শুক্রবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

‘কেউ ঝামেলা করতে এলে মুসলিমরা প্রতিহত করেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট

‘কেউ ঝামেলা করতে এলে মুসলিমরা প্রতিহত করেন’

একই স্থানে মসজিদ ও মন্দির। নির্বিঘ্নে নিজেদের ধর্ম পালন করেন উভয় ধর্মের অনুসারীরা।

-প্রতিনিধি

মসজিদে জোহরের আজান দিচ্ছেন মোয়াজ্জিন। লাগোয়া মন্দিরে তখন শুনশান নীরবতা। দুর্গাপূজার নবমীতে পূজারিরা মণ্ডপে আসছেন, পূজা দিচ্ছেন, পুরোহিতের কাছ থেকে প্রসাদ নিচ্ছেন। অন্যদিকে মসজিদে ছুটছেন মুসলিমরা।

ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত নড়াইল। এখানকার মহিষখোলায় একই স্থানে মন্দিরে চলে পূজা আর মসজিদে নামাজ। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই অভ্যাসে কারো ধর্মচর্চায় কোনো ছেদ পড়েনি।

একইভাবে, সন্ধ্যায় মাগরিব শেষে নামাজিরা মসজিদ থেকে বাড়ির পথে রওনা দিলেই শুরু হয় পূজার বাদ্য-বাজনা আর আরাধনা।

নড়াইল পৌর এলাকার মহিষখোলা সর্বজনীন দুর্গামন্দির আর মসজিদ একই স্থানে। শহরের পুরাতন সাব-রেজিস্ট্রি এলাকার একই চত্বরের দুই পাশে আলাদা দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় মুসলিম ও পূজারিদের কখনো কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। এরা যেন একে অন্যের পরিপূরক হয়ে আছে। পাশ দিয়ে বয়ে চলা চিত্রা নদী ধর্মীয় এই সম্প্রীতির সাক্ষ্য রাখছে।

মসজিদের মোয়াজ্জিন ও খাদেম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের আজান ও নামাজের সময়সূচি তৈরি করেছেন তারা। সেই মতে পূজা চলে, আমরাও নামাজ পড়ছি নির্বিঘ্নে। আমরা খুব শান্তিতে ধর্ম পালন করছি।

মহিষখোলা পুরাতন সাব-রেজিস্ট্রি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. ইনামুল হক বলেন, কয়েক বছর ধরে এখানে মসজিদ ও মন্দির রয়েছে। এ পর্যন্ত ধর্ম পালনে কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করি, আগামীতেও হবে না।

মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষক প্রলয় কুমার ভৌমিক বলেন, নদীর বাধাঘাটে আমরা পূজার সরঞ্জাম ধুয়ে পবিত্র করি, মুসলিম ভাইয়েরা একই জায়গায় অজু করেন। এটা আমাদের সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন যুগ যুগ ধরে থাকুক তাই চাই।

মন্দিরের পুরোহিত অমরকৃষ্ণ সমাদ্দার বলেন, তাদের নামাজ আর আমাদের পূজার নাচ-গানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, বরং কেউ আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করতে এলে মুসলিমরা তা প্রতিহত করেন।

নড়াইলে এসে একই স্থানে মসজিদ আর মন্দির স্থাপনের খবর পেয়ে নবমীতে পরিবার নিয়ে নড়াইলের এই মন্দিরটি পরিদর্শনে আসেন খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি নিজামুল হক মোল্লাসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন এ বিষয়ে বলেন, সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমাদের নড়াইল। এটাই পুরো বাংলাদেশের চিত্র হওয়া উচিত।

অতিরিক্ত ডিআইজি নিজামুল হক মোল্লা বলেন, আমি অভিভূত। নিজেই দেখলাম, আজানের সময় সব কেমন নিশ্চুপ হয়ে গেল। আমি যেখানে যাব, সেখানেই ধর্মীয় সম্প্রীতির এই দৃষ্টান্তের কথা বলব।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:০১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২

dhakanewsexpress.com |

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোঃ মাসুদ রানা হানিফ সম্পাদক