জনপ্রিয় সংবাদ

x

এয়ারলাইনসের জন‌্য নয়, ব্যাংকের জন‌্যই বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ

মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০১৯ | ১১:৪৮ অপরাহ্ণ | 142 বার

এয়ারলাইনসের জন‌্য নয়, ব্যাংকের জন‌্যই বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ

বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ ভিআইপি যাত্রীদের বিশেষায়িত সেবা দিতে চালু রয়েছে অত্যাধুনিক ওয়েটিং লাউঞ্জ। ফ্লাইট ছাড়ার আগে অপেক্ষাকালীন সময়ে যাত্রীরা শর্তসাপেক্ষে এসব লাউঞ্জ থেকে বিভিন্ন সেবা নিতে পারেন।  যাত্রীদের জন্য তারকামানের সেবা দিতে বিশ্বের আধুনিক বিমানবন্দরগুলোয় লাউঞ্জ স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায় এয়ারলাইনস। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জগুলোর তিন-চতুর্থাংশই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংককে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালের ভিআইপি লাউঞ্জ নয়টি। এর ছয়টিরই বরাদ্দ পেয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক। এখানকার অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে থাকা একমাত্র ভিআইপি লাউঞ্জটিরও বরাদ্দ পেয়েছে একটি ব্যাংক। একইভাবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি ভিআইপি লাউঞ্জের বরাদ্দও পেয়েছে বেসরকারি ব্যাংক।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিটি ব্যাংক একাই বরাদ্দ নিয়েছে তিনটি ভিআইপি লাউঞ্জ। এর দুটি আন্তর্জাতিক টার্মিনালে ও একটি অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে। প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে সিটি ব্যাংক শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জের বরাদ্দ নেয় ২০১০ সালে। সে সময় থেকে ‘সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস লাউঞ্জ’ নামে চালু থাকা ভিআইপি লাউঞ্জটি থেকে শুধু ব্যাংকটির আমেরিকান এক্সপ্রেস গোল্ড কার্ডের গ্রাহকরাই সেবা নিতে পারছেন। আন্তর্জাতিক টার্মিনালে সিটি ব্যাংককে দ্বিতীয় ভিআইপি লাউঞ্জের বরাদ্দ দেয়া হয় গত বছর সেপ্টেম্বরে। ‘সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস প্লাটিনাম লাউঞ্জ’ নামে চালু হওয়া এ লাউঞ্জটিও শুধু সিটি ব্যাংকের আমেরিকান এক্সপ্রেস প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ডধারী আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ। ব্যাংকটিকে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের একমাত্র ভিআইপি লাউঞ্জটি বরাদ্দ দেয়া হয় ২০১৩ সালে। ‘আমেরিকান এক্সপ্রেস ডোমেস্টিক লাউঞ্জ’ নামে চালু থাকা লাউঞ্জটিও কেবল সিটি ব্যাংকের ইস্যু করা আমেরিকান এক্সপ্রেস গোল্ড কার্ডের গ্রাহকদের জন্য বরাদ্দ।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিমানবন্দরে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডকে (এমটিবি) দুটি ভিআইপি লাউঞ্জের বরাদ্দ দিয়েছে বেবিচক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে এমটিবি গ্রাহকদের জন্য ‘এমটিবি এয়ার লাউঞ্জের’ বরাদ্দ দেয়া হয় ২০১৭ সালে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে ‘এমটিবি এয়ার লাউঞ্জ’ চালু হয় গত বছর নভেম্বরে।

একইভাবে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডকেও (ইবিএল) ঢাকা ও চট্টগ্রাম  বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে দুটি ভিআইপি লাউঞ্জের বরাদ্দ দিয়েছে বেবিচক। অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) ভিআইপি লাউঞ্জের বরাদ্দ পেয়েছে একটি করে।

বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মফিজুর রহমান এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, পৃথিবীর যেকোনো বিমানবন্দরে লাউঞ্জ স্থাপনের জন্য এয়ারলাইনসগুলোকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়। শুধু বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। দেশের বিমানবন্দরগুলোয় বিভিন্ন ব্যাংক তাদের প্রায়োরিটি কাস্টমারদের সেবা দেয়ার জন্য লাউঞ্জ স্থাপনের সুবিধা পেলেও বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোকে কোনো স্থান বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এক্ষেত্রে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মনোভাব বিমাতাসুলভ।

এদিকে ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে দুটি বিমানবন্দরের মোট নয়টি ভিআইপি লাউঞ্জের বরাদ্দ দিয়েছে বেবিচক। একেকটি দুই-তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের এসব ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে প্রতি মাসে বেবিচকের আয় হয় প্রতি বর্গফুটে ৩৩০ টাকা করে। অন্যদিকে স্থান সংকটের অজুহাতে লাউঞ্জ বরাদ্দে অবহেলা করা হয়েছে লাউঞ্জের প্রধান দাবিদার বিভিন্ন এয়ারলাইনসগুলোকে। এর মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরে অনেক আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নামে দুটি ও থাই এয়ারওয়েজের নামে একটি ভিআইপি লাউঞ্জের বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘বলাকা’ ভিআইপি লাউঞ্জটি চুক্তির ভিত্তিতে বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোর নিজস্ব বিজনেস ক্লাস যাত্রীরা ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে ‘মসলিন’ নামে ভিআইপি লাউঞ্জটি শুধু বিমানের নিজস্ব যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ।

এয়ারলাইনসগুলোকে ভিআইপি লাউঞ্জ বরাদ্দ না দেয়ার অভিযোগটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর এম মোস্তাফিজুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, দেশী এয়ারলাইনসগুলো লাউঞ্জ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করলে জায়গা থাকাসাপেক্ষে সেটি বিবেচনা করা হবে। যতদূর জানি বেসরকারি কোনো এয়ারলাইনসই এ ধরনের কোনো আবেদন করেনি।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে জায়গা অপ্রতুল, সে কারণে চাইলেই কিন্তু সব এয়ারলাইনসকে লাউঞ্জ বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলো বিভিন্ন ব্যাংকের বিদ্যমান লাউঞ্জগুলো ব্যবহারের চুক্তি করতে পারে, যাতে তাদের বিজনেস ক্লাস যাত্রীরা ফ্লাইট ছাড়ার আগে অপেক্ষমাণ সময়ে এসব লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে এককালীন বিনিয়োগের প্রয়োজন না হওয়ায় পক্ষান্তরে এয়ারলাইনসগুলোই লাভবান হবে।

২০ বাংলাদেশিসহ ৯২ অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার মালয়েশিয়ায়

Development by: webnewsdesign.com