শুক্রবার ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডাক্তারকে ‘ভাই’ ডাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে শাসালেন মেডিকেল অফিসার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৮ এপ্রিল ২০২২ | প্রিন্ট

ডাক্তারকে ‘ভাই’ ডাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে শাসালেন মেডিকেল অফিসার

ডা. এম এম আশরাফ উদ্দিন তালুকদার

-প্রতিনিধি

ডাক্তার দেখাতে গিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসারকে ‘ভাই’ ডাকায় এক শিক্ষার্থীকে শাসিয়ে বেয়াদব বলার অভিযোগ উঠেছে ডা. এম এম আশরাফ উদ্দিন তালুকদারের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এক শিক্ষার্থী গত মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) চিকিৎসার জন্যে আশরাফ উদ্দিন এর কাছে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাথার দান মেডিকেল সেন্টারে ডাক্তারের কক্ষে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থী ‘ভাই’ ডাকেন।

এক পর্যায়ে ডাক্তার আশরাফ শিক্ষার্থীকে বলেন, ভাই ডাকা যাবে না। তুমিতো শুরুতেই বেয়াদবি করে ফেলেছো। এভাবে শিক্ষার্থীকে শাসানোর ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সমালোচনা শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

ভাই ডাকা যাবে না বলা কথাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন ডা. আশরাফ উদ্দিন তালুকদার বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীকে বলেছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো জানা তো উচিত কাকে কীভাবে ডাকতে হয়। ভাই তো ডাকা যাবে না। তবে আমি স্যার কিংবা বেয়াদব এই দুই শব্দ ব্যবহার করিনি।

তবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কাছে আসা একটি কল রেকর্ডে এই ডাক্তারকে বলতে শোনা গেছে, ঢুকেই তো একটা বেয়াদবি করে ফেলেছো। আমি ভাই বলতে না করেছি এবং স্যার ডাকতে বলেছি। স্যার ডাকতে বলেছি বলে কি অন্যায় হয়েছে? পড়াশোনা শেষ করে একদিন সবাইকেই জবে আসতে হবে। তখন বুঝবে আমি কেন ভাই বলতে না করেছি। নার্স, অফিস সহায়ককেও ভাই ডাকে সেখানে ডাক্তারকেও ভাই বললে কী রকম শোনা যায়না?

গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ডাক্তার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বলে দেয় যে শিক্ষক ছাড়া অন্য কাউকে স্যার ডাকা যাবে না। এর জন্যেই এরকম পরিস্থিতি হয়। স্যার কি কেবল তাদেরই বলা যায়? তবে অডিও কথোপকথন এর কথা বললে ডা. আশরাফ বলেন, এসব কথা শুনে আমি হয়তো স্থিরতা হারিয়ে ফেলে এসব বলতে পারি।

একাধিক শিক্ষার্থীও অভিযোগ তুলেছে এই ঘটনা সামনে আসার পর। বিশ্ববিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থী সুস্মিতা সরকার পিউ বলেন, ভর্তির পর আমার বিভাগের এক সহপাঠীর অসুস্থতায় যখন মেডিকেলে যাই আমিও ভাই ডেকেছিলাম। এর জন্যে তিনি আমায় বলেন- আমি ডাক্তার, আপনারা শিক্ষিত মানুষ হয়ে ভাই কি করে ডাকেন? ডাক্তারকে সম্মান দিতে জানুন। স্যার ডাকবেন।

আরেক শিক্ষার্থী ঝর্না আফরিন বলেন, ভাই বলেছিলাম বলে রেগে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো ম্যানার শেখো নাই? প্রথম বর্ষে ছিলাম তাই কিছু বলার সাহস পাই নাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র মেডিকেল অফিসারের পদে চাকরি করার পাশাপাশি ক্লাস নিতেন প্রাইভেট কোচিং সেন্টারেও। সেখানেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিলো শিক্ষার্থীদের বলে মন্তব্য করেছে কোচিং এ ক্লাস করা এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

কোচিং এ ক্লাস নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এই কর্মকর্তা। সরকারি বিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় অন্য লাভজনক কাজে যুক্ত থাকতে হলে সেটি অনুমতি নিয়ে এবং সেখান থেকে আয়ের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সেটি মানেননি এই মেডিকেল কর্মকর্তা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলের প্রধান ডাঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, উনি কোচিং এ ক্লাস নেন জানি। এটা নিতে পারেন কিনা আমার জানা নেই।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত থাকা সময়ে কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী নিতে পারবেন না উনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে প্রাইভেট ভাবে রোগী দেখায় ব্যস্ত থাকলেও নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে দেখা যায় না ডাক্তার আশরাফ উদ্দিনকে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:৫৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৮ এপ্রিল ২০২২

dhakanewsexpress.com |

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোঃ মাসুদ রানা হানিফ সম্পাদক