সর্বশেষ সংবাদ

x



ঠাকুরগাঁওয়ের সামশুল স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও ভাষা সৈনিকের মর্যাদা পাননি

রবিবার, ২১ জুন ২০২০ | ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ | 67 বার

ঠাকুরগাঁওয়ের সামশুল স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও ভাষা সৈনিকের মর্যাদা পাননি
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আ.লীগ নেতা সামশুল হক।
sheikh rasel

ভাষা আন্দোলনে কৃতিত্বের কথা বেশ কিছু গ্রন্থে উঠে আসলেও স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হয়ে গেলেও ভাষা সৈনিকের মর্যাদা পাননি  ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আ.লীগ নেতা সামশুল হক। ভাষা সৈনিকের মর্যাদা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাঁর পরিবার।

জানা গেছে, সামশুল হক ১৯৩৩ সালের ২১ ডিসেম্বরে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বেলসাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে প্রবেশিকা( matriculation) পাশ করেন।



পরে তিনি ১৯৫৪ সালে দিনাজপুর এসএন কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন।উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকা কালীন সময়ে তিনি ৫৪’র যুক্তফন্ট্র নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের আ.লীগ নেতা সামশুল হক ভাষা আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ঠাকুরগাঁও হাই স্কুলের(বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়) প্রবেশিকা পরীক্ষার্থী ছিলেন।

তৎকালীন পাকিস্তানের গোটা পূর্ব বঙ্গের ন্যায় ঠাকুরগাঁওতেও ভাষা আন্দোলনের প্রভাব পরে। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন।বাংলা ভাষা রক্ষায় চলে হরতাল, মিটিং, মিছিল,পথ সভা,কালো পতাকা প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচী।

আর বাংলা ভাষা রক্ষায় এসব কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তৎকালীন ম্যট্রিকুলেশনের ছাত্র সামশুল হক। এ আন্দোলনে তৎকালীন পুলিশের হাতে আরো কয়েকজন ছাত্রসহ আটকও হয়েছিলেন তিনি।

আটকের পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পিতা তৎকালীন ওই স্কুলের প্রভাবশালী  শিক্ষক মির্জা রুহুল আমিনের কৌশলগত কারণে ও শক্তহস্তের দরুন মুক্তি পান সামশুল হক বলে জানা গেছে।

এরপরে ভাষা আন্দোলনে তাঁর কৃতিত্বের কথা বেশ কিছু গ্রন্থে উঠে আসলেও তিনি এখনও ভাষা সৈনিকের মর্যাদা পাননি।

তাঁর মৃত্যু হয় ২০০৪ সালের ৩১ মে। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে মেয়েদের রাষ্ট্রের প্রতি দাবি তাঁকে যেন ভাষা সৈনিকের সম্মান দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে তাঁর ছেলে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শাখার সভাপতি মোমিনুল হক ভাষানী বলেন, আমার মরহুম পিতার বর্ণাঢ্য জীবনের মধ্যে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ অন্যতম। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় ভাষা সৈনিকের সম্মান পাননি। তিনি আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সংগে জড়িত ছিলেন।

তিনি আরও জানান, ১৯৫২ সালে  বাংলা ভাষা রক্ষায় আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তাঁর বাবা। ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ১৯৭২ থেকে মৃত্যুর দিন (২০০৪ খ্রি.)পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী  উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে।তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি ১৯৭০ সাল হতে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত মুজিব আদর্শে সর্বদা মুজিব কোর্ট গায়ে ব্যবহার করেছেন।

এছাড়াও ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে বাকশালের থানা গভর্নর হিসাবে তাঁর নাম প্রস্তাবিত হয়। তাই  মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর প্রতি আমাদের পারিবারিক দাবি আমার বাবা সামশুল হককে ভাষা সৈনিক মর্যাদায় সম্মানিত করা হলে আমরা চিরকৃতজ্ঞ হবো।

উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কঠিন সময় আ.লীগের নেতৃত্ব প্রদান করেছেন তিনি। তাঁর মাধ্যমে সুসংগঠিত আ.লীগ এখন পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সুনামের সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
তেঁতুলিয়ায় জাল দলিল, ভূয়া ওয়ারিশানে রমরমাট ভাবে চলছে জমি ক্রয়ের পাঁয়তারা

Development by: webnewsdesign.com