জনপ্রিয় সংবাদ

x

'ডুব' নিয়ে শোরগোল চারিদিকে

এবার মুখ খুললেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

শনিবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৬ | ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ | 545 বার

এবার মুখ খুললেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

জনপ্রিয় পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন ছবি ‘ডুব’ বানানো হচ্ছে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নিয়ে। যাতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন ইরফান। আর হুমায়ূনকন্যা শীলা আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। হিমুর স্রষ্টার প্রথম পক্ষের স্ত্রী গুলতেকিনের ভূমিকায় রয়েছেন রোকেয়া প্রাচী।

অন্য দিকে ডিভোর্সের পর ২০০৫য়ে হুমায়ূন আহমেদ বিয়ে করেন তাঁর কন্যার সমবয়সী মেহের আফরোজ শাওন-কে। শাওনের চরিত্রে অভিনয় করছেন টালিগ়ঞ্জের পার্নো মিত্র।

সম্প্রতি এমন খবর প্রকাশ করেছে কলকাতার প্রভাবশালী পত্রিকা ‘আনন্দবাজার’। আর এরপরই তালমাতাল এদেশের মিডিয়াঙ্গন। এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও মেয়ে শীলা আহমেদ।

আলোচনা থেমে থাকেনি এখানেই। মিডিয়ায় তাদের বক্তব্য আসার পর এ নিয়ে মুখ খুলেছেন পরিচালক ফারুকীও। শুক্রবার ফেসবুকে এ ব্যাপারে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

ফেসবুকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লেখেন-

“ফারুকীর ছবিতে যদি লেখা থাকে ‘এটা হুমায়ূন আহমেদের জীবন অবলম্বনে’ তা হলে অবশ্যই ওর আমাদের কাছ থেকে পারমিশন নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ও যদি কয়েকটা ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটা বানায়, সে ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। তবে ফারুকী যে বাবাকে, বাবার লেখাকে অসম্ভব ভালবাসে সেটা আমি জানি। এখন ছবিটা দেখেই যা বলার বলব” – শীলা আহমেদ ।

1) আমি মনে করি শীলার মন্তব্য এই বিষয়ে শেষ কথাটা বলে দেয়। আমাদের তরফ থেকে আমি পরিষ্কার করে বলছি, ছবির ক্রেডিট বা ক্যাম্পেইনে বা কমিউনিকেশন ম্যাটেরিয়েলে আমরা কখনোই দাবি করি নাই বা করার কোনো সম্ভাবনাও নাই যে ‘আমরা হুমায়ুন আহমেদের বায়োপিক বানাচ্ছি”। আমরা কোনো বায়োপিক বানাচ্ছি না।
এই ছবির প্রতিটি চরিত্র কাল্পনিক ।
পিরিয়ড ।

2) শীলার প্রতি কৃতজ্ঞতা হুমায়ুন আহমেদের প্রতি আমার ভালোবাসা লক্ষ্য করার জন্য । আসলেই হুমায়ূন এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভালবাসার অদ্ভুত যাদুবলে আমাদের অনেকের পরিবারের সদস্যই যেনো হয়ে উঠেছিলেন । তাদের ব্যক্তিগত সুখ দুঃখ তাই আমাদের স্পর্শ করেছিলো তীব্র ভাবে। আমি সহজে আমার চোখের জল ফেলি না। এবং পাবলিক স্পেসে তো আবেগ দেখানোর প্রশ্নই আসে না। কিন্ত তার মৃত্যু আর মৃত্যু পরবর্তী কয়টা দিন আমার সেই কাঠিন্য টলিয়ে দিয়েছিলো ।
আমি তখন সিউলে। ইমাম লি’র গাড়ীতে রিপিট মোডে বাজা “হোয়াইল মাই গিটার জেন্টলি উইপস”, গাড়ীর কাঁচে অসময়ের বৃষ্টি, আর গাড়ির ভেতর তিন বঙ্গ সন্তানের আর্দ্র চোখ। এটার নামই ভালোবাসা। এই ভালোবাসার কথাই কি শীলা বলেছেন?

3) আনন্দবাজারকে ধন্যবাদ হুমায়ুন আহমেদের দুই পরিবারেরই ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য । আমাদের টেলিভিশন আর পত্র পত্রিকা দেখলে তো মনেই হয় না যে প্রথম পরিবারটা পৃথিবীতে এক্জিস্ট করে। হ্যাঁ আমি বুঝি, প্রবল আত্মসম্মান বোধ এবং অভিমান থেকে উনারা দুরে থাকেন। পাশপাশি এটাও সত্য হুমায়ূনের যাবতীয় স্মৃতির উত্তরাধিকার হিসাবে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করার একটা মিশনও বোধ হয় এখানে চলমান। তবে, ভাববেন না আমি কেবল উনার প্রথম পরিবারের ব্যাথায় কাতর। এক লেখায় আমি লিখেছিলাম আমি শাওন এবং তার সন্তানদের বেদনা অনুভব করেও কাঁদছি।

জীবন অনেক জটিল । এখানে কোনো চির নায়ক, চির ভিলেন নাই। আহারে জীবন, আহা জীবন।

শিশু দিবসে পথ শিশুদের ক্ষুধা নিবারণ করলেন আতিকুর রহমান অনিক

Development by: webnewsdesign.com