রবিবার ২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায় শেষ

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর ইলিয়াস আহমেদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক :   |   রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর ইলিয়াস আহমেদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের অভিযোগ

গণপূর্তের আজিমপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর মো. ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঠিকাদারকে হয়রানি করায় গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একজন ভুক্তভোগী ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ করেছেন। আর ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগকারীকে কালো তালিকাভুক্তকরণের প্রস্তুতিসহ তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং গণপূর্ত বিভাগের কোথাও ঠিকাদারির কাজ করতে না দেয়াসহ হয়রানি করার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কিন্তু দু মাস পেরেয়ে গেলেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অধিদপ্তর থেকে লোক দেখানো তদন্ত কমিটি করলেও দৃশ্যমান হয়নি এর কার্যক্রম। ফলে ভুক্তভোগী পল্টু দাস সঠিক বিচার পাবেন কিনা তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

তদন্ত কমিটিতে তাকে ডাকা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে পল্টু দাস বলেন, তদন্ত কমিটি হয়েছে বলে জেনেছি। একটি চিঠিও পেয়েছি। তবে তারা এখনো ডাকেনি আমাকে।

তদন্ত কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) নন্দিতা রাণী সাহা ঢাকা নিউজ এক্সপ্রেসকে বলেন, ঠিকাদার পল্টু দাসের অভিযোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি আরও সময় চেয়েছে বলে জানান তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রাণী সাহা।

সূত্র মতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএ আলী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী পল্টু গত ২৯ মার্চ ইলিয়াস আহমেদের বিরুদ্ধে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, ই-জিপি টেন্ডারে আজিমপুর বিভাগে একটি কাজ পাই। নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস আহমেদ আমাকে ডেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ শেষে বিল দাখিলের পর আবারও মোট বিলের ১০ শতাংশ টাকা দাবি করেন ইলিয়াস। বিল পাওয়া নিয়ে ঝামেলা হবে ভেবে বাধ্য হয়ে প্রকৌশলী ইলিয়াসকে ৫৫ হাজার টাকা ঘুষ দেই।

ঠিকাদারের অভিযোগ, ইলিয়াস আহমেদের হাত অনেক বড়। তিনি প্রকাশ্যেই বলে বেড়ান, অনেক টাকা খরচ করে ওই পদে টিকে আছেন তিনি। সহজেই তাকে সরানো যাবে না। অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস আহমেদের চেয়ারের নাকি ছয়টি পা। দুই পা তার এবং চার পা চেয়ারের। তাই ছয় পা যে চেয়ারের রয়েছে, সেই চেয়ারকে সহজে কেউ নাড়াতে পারবে না দম্ভের সাথে এই কথাগুলো বলেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

অভিযোগকারী ঠিকাদার পল্টু দাস ঢাকা নিউজ এক্সপ্রেসকে বলেন, দুর্নীতি করে ‘রাঘব বোয়াল’ হয়েছে ইলিয়াস আহমেদ। নিজ হাতে ঘুষ নিয়েছেন তিনি। এর বাইরে কোনোভাবেই তিনি বিল দিতে রাজি হননি। পরে আরও ঘুষ দাবি করলে আমি রাজি হইনি। এজন্য তিনি বিল কম দিয়েছেন। অথচ পুরো কাজই শেষ করতে হয়েছে আমাকে।

পল্টু দাস আরও বলেন, গত কিছুদিন আগে ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলারের মাধ্যমে মুঠোফোনে আমাকে নির্বাহী প্রকৌশলীর অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য বলেন। কাউন্সিলার বলেন এ বিষয়টি এখন আমি দেখব। তুমি এ ব্যাপারে কথা বলবা না। তখন পল্টু দাস বলেন আমার চোখের ক্ষতি হয়েছে এছাড়াও আমাকে সম্পুর্ণ বিল দেওয়া হয়নি। আমার অপমান করা হয়েছে এ বিচার আমি চাই।

বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলীর যে কোন অপকর্মের বিষয়ে আজিমপুর গণপূর্তের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কায়সার কবির সমাধান করে থাকেন। কায়সার কবির হলেন নির্বাহী প্রকৌশলীর সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর ক্যাশিয়ার হিসেবেও কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এসও মামুন নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে সকল প্রকার টেন্ডার দিয়ে থাকেন এবং সকল গোপন কাজকর্মের হিসাব নিকাশ করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

dhakanewsexpress.com |

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোঃ মাসুদ রানা হানিফ সম্পাদক