সর্বশেষ সংবাদ

x



কৃষি বিভাগ শৈলকুপায় প্রতারণা করেও ৬ মাস হয়ে যাচ্ছে কোন তদন্ত হচ্ছে না !

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০ | ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ | 53 বার

কৃষি বিভাগ শৈলকুপায় প্রতারণা করেও ৬ মাস হয়ে যাচ্ছে কোন তদন্ত হচ্ছে না !
কৃষি বিভাগ শৈলকুপায় প্রতারণা করেও ৬ মাস হয়ে যাচ্ছে কোন তদন্ত হচ্ছে না !

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বীজ উৎপাদন মৌসুমে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। জানা গেছে, বীজ গবেষণায় দেশীয় উন্নতমানের জাত প্রসারের জন্য বারী-১ (তাহেরপুরী) পেঁয়াজ বরাদ্দ হলেও প্রদর্শনীপ্লটে উৎপাদন হয়েছে লাল তীর পেঁয়াজ। বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়ায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে এলাকার কৃষকগণ দাবি করেন। উপজেলার ৭নং হাকিমপুর ইউনিয়নের সাধুহাটি গ্রামের মাঠে উন্নত বীজ উৎপাদনের লক্ষে চলতি অর্থ বছরে কৃষি অফিস ১ একর জমিতে বারী পেঁয়াজ-১ প্রদর্শনী প্লট তৈরি করে। চাষী মনিরুল ইসলাম জানান, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনোজ কুমার তাকে চাষাবাদে নানাভাবে সহযোগিতা করার আশ^াস দিয়ে বারী পেঁয়াজ-১ বীজ উৎপাদনে উৎসাহীত করে। কিন্তু সে সময় তথ্য গোঁপন করে বারী পেঁয়াজ-১ এর পরিবর্তে ৩৫ মন লালতীরের বীজ সরবরাহ করে উক্ত কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্রে জানা যায়, বারী পেঁয়াজ-১ এর প্রদর্শনী প্লট করে কৃষি বিভাগের একান্ত নজরে আসতে চেয়েছিল কনোজ কুমার। কিন্তুু চাষী মনিরুল ইসলাম বারী পেঁয়াজ-১ প্লট উৎপাদনে আগ্রহ না দেখালে তাকে ভুলভাল বুঝিয়ে প্লটের জমি নির্দিষ্ট করে লালতীরের বীজ লাগিয়ে দেওয়া হয়। উক্ত জমিতে বারী পেঁয়াজ-১ এর সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে কৃষি বিভাগের চোখে ধূলা দেয় কনোজ কুমার। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনোজ কুমার লালতীর (প্রাঃ) কোম্পানীর নিকট থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য গোঁপনে বীজ বদলে দিতে পারে বলে সন্দেহ উঠেছে। ১০-১২-২০১৯ তারিখে চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের লক্ষে সাধুহাটি মাঠে ১ একর জমিতে প্রদর্শনী প্লটের কার্যক্রম শুরু হয়। উক্ত প্রদর্শনী প্লট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে নিয়ে আসতে সাধুহাটি এলাকাবাসীর নিয়ে চাষী পর্যায়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সে সময় বীজপ্লটের বাড়ন্ত গাছ দেখলেও কর্মকর্তাগণ লালতীরের বিষয়টি অনুধাবন করেননি, দিনে দিনে বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকা সহ অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। একপর্যায়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগে অফিসকার্য সীমিত হওয়ার ইস্যুকে কাজে লাগিয়েছে কৌশলী কনোজ কুমার। তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ম্যানেজ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধুহাটি গ্রামের চাষী বাচ্চু মন্ডল জানান, প্রদর্শনী প্লটে লাল তীরের বীজ আবাদ হয়েছে সবাই জানে তবে কি কারনে বারী-১ এর সাইনবোর্ড তা সাধারণ চাষীদের বোধগম্য নয়। বিল্লাল সেখ নামে অন্য চাষী বলেন তারা ভেবেছেন হয়তো লালতীরের বৈজ্ঞানিক নাম বারী পেঁয়াজ-১ সে কারনে বিষয়টি কেউ আমলে নেয়নি। তাছাড়া প্লট মালিকের চাচাতো ভাই কমির উদ্দিন জানান, এ প্রদর্শনী প্লটে লালতীরের বীজ উৎপাদন হচ্ছে কিন্তুু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সে গ্রামের অনুষ্ঠানে চাষীদের উক্ত প্লট মালিকের নিকট থেকে বারী পেঁয়াজ-১ (তাহেরপুরী) এর বীজ সংগ্রহের কথা বলে গেছেন। একই এলাকার চাষী নজরুল ইসলাম প্রশ্ন রেখে বলেন, আবাদ হয়েছে লালতীর বীজ অথচ কর্মকর্তাগণ বারী-১ (তাহেরপুরী) পেঁয়াজ বীজ ক্রয়ে উৎসাহ দেওয়ার নেপথ্য কি ? অন্যান্য চাষীরা জানান, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনোজ কুমার তথ্য গোপন করে চাষীকে ভুলভাল বুঝিয়ে সরকারের বীজ উৎপাদন গবেষণাকে বিতর্কিত করতেই হয়তো প্রাইভেট কোম্পানীর বীজে উৎপাদনে সহযোগিতা করছেন। চাষীরা আরো জানান, তাহেরপুরী পেঁয়াজ অনেক ভাল অধিক ঝাঁঝ, কন্দের আকার চেপ্টা গোলাকার, বোটা চিকন, মধ্যম আকৃতির লালচে পাটল বর্ণের যার কোথাও মিল ছিলনা প্রদর্শনী প্লটের। তাছাড়া বীজ রোপনের সময়ও এলাকার চাষীরা দেখেছে লালতীর বীজ রোপন করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনোজ কুমার জানান, অফিস থেকে সরবরাকৃত বীজ সংগ্রহ করেই কৃষক মনিরুল ইসলামের প্লটে রোপন করা হয়েছিল। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে বীজ পাল্টে কৃষি বিভাগের গবেষণাকে বিতর্কিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেন, তবে কিভাবে উক্ত প্লটে লালতীর উৎপাদন হয়েছে সে বিষয়টি এড়িয়ে যান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার কুন্ডু জানান, বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষন কৃষি বিভাগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন ব্যক্তির স্থুলকর্মকান্ডের জন্য সরকারের কৃষি বিভাগের বীজ গবেষণাগার বির্তকিত হবে এমন দায়ভার অফিস বহন করবেনা। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস দেওয়া হয়। তবে ঘটনার প্রায় ৬ মাস অতিক্রান্ত হলেও তদন্ত না হওয়ায় দাপটের সাথে কনোজ কুমার বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি কৃষি বিভাগ কর্তৃপক্ষ সংবাদ মাধ্যমে অবগত হলেও ধামাচাপা দেওয়ায় আগামী পেয়াজ মৌসুমে এ অঞ্চলে বারী পেয়াজ ১ চাষের আগ্রহী চাষীরা বীজ প্রতারণার শিকার হতে পারেন। বীজ গবেষণার সাথে ভয়ঙ্কর এ প্রতারণার যথাযথ তদন্তসহ উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শৈলকুপার সুধীজন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার চাষীরা।



আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জের বথপালীগাঁও নিজস্ব সম্পত্তির উপর দুসক্রীতি কারীদের হামলা

Development by: webnewsdesign.com