সর্বশেষ সংবাদ

x


বেশ কিছু জটিলতা নিয়ে বারবার বৈঠক মেডিকেল বোর্ডের,উৎকণ্ঠা পরিবার ও চিকিৎসকদের মাঝে,আইনমন্ত্রী বলছেন অনুমতির বিষয়ে খুব সিদ্ধান্ত তাড়াতাড়ি,মানবিক বিবেচনার আহ্বান ফখরুলের

উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়া হচ্ছে খালেদা জিয়াকে

শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১ | ৭:৩৪ অপরাহ্ণ | 34 বার

উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়া হচ্ছে খালেদা জিয়াকে
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়া হচ্ছে খালেদা জিয়াকে

করোনামুক্ত হলেও শারীরিকভাবে নানা জটিলতায় ভুগছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার পাশাপাশি অক্সিজেনের মাত্রাও বারবার উঠানামা করছে। তাছাড়া বিএনপি প্রধানের রক্তের সব রিপোর্টই নেতিবাচক। যে কোনো সময় তাঁকে দেশের বাইরে নেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে লন্ডনে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিদেশ নিতে অনুমতি দেওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার বাকি।

ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনেও বেগম জিয়ার পরিবার থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। বুধবার রাতেই খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার হাইকমিশনে যান। সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পান তিনি। বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দিলে তারাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানা গেছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সরকারের কাছে করা আবেদনটি মানবিকভাবে দেখা হচ্ছে। এখানে আদালতের কোনো বিষয় জড়িত নেই। নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন। এখন মানবিকভাবেই আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি এও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে নেওয়ার আবেদন-সংক্রান্ত ফাইলটি এইমাত্র (বৃহস্পতিবার বিকালে) তিনি পেয়েছেন। এখন দেখে এ বিষয়ে মতামত দেবেন। সেটা আজ সম্ভব হচ্ছে না। তবে যথা শিগগিরই অভিমত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’ সরকার ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেতে পারে। এরপর তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না বলে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তা তুলে নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করলে খালেদা জিয়ার বাইরে যেতে আর কোনো বাধা থাকবে না। আগামী রবিবারের মধ্যেই সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা উদ্বিগ্ন। লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান। দলের পক্ষ থেকেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। গতকাল বিকালেও তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় আজ বাদ জুমা সারা দেশে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও বিভিন্ন উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভার কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে বেগম জিয়ার লন্ডনের ভিসার মেয়াদ আছে। আজ শুক্রবার ও কাল শনিবার সরকারি ছুটি। এরপর রবিবার তাঁর বিদেশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। তবে বেগম জিয়া এ মুহুর্তে বিদেশ যেতে শারীরিকভাবে সক্ষম কি না তাও পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো বিমানে যাওয়া যায় কি না তাও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

এদিকে গতকাল দুপুরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছে তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড। এতে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. আল মামুন, ডা. আবদুস সাকুর খান, এভারকেয়ার হাসপাতালের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. সিনা, ডা. ফাহমিদা বেগম, ডা. মাসুম কামাল, ডা. সাদিকুল ইসলাম, ডা. তামান্না রয়েছেন। অনলাইনে এতে যোগ দেন লন্ডন ও নিউইয়র্ক থেকে বিশেষজ্ঞ টিম। এ ছাড়া ভার্চুয়ালি তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান যুক্ত হন। পরে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বেগম জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, করোনাভাইরাসের কারণে বিএনপি চেয়ারপারসনের ফুসফুসে পানি জমছে। এগুলো সরানো হলেও আবার জমে। কার্যত হার্টে জটিলতা থাকায় এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এখন বেগম জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় আছে।

আরেক চিকিৎসক জানান, বেগম জিয়ার ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। এর মাত্রা ওঠানামা করছে। তাঁকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া আর্থ্রাইটিস এবং আরও কিছু সমস্যা আছে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। আনিসুল হক বলেন, নির্বাহী আদেশে দুটি শর্তে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। প্রথম শর্ত হচ্ছে তিনি বাসায় থেকেই চিকিৎসা নেবেন। দ্বিতীয়টি ছিল বিদেশে চিকিৎসা নেবেন না। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করেই এ আবেদন নিষ্পত্তি করবে। তিনি বলেন, ‘গতকাল রাত ১১টার দিকে আমাদের মন্ত্রণালয়ের সচিবের হাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আবেদনটি পৌঁছেছে। আইনি দিক বিশ্লেষণ করে এবং মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে আমরা খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেব আশা করছি।’

এর আগে বুধবার রাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আবেদন করা হয়। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার এই আবেদন করেন। ওই আবেদনপত্র পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

করোনামুক্ত খালেদা জিয়া :

প্রায় এক মাস পর সুখবর পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি করোনামুক্ত হয়েছেন। তৃতীয়বার করোনা পরীক্ষা করে গতকাল সকালে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। বিএনপি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১০ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট হলেও ফল পজিটিভ আসে। এরপর ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় তাঁকে সিসিইউতে রাখা হয়।

রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে যা আছে :

খালেদা জিয়ার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়- High Sensitive Troponin-1 রিপোর্ট ভালো আসেনি। এ ক্ষেত্রে একজন নারীর স্বাভাবিক রেফারেন্স মাত্রা ধরা হয় ১৫.৬-এর কম। বেগম জিয়ার সেই মাত্রা ২১.২। এই রিপোর্টের মাধ্যমে তাঁর হার্টের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। রক্ত জমাট বাঁধছে কি না জানতে D-Dimer পরীক্ষা করা হয়। এর স্বাভাবিক রেফারেন্স মাত্রা ৫০০-এর নিচে। বেগম জিয়ার তা ২১৩৪.৩। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তা রক্ত জমাট বাঁধার ইঙ্গিত দেয়। তার হিমোগ্লোবিন মাত্রা ৭.৭। স্বাভাবিক অবস্থায় তা ১১.৫-১৬.৫-এর মধ্যে থাকার কথা। NT-proBNP পরীক্ষাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবে ১২৫-এর কম থাকতে হয়। বেগম জিয়ার রক্ত পরীক্ষায় তা ২২৩৮ এসেছে। এই পরীক্ষার রিপোর্ট তাঁর হার্ট ও ফুসফুসের অস্বাভাবিক অবস্থা বোঝাচ্ছে। এ ছাড়া CA ১২৫ পরীক্ষার উচ্চমাত্রা একটি জটিল রোগের ঝুঁকি নির্ণয় করে। ওই পরীক্ষার স্বাভাবিক মাত্রা ১২৫-এর নিচে হলেও বেগম জিয়ার তা ৯৬২। এ দ্বারা শুধু ওই জটিল রোগের ঝুঁকির মাত্রা বোঝায়। তবে তাঁর শরীরে দুরারোগ্য কোনো ব্যাধির অস্তিত্ব নেই। এ রিপোর্ট স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি থাকলেও তাতে ‘সর্বোচ্চ’ ঝুঁকি নেই। করোনা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এ সমস্যাগুলো তীব্র হতে পারে। সেটি চিকিৎসকদের কাছে চিন্তার মূল কারণ বলে জানা গেছে।

মানবিক কারণে বিদেশ যেতে দিন :

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করোনা-পরবর্তী নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিন। গতকাল দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতি এ আহ্‌বান জানিয়েছেন তিনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

Development by: webnewsdesign.com