জনপ্রিয় সংবাদ

x

ডাকসুতে একচেটিয়া জয়ের আশা ছাত্রলীগের

বৃহস্পতিবার, ০৭ মার্চ ২০১৯ | ৪:৩০ অপরাহ্ণ | 57 বার

ডাকসুতে একচেটিয়া জয়ের আশা ছাত্রলীগের

দেশের দ্বিতীয় সংসদ খ্যাত আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসু নির্বাচনেও একচেটিয়া জয়ের আশা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। ডাকসুতে কেন্দ্র ও হল পর্যায়ে ছাত্রলীগের প্যানেল এককভাবেই শক্তিশালী অবস্থানে থেকে জয় পাবেন বলেই মনে করেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এমন কথাই বলছেন। ওই নেতাদের দাবি, গত কয়েক বছর ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির সঙ্গে একাত্ম হয়েছে ছাত্রলীগ। এ ছাড়া সংগঠনটির প্রতিপক্ষ সংগঠন ছাত্রদল দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে না থাকার কারণে নিজেদের জয় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন ছাত্রলীগের নেতারা।

জানা গেছে, ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনে ছাত্রলীগের সঙ্গে একই অবস্থানে অবস্থান করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রভিত্তিক (টিএসসি)  সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। যেখানে রয়েছে ছাত্রলীগ ও টিএসসিভিত্তিক ২২টি সংগঠনের সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম সম্মিলিত শিক্ষার্থী। যা এ নির্বাচনে ছাত্রলীগের অনেক বড় একটি শক্তি বলে ধরা হচ্ছে।

ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে বিগত কয়েক বছর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে বিভিন্ন কাজ করেছে ছাত্রলীগ। ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য মেডিকেল ক্যাম্প, তথ্য বুথ এবং ‘জয় বাংলা বাইক সার্ভিস’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশংসা পেয়েছে। এ ছাড়াও ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবার পরীক্ষা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। যার ফলে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একটি পজেটিভ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার ভাষ্য,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নবীন শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ ইতিমধ্যেই সক্ষম হয়েছে ছাত্রলীগ। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস প্রার্থী সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের সর্বাধিক জনপ্রিয় ছাত্রসংগঠন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে আপন পরিবারের মতো মনে করে। এ ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ে ছাত্রলীগ পাশে রয়েছে। আমরা সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে দর-কষাকষি করব এবং শিক্ষার্থীদের বেতন যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে ব্যাপারে আলোচনা করব। তাই আমরা মনে করি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সমর্থন করে।

এ দিকে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠন জাতীয়বাদী ছাত্রদলের ক্যাম্পাসে না থাকায় সংগঠনটির তেমন অবস্থা নেই বলেই মনে করেন ছাত্রলীগ নেতারা। ফলে প্রায় তিন দশক পর হতে চলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে রাখা ছাত্রলীগ হলে হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারলেও অন্যরা জোটবদ্ধ হয়েও পুরো প্যানেল দিতে পারেনি। এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হচ্ছেন অর্ধশতাধিক প্রার্থী।

ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলে রাখার বিষয়টিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষার্থী সংসদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডাকসু নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় হলে হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো আপত্তি নেই। সংগঠনগুলো বলছে, ভর্তির পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে থাকতে সংশ্লিষ্ট হলে সিটের নিশ্চয়তা চায়। ছাত্রলীগের একক আধিপত্য থাকায় তারা ছাড়া অন্য সংগঠন সিটের ব্যবস্থা করতে পারে না। এ কারণে অন্য সংগঠনগুলোতে কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে না। এতে ক্রমে দুর্বল হয়ে অনেক সংগঠন নামসর্বস্ব হয়েও পড়েছে।

ছাত্রলীগ ডাকসুতে পুরো প্যানেলের পাশাপাশি হলগুলোতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত থাকা ছাত্রদল ডাকসুতে প্যানেল দিলেও হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি, তবে দু-একটি পদে প্রার্থী দিয়েছে। বাম ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরাও হলে হলে আংশিক প্যানেল ঘোষণা করেছে।

ছাত্রলীগের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আব্দুর রহমান। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে গত ১০ বছরের বাংলাদেশের যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা ছাত্রলীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করবে।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের যে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা একাধিকবার বৈঠক করেছি। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সকল নেতামর্কীকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা সবাই প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। আশা করি জাতীয় নির্বাচনের মতোই ডাকসু নির্বাচনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রছাত্রীসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে একটি আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ জন্য সকল রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ দিকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রতিশ্রুতিমালা দিচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতারা। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়িয়ে জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডাকসুর ভিপি প্রার্থী ও ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। আর  নির্বাচনে বিজয়ী হলে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস পদ প্রার্থী গোলাম রাব্বানী। এক ডালা প্রতিশ্রুতি রয়েছে, ডাকসুর জিএস পদ প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর। যার মধ্যে রয়েছে, আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, শিক্ষা গবেষণা, খেলাধূলা ও সহশিক্ষা, সাংস্কৃতি ও চিত্ত বিনোদন, পরিবর্তন ও প্রচারণা এবং বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি।

Development by: webnewsdesign.com