শুক্রবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

উত্তরায় অবৈধ বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বিদেশি মদ-বিয়ার উদ্ধার-গ্রেফতার ৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট

উত্তরায় অবৈধ বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বিদেশি মদ-বিয়ার উদ্ধার-গ্রেফতার ৩৫

উত্তরায় অবৈধ বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বিদেশি মদ-বিয়ার উদ্ধার

-প্রতিনিধি

রাজধানীর উত্তরায় একটি অবৈধ বারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) । অবৈধ বারটির মালিক মুক্তার হোসেন । তিনি নিষিদ্ধ বিদেশি মদের ব্যবসা করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তরা) বিভাগ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাররা হলেন- আবু সালেহ (৩৮), মো. মোহন (২১), মুকুল (৪০), মো. সিব্বির আহম্মেদ (২৫), রাসেল (২৪), আবুল কাসেম মিন্টু (৪২), নাহিদ দারিয়া (২০), শান্ত ইসলাম (২২), আলিম উদ্দিন (২৪), জালাল উদ্দিন (৩২), সাজ্জাদ হোসেন (২৭), রহমত আলী (২৫), খালেক সাইফুল্লাহ (২৭), ইমরান (৩৯), মো. সাহান শেখ (২৪), মো. মোফাজ্জেল (৫০), ওবায়েদ মজুমদার (২৪), ইবাদত খান (৩২), রাইস উদ্দিন (২৫), রায়হান (২১), মো. রুবেল (২৮), রিফাত (১৮), ফয়সাল (২২), শরিফুল ইসলাম (১৮), রাসেল (১৮), জাহিদ হাসান (১৮), রওশন জামিল রাসেল (৩০), হুমায়ুন কবির (২৫), তোফাজ্জেল হোসেন (২০), মো. রিয়াদ হোসেন (২৪), আল আমিন (৩১), কাইয়ুম (২২), নয়ন দাস (২৮), শাওন দাস (২২) ও মাহমুদুল হাসান (২১)।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৪৫৮ বোতল বিদেশি মদ এবং ৬ হাজার ৫টি বিয়ার ক্যান উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির মধ্যেও বেআইনিভাবে দেশে নিষিদ্ধ মদ-বিয়ার প্রবেশ করছে। এগুলো বিভিন্ন বার-রেস্টুরেন্টে দেদার বিক্রি হচ্ছে। এই অবস্থায় উত্তরায় কিংফিশার রেস্টুরেন্ট ও বারে অভিযান ডিবির একটি বড় সাফল্য।তারা মনে করেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকা উচিত।

ডিবি জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তরা) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকরামুল হোসেনের নেতৃত্বে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম এবং তুরাগ থানা এলাকায় অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। বিমানবন্দর গোলচত্বর এলাকায় অবস্থানকালে ডিবি উত্তরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে উত্তরার-১৩ নম্বর সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ রোডের ৩৯ নম্বর বাসার ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুত রয়েছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৮ সালের দিকে রাজধানীর বারিধারায় ‘এভিনিউ’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ শুরু করেন মো. মুক্তার হোসেন। এরপর গুলশানে ‘লেক ভিউ’ রেস্টুরেন্টেও ওয়েটার হিসেবে ছিলেন। সেই মুক্তার এখন শতকোটি টাকার মালিক। তার যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি-বাড়ি আছে। সেখানে বসবাস করেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। মুক্তার হোসেনের আরও বার রয়েছে। মিরপুর, গুলশান ও নারায়ণগঞ্জে তার অন্তত পাঁচটি বার আছে।

বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরার-১৩ নম্বর সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ রোডে একটি ভবনে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই ভবনেই ‘কিংফিশার রেস্টুরেন্ট’ নাম দিয়ে বার চালাতেন মুক্তার।

ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল যে, উত্তরার ওই ভবনে গান-বাজনার নামে ছেলেমেয়েরা ডিজে পার্টি করছে। একইসঙ্গে সেখানে বিক্রি হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ মদ। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে ভবনের সাত তলায় গিয়ে ডিবির দল দেখে অনেক ছেলেমেয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে। পরে ভেতরে গিয়ে দেখে সেখানে প্রচুর নিষিদ্ধ বিদেশি মদ ও বিয়ার। ডিবির দল ৫-৬ তলায় গিয়ে একই অবস্থা দেখতে পায়।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, অভিযানে পাওয়া ৫০০ দামি নিষিদ্ধ বিদেশি মদ ও প্রায় ছয় হাজার ক্যান বিয়ার কীভাবে দেশে আনা হয়েছে এ বিষয়ে কোনো তথ্যই জানাতে পারেনি বার কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র দেখতে ডিবি পুলিশ বাড়িটিতে রাত ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। তারপরও তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এরপর বার থেকে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন কিংফিশার বারের মালিক মুক্তার হোসেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অসাধু একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধভাবে মাদক ব্যবসা চালাতেন তিনি। অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওই বারে। সেখান থেকে তিনি মাসোহারা আদায় করতেন।

সূত্র : বাসস ও যুগান্তর

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:১৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

dhakanewsexpress.com |

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোঃ মাসুদ রানা হানিফ সম্পাদক