সর্বশেষ সংবাদ

x



সরকারি নির্দেশ অমান‌্য !

ঘটা করে সিভিল সার্জনের মেয়ের বিয়ে !

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২০ | ৪:১০ অপরাহ্ণ | 138 বার

ঘটা করে সিভিল সার্জনের মেয়ের বিয়ে !
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়েই বাড়ির মূল গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয় । - ছবি-ঢাকা ট্রিবিউন

করোনারভাইরাস (কোভিড-১৯) আতঙ্কে সারাদেশের মানুষ যখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে, দেশের সরকার যখন সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সে সময়ে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ব্যাপক জনসমাগমের মাধ্যমে নিজের মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন ব্রাহ্মবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে জেলা শহরের দাতিয়ারা ফারুকী পার্ক সংলগ্ন সরকারি বাসভবনে এই বিয়ের আয়োজন করেন সিভিল সার্জন। বিয়ের আয়োজনে শামিল হয়েছেন রাজনৈতিকনেতা, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জেলার বিভিন্ন এলাকার চিকিৎসক, ক্লিনিক মালিক, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিসহ স্থানীয় অনেকেই। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিয়েতে তিন শতাধিক অতিথিকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল।



দেশের এই দুঃসময়ে ঘটা করে চিকিৎসক তার নিজের মেয়ের আয়োজন করায় সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

তবে বিয়ে প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, “এটি সাদামাটাভাবে ঘরোয়া আয়োজন করা হয়েছে। বিয়েতে কোনো জনসমাগম হয়নি।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের চাপুইর গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন মোল্লার প্রকৌশলী ছেলে মইনুল হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সিভিল সার্জনের মেয়ে দন্ত চিকিৎসক শাননিন আলম মমোর বিয়ের আয়োজন করা হয়।

আয়োজনে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শুরু হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও খাবার পর্ব। দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাঈদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ফায়েজুর রহমান, গাইনি চিকিৎসক ফৌজিয়া আক্তার, মেডিকেল অফিসার সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আজহারুর রহমান ও খোকন দেবনাথ।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন ক্লিনিকের একাধিক দল, খ্যাতিমান ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মচারিসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্মচারিরা বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বিয়ে বাড়ির আশপাশে সাংবাদিকদের আনগোনা সিভিল সার্জনের সরকারি বাসভবনের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু আমন্ত্রিত অতিথি ব্যতীত বিয়ে বাড়িতে অপরিচিত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফটকের বাইরে সিভিল সার্জন শাহ আলম নিজেই পায়চারি করছিলেন।

এ সময় ঢাকা ট্রিবিউনের এই প্রতিনিধিকে দেখে চমকে উঠেন তিনি। এমন সময়ে বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলেই উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বরেন, “আমি কি মেয়ের বিয়ে দেব না।”

নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিয়ে বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাওয়া আসা এক রাজনৈতিক নেতা জানান, বাহিরে বুঝার উপায় নেই ভেতরে বিশাল আয়োজন। মূল গেইটের ভেতরে ফুল দিয়ে একটি ছোট তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। আর বাড়ির ভেতরে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। খোলা জায়গায় ৮ থেকে ১০টি বড় পাতিলে সম্পন্ন হয়েছে রান্নার কাজ।

এ ব্যাপারে টিআইবি সহযোগী সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি আব্দুন নূর বলেন, “করোনাভাইরাস আতঙ্কে সারাদেশে জনজীবন যখন থমকে যাওয়ার উপক্রম, আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ মানুষ, কয়েকটি স্থান লকডাউন হয়েছে, ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে গণজমায়েতসহ লোক সমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ঠিক এমন সময় এই আয়োজন কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না “

তিনি বলেন, “বিভিন্ন স্থানে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি (সিভিল সার্জন) নিজেও সেই নির্দেশনার পক্ষে সায় দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি তার মেয়ের বিয়ের আয়োজন করে সেই গ্রহযোগ্যতা হারিয়ে ধৃষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “গত পাঁচদিন আগে থেকে শুনেছি বিয়ের আয়োজন চলছে। আজ সিভিল সার্জন তার কন্যাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দিয়েছেন। এ ঘটনায় আমি বিব্রত। এর বেশি আর কিছু বলতে চাই না।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন শাহ আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এক মাস আগেই বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমি কি আমার মেয়েকে বিয়ে দেব না।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বৃহস্পতিবার মেয়ের গায়ে হলুদ হয়েছে। আজ আকত্ বিয়ে। আমরা দশ ভাই-বোন। তাদের ছেলে মেয়ে ২৭ জন। কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন আছে। আমি বাবা হয়ে কীভাবে মেয়ের বিয়ে বন্ধ করে দেই? পরিবারের অনেক সদস্য ও বিশিষ্টজনদের দাওয়াত দিতে পারিনি।”

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন,“আইন সবার জন্যেই সমান। তিনি এই আয়োজন করে থাকলে উনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। করোনাভাইরাসের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। কেউই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি।”

সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
নাঙ্গলকোট পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Development by: webnewsdesign.com