জনপ্রিয় সংবাদ

x

চুড়িহাট্টায় একসঙ্গেই পুড়েছিলেন দুই বান্ধবী দোলা-বৃষ্টি

বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৯ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | 76 বার

চুড়িহাট্টায় একসঙ্গেই পুড়েছিলেন দুই বান্ধবী দোলা-বৃষ্টি

রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের পর একসঙ্গে নিখোঁজ ছিলেন দুই বন্ধু ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টি ও রেহনুমা তারান্নুম দোলা। দুই সপ্তাহ পর আগুনে পোড়া লাশের মধ্যে বৃষ্টিকে শনাক্ত করা গেলেও পাওয়া যাচ্ছিল না দোলাকে।

অবশেষে তিন সপ্তাহ পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে দোলাকেও। দুই বান্ধবী একসঙ্গেই চুড়িহাট্টার আগুনে পুড়েছিলেন।

মঙ্গলবার দোলাসহ আরও পাঁচজনের মরদেহ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন। অন্য চারজন হলেন- হাজী ইসমাইল, ফয়সাল সারওয়ার, মোস্তফা ও মোহাম্মদ জাফর। এদিন সন্ধ্যায় পাঁচজনের লাশই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিন মেয়ে দোলার লাশ বুঝে নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন দলিলুর রহমান। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, নিখোঁজের পর থেকে একবারও মনে হয়নি দোলা অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছে। সবসময় মনে হয়েছে, দোলা হারিয়ে গেছে, হয়তো কোনো দিন ফিরে আসবে। ডাক দেবে বাবা বলে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফোন করে মেয়ের লাশ শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় পুলিশ। শুনেই যেন মাথায় পৃথিবী ভেঙে পড়ল।

মেয়ের কথা স্মরণ করে দোলার বাবা বলেন, দুই মেয়ের মধ্যে ওই ছিল বড়। ওই প্রথম বাবা ডাক শোনাইছে। সেই কলিজার টুকরার লাশ কিভাবে দাফন করব?

দোলার জন্য দোয়া চেয়ে তারা বাবা বলেন, এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দোলার মৃত্যু হবে কখনো ভাবিনি। যাদের গাফিলতিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান দোলার বাবা দলিলুর রহমান।

এদিকে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এদিন সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির প্রধান বলেন, মর্গে ৬৮টি মরদেহের ব্যাগ পায় সিআইডি। এর মধ্যে ৪৮টি মরদেহ শনাক্ত করায় তা হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২০টি ব্যাগ থেকে ও ২৩টি পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা নিয়ে পরীক্ষা শুরু করা হয়। পরীক্ষার পর প্রথম ধাপে ১১টি মরদেহের পরিচয় মেলে। আজ (মঙ্গলবার) আরও পাঁচটির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। সিআইডির কাছে বর্তমানে রয়েছে দুটি মরদেহ ও তিনটি পরিবারের ডিএনএ নমুনা। তবে দুই মরদেহের সঙ্গে এ তিন পরিবারের কারও ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। এগুলো মর্গে থাকবে। কেউ মরদেহগুলোর দাবি করলে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে মেলানো হবে বলে জানান শেখ হিমায়েত।

সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাকি চারটি ব্যাগের মধ্যে একটিতে যে হাতের বিচ্ছিন্ন অংশ ছিল সেটা ছিল ২৩ নম্বর মরদেহের, যা আগেই হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া ৬৬ নম্বর ব্যাগটিতে তিনটি অঙ্গের খণ্ডাংশ ছিল, এগুলো মরদেহ নম্বর ৮ ও ১৩ এর শরীরের অংশ। এই দুটি মরদেহও আগে হস্তান্তর করা হয়। ফলে গত ২০ ফেব্রুয়ারির ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৭টি লাশ উদ্ধারের কথা বলা হলেও ৬৬টি হবে। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন চারজন। ফলে এ পর্যন্ত ওই ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৭১ জন।

Development by: webnewsdesign.com