জনপ্রিয় সংবাদ

x

এনালগ যুগে ফিরছে অডিও জগৎ!

রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৬ | ৫:১১ অপরাহ্ণ | 291 বার

এনালগ যুগে ফিরছে অডিও জগৎ!
কুয়ালালামপুরের একটি ক্যাসেটের দোকানে ফিতা ক্যাসেট দেখাচ্ছেন এক ব্যবসায়ী।

নব্বই দশকের শেষের দিকে প্রিয় গায়কের নতুন অ্যালবাম বের হলেই ক্যাসেটের দোকানে লম্বা লাইন লেগে থাকতো। কে আগে নেবে তারই প্রতিযোগিতা চলতো। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়েনা। আধুনিক প্রযুক্তি বাজারে আসার পর ১৯৯০ সালের পর বিশ্ব বাজারে ফিতা ক্যাসেট আর আবেদন রাখতে পারেনি। বাজারজুড়ে সিডির রমরমা দখলদারি।

কিন্তু মালয়েশিয়ায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেলো কয়েকদিন আগে। এএফপির বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানায়, কুয়ালালামপুরের একটি দোকানে ফিতা ক্যাসেট কেনার জন্য ক্রেতাদের সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তুলনামূলক সস্তায় উৎপাদন ও বাজারজাত করা যায় বলে অডিও প্রতিষ্ঠান গুলো এখন ফিতা ক্যাসেটের দিকে ঝুঁকছে, আর এতে সাড়াও দিয়েছেন ক্রেতারা।

অন্যান্য ক্যাসেটের চেয়ে সাশ্রয়ী এবং কম খরচে বাজারজাত করা যায়। একটি ভিনাইল ক্যাসেট (গ্রামোফোন ক্যাসেট) উৎপাদনে স্থানীয় খরচ প্রায় ৬০ থেকে ৮০ রিংগিত (১১০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা)। কিন্তু সে অনুপাতে একটি ফিতা ক্যাসেট উৎপাদনে খরচ হয় মাত্র ১ রিংগিত (১৮ টাকা)। এছাড়া শব্দের গুণগত মান দিকে থেকেও অন্যান্য ক্যাসেটের মতোই সাবলীল ছিলো।

মালয়েশিয়ার বেজমেন্ট রেকর্ডস এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ নূর ইয়াকুব বলেন, আপনার পকেটে যদি টাকা নাও থাকে তবুও কোনওনা কোনো ভাবে আপনি একটি ফিতা ক্যাসেট কেনার অর্থ যোগার করতে পারবেন। কারণ এটি খুবই সস্তা। তাছাড়া আমাদের মতো ব্যবসায়তীদের জন্য বেশ লাভজনকও বটে। আমরা ফিতা ক্যাসেটে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পুরনো দিনকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।

সঙ্গীতবোদ্ধারা একে পুরনোকে ফিরিয়ে আনার একটি বিপ্লব বলে মনে। পাশাপাশি নতুন গায়কদের জন্য এটা একটা ভালো ভিত্তি বলেও মনে করছেন তারা। কারণ সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ফিতা ক্যাসেট বাজারজাতকরণ করতে পারবেন। ফলে বেশি সংখ্যক গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন তারা।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্যাসেট সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত একটি মেলায় মালয়েশিয়ার রক ব্যান্ড ‘বিটারসুইট’ ২০০টি ফিতা ক্যাসেট বাজারে আনে। আর প্রথম দিনেই প্রায় সবগুলো ক্যাসেট বিক্রি হয়ে যায়।

Development by: webnewsdesign.com