীর বান্ধবীর মাধ্যমে গত বছরের মার্চ মাসে পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে তার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠলে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে।

একসময় ওই নারী গর্ভধারণ করলে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এসময় ওই কর্মকর্তা বিয়ে করতে গড়িমসি করতে থাকে। এর দুমাস পর ওই নারী আসিফ ইমতিয়াজের তৎকালীন কর্মস্থল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডিসি ইলিয়াস আহম্মেদ ও এডিসি আমিরুল কায়সারকে অবহিত করেন।

এসময় তাদের মধ্যস্থতায় সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বিয়ে করতে রাজি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে সামাজিক মর্যাদার সাথে বিয়ে না করে প্রতিনিয়তই হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টিও তদন্তাধীন বলে জনপ্রশাসণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

২০ বাংলাদেশিসহ ৯২ অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার মালয়েশিয়ায়

Development by: webnewsdesign.com