জনপ্রিয় সংবাদ

x

টিস্যুর উপর ভর করা অলৌকিক আছর তাড়াতে পালিত হলো সম্মিলিত ঝাড়ফুঁক কর্মসূচি।

বুধবার, ০৬ মার্চ ২০১৯ | ১:২৪ অপরাহ্ণ | 159 বার

টিস্যুর উপর ভর করা অলৌকিক আছর তাড়াতে পালিত হলো সম্মিলিত ঝাড়ফুঁক কর্মসূচি।

সম্প্রতি ফেসবুকের আনাচে কানাচেতে ঘুরে বেড়ানো একটি ছবি আলোচনায় উঠে এসেছে। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, দুই জোড়া টিস্যু পেপারকে ১১+ জন উৎসাহী ব্যক্তি প্রবল উচ্ছ্বাসে ঝাড়ু দিয়ে আলোড়িত করছেন। চারটি টিস্যুর বিরুদ্ধে এই এগারোটি ঝাড়ুর ভূমিকা কী, সেই অংক মেলাতে চেষ্টা করে কাজী মারুফের মতোই কারো অংক মেলেনি। তাই এই রহস্য ক্র্যাক করতে মাঠে নেমে পড়ে eআরকি ক্র্যাকহেড টিম।

 

অত্রস্থলে eআরকির বিশেষজ্ঞ দলটি পৌছাবার পর তারা আবিষ্কার করে, সেই টিস্যুগুলো এখনো ধুলায় লুটিয়ে আছে। কিন্তু আশেপাশে বাতাস থেকে ভেসে আসছিলো পোড়ানো শুকনো মরিচ আর সরিষার তেলের পাতলা ঝাঁঝ। সে পথগামী একজন ব্যক্তিকে হঠাৎ সামনে পাওয়া গেলে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আমাদের বলেন যে, এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এক সম্মিলিত ঝাড়ফুঁক কর্মসূচি। সম্মিলিত অনেক কিছুর কথা আগে শুনলেও সম্মিলিত ঝাড়ফুঁকের কথা এর আগে কেউ শোনেনি। তাই eআরকিকরা শীঘ্রই ছুটে যান জাতীয় ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজ কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে।

11

আগের দিনে ঝাড়ফুঁকের কথা প্রায়ই শোনা গেলেও, বর্তমানে এইটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জিনিসগুলোর মাঝে একটি। এমন মন্দার দিনেও এত মহাসমারোহে ঝাড়ফুঁকের আয়োজন, তার উপর চারটি টিস্যুর উপর- ব্যাপারটি সত্যিই ভাবনাকে নাড়া দেয়। এই ঘটনার বৃত্তান্ত সম্পর্কে প্রধান কবিরাজের কাছে গেলে তিনি আমাদের বলেন, ‘এই টিস্যুগুলা বেশ কয়দিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলো। এক সন্ধ্যাবেলা ভাঁজখোলা অবস্থায় এগুলো নিচে উড়োউড়ি করছিলো। তারপর হঠাৎ কি যেন হলো, এগুলো টিস্যুর বাক্সে ফিরে এসে সময় অসময়ে মোচড়া মুচড়ি করতো। এগুলোতে হাত না মুছার পরেও দেখা যেত মসলাযুক্ত ঝোলের ছোপ। আর মাঝে মাঝে ডেস্কের উপর উঠে বিকৃত স্বরে খসখস ধ্বনি তুলতো। এই টিস্যুগুলোর এমন ব্যবহার দেখে অনেকের মনে খটকা জাগলো। কোন অস্বাভাবিক সত্তা এদের উপর ভর করেছে বলে তারা ভয় পেতে শুরু করেন। তারপরেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করলো এই টিস্যুর মালিকানার মানুষেরা।’

12

এই পর্যায়ে শুকনো মরিচ আর সরিষার তেল মাখানো মুড়ির প্লেট চলে আসলে সেগুলো মুখে দিতে দিতে আবার বলতে শুরু করেন, ‘তো এরপর আমরা ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। সেখানে গিয়ে দেখি, এই আছরাক্রান্ত টিস্যুগুলোর কয়েকটি ইতিমধ্যে সর্দি মোছার জন্য ব্যবহার করা হয়ে গেছে। বাকি চারটি টিস্যু পড়ে ছিলো বাইরের প্রাঙ্গণে। কে ওদের দলাইমলাই করেছে, জানতে চাইলে তারা আমাদের বলেন, এগুলো নিজে নিজেই মুচড়ে পড়ে আছে। এই পরিস্থিতি দেখে আমরা তড়িঘড়ি করে আমাদের আছরমিটার নিয়ে সার্ভে করা শুরু করলাম। আমাদের আছরমিটারে যেই রেজাল্ট দেখালো, তা দেখার জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। নিজের সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এগুলোর উপর ভর করেছে স্বয়ং ভূতের রাজা। আমরা তখন ভড়কে গেলাম। ছানাপোনা ভূতকে না হয় একজন দুজন মিলে ঝেড়ে বিদায় করা যায়। কিন্তু ভূতের রাজার সাথে আমরা কখনো লড়াই করি নি।’

10

‘কিন্তু ভয়ের কাছে কাবু হলে তো চলবে না। এই ভূত একবার রাজত্ব গড়তে পারলে অন্য নিরীহ টিস্যুরা চরম বিপদে পড়বে। তাই আমরা উপস্থিত জনতাদের মাঝে ভেঙ্গে বললাম পুরো ঘটনা। এই ভূত তাড়াতে দরকার সম্মিলিত ঝাড়ুর আঘাত। উৎসাহী জনতা আমাদের নিরাশ করলো না। তারা আনাচে কানাচে ঘেঁটে তুলে নিলো দশের উপর শলার ঝাড়ু। সামান্য সরিষার তেল আর শুকনা মরিচ পোড়া ছড়িয়ে আমরা লেগে গেলাম ভূতের রাজাকে তাড়াতে। টিস্যুগুলোর উপর নেমে এল এক অকল্পনীয় ঝাড়ুর ঝড়।’

ঝাড়ফুঁক সফল হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আমাদের বলেন, ‘দশে মিলে এই ঝাড়ফুঁক করলাম, সফল না হয়ে যাবে কোথায়? ভূতের রাজা কিছুক্ষণ পরেই রণে ভঙ্গ দিয়ে বললো, ‘এর চেয়ে eআরকির সাইটে ছিলাম, ভালো ছিলাম। আবার ফিরে যাই।’ তবে কয়েকটা ভূতের সাথে টিস্যুগুলোর অন্যরকম এক সম্পর্ক হয়ে যাওয়ায় তারা বিদায় নিতে পারে নি। তবে আরেকটা সেটিং দিলে ১০০% ভুতমুক্ত টিস্যু করতে পারবো।’

২০ বাংলাদেশিসহ ৯২ অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার মালয়েশিয়ায়

Development by: webnewsdesign.com