সোমবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

খনি শিল্পে কর ন্যায্যতার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট

খনি শিল্পে কর ন্যায্যতার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

খনি শিল্পে কর ন্যায্যতার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

-প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের উদ্যোগ নিষ্কাশন শিল্পে  কর ন্যায্যতার দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড বদরুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগরের সভাপতি আবুল হোসেন, বাংলাদেশ শ্রমিক   ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এএএম ফয়েজ হোসেন, জাতীয় চাষী সমিতির আহ্বায়ক সুলতান বিশ্বাস, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশিদ, মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সালেহা ইসলাম শান্তনা ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হাওলাদার, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের  সহ-সভাপতি রেহানা বেগম, বাংলাদেশ আদিবাসি সমিতির সভাপতি অমলি কিস্কু, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতা দুলাল মিয়াঁ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে  বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে অন্যান্য খাতের বিভিন্ন কোম্পানিগুলোতে যেমন কর ন্যায্যতা নেই তেমনি নিষ্কাশন শিল্প তথা খনি কেন্দ্রীক খাতগুলোতে নিয়োজিত দেশী-বিদেশী কোম্পানিগুলোতে কর ন্যায্যতা নেই। কর ন্যায্যতার এ অভাব জনজীবনে বঞ্চনা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে মূলতঃ কয়লা, তেল ও গ্যাসকে কেন্দ্র করে এ শিল্পের বিকাশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ফসিল ভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদন এ শিল্পের ন্যাযতাই আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। তথাপি যতক্ষণ এটা টিকে থাকবে ততক্ষণ অবশ্যই ন্যায় ভিত্তিক হতে হবে। এ শিল্পে  কর্পোরেশনগুলো যে মুনফা-অতিমুনাফা করে  তা করের আওতার বাইরে থাকতে পারে না। অধিকন্তু এ ধরনের লাভজনক শিল্পে কর সুবিধা বা কর অবকাশ দেয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। কিন্তু গতানুগতিকভাবে এ শিল্প সুবিধাগুলো পেয়ে আসছে যা কিনা কর অন্যায্যতা ঘটায়। এতে করে জনগণের করের উপর যে অধিকার তা হরন করে।

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড় পুকুরিয়ার কয়লার খনির শ্রমিকদের জীবনমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এ খাতিটি  প্রশ্নবিদ্ধ। সেখানের শ্রমিকদের বেতনভাতা ন্যায্যতার মানদন্ডে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালে অবস্থিত তেল-গ্যাস ক্ষেত্রের অবস্থাও একই। তদুপরি এটি একটি উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি যা বিশ্বে বর্তমানে তীব্র সমালোচিত ও বাতিলযোগ্য।

এতদসত্ত্বেও খনি ও কুপ অঞ্চলের জনগোষ্ঠী বিরূপ পরিস্থিতির শিকার। খনির বিস্তারসহ নানান রকম প্রভাবে এলাকার জনগণ ও আদিবাসী  জনগোষ্ঠী স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছে। তাদের জীবন-জীবীকা হুমকির মুখে পতিত হয়েছে। বিভিন্ন সময় খনিতে দূর্ঘটনায় যেসব শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের ক্ষতিপূরণও যথাযথভাবে দেয়া হয় না। তাছাড়া এ শিল্পের রয়েছে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত দায়। এ শিল্প বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। যা পরিশেষে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটায়। এ শিল্প হতে সময়ের পরিক্রমায় বের হয়ে আসতে হবে। গ্রহণ করতে হবে  বিকপ্ল জ্বালানী ব্যবস্থা। যা  আমাদের পরিবেশ, প্রতিবে্শ, জনগণ ও পৃথিবীকে বাঁচিয়ে  রাখবে।

খনি শিল্পের এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি সমূহঃ

১। খনি শিল্পে কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা কর
২। করের অর্থ জনগণের স্বার্থে ব্যবহার কর
৩। এ শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ভাতাদি দাও
৪। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী ও শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দাও
৫। পুনঃনবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য বিদ্যমান জ্বালানী ব্যবস্থাকে যৌক্তিকীকরণ কর
৬। এ শিল্পে কর ফাঁকি বন্ধ কর
৭। খনিজ ও জ্বালানি শিল্পে কর সুবিধা বন্ধ কর
৮। খনিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী কে পুনর্বাসন কর
৯। কর্পোরেশনের অতি মুনাফার উপর কর আরোপ কর
১০। পৃথিবী ও জনসমাজকে রক্ষায় কর কাজে লাগাও

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:৪০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২

dhakanewsexpress.com |

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোঃ মাসুদ রানা হানিফ সম্পাদক