জনপ্রিয় সংবাদ

x

প্রধানমন্ত্রী একনেকে

ঝুঁকিপূর্ণ সকল রেল সেতু দ্রুত সংস্কার,তহবিল হবে খেলোয়াড়দের জন্য

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১০:০২ পূর্বাহ্ণ | 52 বার

ঝুঁকিপূর্ণ সকল রেল সেতু দ্রুত সংস্কার,তহবিল হবে খেলোয়াড়দের জন্য
ঝুঁকিপূর্ণ সকল রেল সেতু দ্রুত সংস্কার,তহবিল হবে খেলোয়াড়দের জন্য

সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ যত রেল সেতু ও কালভার্ট আছে, যত দ্রুত সম্ভব তা সংস্কার করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্ষার আগেই রেল সেতু সংস্কারের কাজ শেষ করারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কতগুলো সেতু আছে তা জরিপ করে বের করতে হবে। ’ এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর তালিকা আলাদা করে তা দ্রুত শেষ করতে রেলসচিবকে নির্দেশ দেন তিনি।

সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্ত নগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেস গত রবিবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় দুর্ঘটনায় পড়লে কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে। গতকাল একনেক সভায় বিষয়টি আলোচনা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

গতকালের একনেক সভায় ইংল্যান্ডে চলমান বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে আফগানিস্তানের সঙ্গে ৬২ রানের ব্যবধানে জয়ে ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান তিনি। খেলোয়াড়দের জন্য তিনি একটি তহবিল গঠন করারও নির্দেশ দেন। খেলোয়াড়দের জন্য আরো সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে বলেও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা যাতে সারা বছরই খেলার চর্চা করতে পারে, সে জন্য একটি তহবিল গঠন করতে অর্থসচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তহবিলের টাকা দিয়ে সারা বছরই প্র্যাকটিস করবে খেলোয়াড়রা। অনেক খেলোয়াড় বুড়ো বয়সে নানা ধরনের সমস্যায় পড়ে। খেলোয়াড়রা সবাই বয়সে এখন তরুণ। যে টাকা উপার্জন করে, তা জমায় না। খরচ করে ফেলে। বুড়ো বয়সে গিয়ে কষ্ট করে। এটা প্রধানমন্ত্রী হতে দেবেন না। ’

মাশরাফি, সাকিব আল হাসান, মুশফিকের প্রশংসা করার পাশাপাশি ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের কিশোরী ফুটবলারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। খেলোয়াড়রা অবসরে যাওয়ার পর বড় বড় ব্যবসায়ীরা যাতে তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করেন, সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ক্রিকেট নয়, এর বাইরে ফুটবল, ভলিবল, হকি, বাস্কেটবল—সব ধরনের খেলাকেই সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ আমাদের শ্যুটিং আর আর্চারিতে সম্ভাবনা আছে। শুধু পশ্চিমা আর্চারি নয়, আমাদের এখানে তীর, ধনুক, বল্লম রয়েছে। আমাদের সাঁওতালরা ব্রিটিশদের তীর, ধনুক দিয়ে তাড়াতে চেয়েছিল। সেই তীর, ধনুকও যাতে মরে না যায়, বিকশিত হয় সে জন্য তহবিল ও প্রশিক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ’ পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন খেলোয়াড়দের জন্য প্রকল্প নিয়ে আসতে একনেকে।

সরকার এখন যেভাবে খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করছে, পরবর্তী সময়েও সমান সহযোগিতা করা হবে, যাতে তারা নিচে পড়ে না যায়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জেলাগুলোতে মানুষ যাতে সরকারি সব সেবা একই ছাদের নিচে পায়, সেটি নিশ্চিত করতে একই ছাদের নিচে সব সরকারি সংস্থাকে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ জন্য সারা দেশে একই নকশায় বহুতল ভবনে অফিস স্থাপন করে সেখানে সরকারি সব সংস্থা আনার তাগিদ দিয়েছেন। এতে করে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজেও সমন্বয় আসবে।

সভা সূত্রে জানা যায়, গতকাল একনেক সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ২২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের ক্যাম্পাসে বহুতল ভবন নির্মাণসংক্রান্ত একটি প্রকল্প উপস্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ‘সরকারি টাকায় কর্মকর্তাদের জন্য অফিসার্স ক্লাবের উন্নয়ন কেন? অফিসার্স ক্লাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক টাকা আয় হয়। সে টাকা কোথায় যায়?’

তখন গণপূর্তসচিব বলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে যে টাকা ওঠে, তা দিয়ে ১৬ই ডিসেম্বর, ২১শে ফেব্রুয়ারির মতো সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়। অফিসার্স ক্লাবের তহবিলে এখন মাত্র ৬০ লাখ টাকা আছে। এই টাকা দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। তখন প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি অনুমোদনে সম্মতি দেন।

৬৯৬৭ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন : গতকাল একনেক সভায় ছয় হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ছয় হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ২৪১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪০ কোটি টাকা খরচ করা হবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো ২৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১টি রেল ইঞ্জিনের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প, ৪২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বামনডাঙ্গা (গাইবান্ধা)-শঠিবাড়ী-আফতাবগঞ্জ জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, তিন হাজার ৮২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জোনের প্রধান সংযোগ রাস্তা প্রশস্তকরণসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ, ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মানিকগঞ্জ বহুতল সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ, ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন, ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো এবং এক হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়েস্ট জোন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আপগ্রেডেশন প্রকল্প।

Development by: webnewsdesign.com