শনিবার ২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২ | প্রিন্ট

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১১

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী মহানগর প্রভাতি ট্রেন পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার ঠেলে নিয়ে যায়। গতকাল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এই দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসের ১১ আরোহী নিহত হয়েছে।

-সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঝরনা দেখে ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা ১১ পর্যটক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাতজন। তারা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনজনের অবস্থা গুরুতর। আহত সাতজন হাসপাতালে ভর্তি, সাড়ে চার ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ, তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গেটম্যান আটক ।

গতকাল শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামের ঝরনা এলাকার লেভেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা খান মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনার সময় লেভেলক্রসিংয়ের গেটবার দেওয়া ছিল না, গেটম্যানও ছিলেন না। এ সময় দ্রুতগতির মহানগর প্রভাতি ট্রেনটি মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার ঠেলে নিয়ে যায়। মহানগর প্রভাতি ট্রেনের যাত্রী কলেজছাত্র কলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি ট্রেনের সামনের দিকে ছিলাম। তখন হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ ট্রেনের সামনে একটি মাইক্রোবাস পড়ে গেলে দুর্ঘটনা ঘটে। গেটবার আমি দেখিনি। ’ তবে রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনার সময় গেটবার দেওয়া ছিল। মাইক্রোবাসের চালক গেটবার সরিয়ে লেন পার হওয়ার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনা ঘটে।

হতাহতদের প্রায় সবাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার যুগীরহাট এলাকার আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টারের ছাত্র-শিক্ষক। নিহতরা হলো হাটহাজারীর আবদুর আজিম সাবরেজিস্ট্রারবাড়ির মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে মাইক্রোবাসের চালক গোলাম মোস্তফা নিরু (২৬), হাজি জালাল কোম্পানিবাড়ির মো. ইলিয়াছ ভুট্টোর ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. হাসান (১৭), বজল কন্ট্রাক্টরবাড়ির মোজাফফরের ছেলে মোহসাব আহমেদ হিসাম (১৬), শিকারপুরের মোতাহের হোসেনের ছেলে শিক্ষক মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পারভেজের ছেলে শিক্ষার্থী সাগর (১৮), লাইনম্যান কবিরের বাড়ির আবদুস শুক্কুরের ছেলে শিক্ষার্থী আয়াতুল ইসলাম (১৯), আবদুল ওয়াদুদ মাস্টারবাড়ির আবদুল মাবুদের ছেলে শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন মারুফ (১৮), মাহিন (১৭), লাইনম্যান কবিরের বাড়ির আবদুল হামিদের ছেলে শিক্ষক জিয়াউল হক সজিব (২২), আজিজ মেম্বারের বাড়ির জানে আলমের ছেলে ওয়াহিদুল আলম জিসান (২৩) এবং মজিদ আব্বাস চৌধুরীবাড়ির বাদশা চৌধুরীর ছেলে শিক্ষক রিদোয়ান চৌধুরী (২২)। আহত ব্যক্তিরা হলো জুনায়েদ কাউছার, শেরশাহ কলোনির মো. সুলাইমানের ছেলে গাড়ির হেল্পার তৌকির ইবনে শাওন, মনসুর আলমের ছেলে মো. মাহিম, আয়াত, নাহিদুল, আবদুল রহিমের ছেলে তানভির হাসান হূদয় এবং আবদুল আজিজ সাবরেজিস্ট্রারবাড়ির মৃত পারভেজের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসমির হাসান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকালে আমান বাজার এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে খৈয়াছড়া ঝরনা দেখতে যায় মাইক্রোবাসের চালক, হেল্পারসহ ১৮ জন। ঝরনা দেখা শেষে দুপুর পৌনে ১টার দিকে তারা ফিরছিল। পথে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতি তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনার পরপরই মিরসরাই থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। বিকেল ৫টা নাগাদ মাইক্রোবাসটি রেললাইন থেকে অপসারণ করা হয়। বিকেল সোয়া ৫টা নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) লাবিব আব্দুল্লাহ দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে ১১ জন। তারা সবাই হাটহাজারীর আমান বাজার থেকে ঝরনা দেখতে এসেছিল।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সময় গেটবার দেওয়া ছিল। মাইক্রোবাসের চালক গেটবার সরিয়ে লেন পার হওয়ার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোহাম্মদ আনসার আলী। চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি নাজিম উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকার লেভেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে।

বিকট শব্দে চোখ খুলে দেখি সব শেষ :

‘খৈয়াছড়া ঝরনা ঘুরে আসার পথে আমি বমি করার কারণে ঘুমিয়ে পড়ি। আমরা চার-পাঁচজন মাইক্রোবাসের ভেতরে পেছনের সিটে ছিলাম। আজানের পর হঠাৎ বিকট শব্দ হলে চোখ খুলে দেখি সব শেষ। মনে হয়, আমরা যারা পেছনে ছিলাম তারাই বেঁচে আছি। ’ গতকাল বিকেলে কথাগুলো বলেন চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তানভির হাসান হৃদয়।

হৃদয়কে ওয়ার্ডে ভর্তির পর মিনি অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ওয়ার্ডে রাখা হয়। তার পাশে মাসহ পরিবারের সদস্য ও কিছু সহপাঠী ছিল। হৃদয় স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

 

সেই মাইক্রোবাসের আরোহী তরুণরা। গতকাল দুপুরে খৈয়াছড়া ঝরনা দেখতে গাড়িতে চড়ার আগে হাটহাজারীর ফকিরহাট কলেজ রোড এলাকা থেকে তোলা। ছবি : সংগৃহীত

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:৫৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২

dhakanewsexpress.com |

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
মোঃ মাসুদ রানা হানিফ প্রকাশক ও সম্পাদক
অফিস

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় ৮৯/আই/১, আর কে মিশন রোড, গোপীবাগ (৭ম গলি) ঢাকা-১২০৩।

হেল্প লাইনঃ ০১৭২০-০০৮২৩৪, ০১৯২০-০০৮২৩৪

E-mail: dhakanewsexpress@gmail.com, dhakanewsexpress1@gmail.com