সর্বশেষ সংবাদ

x



আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১:০৯ অপরাহ্ণ | 20 বার

আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

তেঁতুলিয়ায় সরকারি টাকা আত্মসাতে আওয়ামীলীগ নেতা তরিকুলসহ আরো ২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান
পঞ্চগড় জেলাধীন তেঁতুলিয়া উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৭ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. তরিকুল ইসলামসহ আরো ২জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত সাতাশে ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক বীরকান্ত রায় অভিযোগকারী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় এজাহার পেশ করেন। এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন, ১। উপজেলার ওই ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত এলাহী বক্সের ছেলে মো: তরিকুল ইসলাম(৫০), চেয়ারম্যান, দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদ, ২। ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো: সামসুল হক (৬২), ৩। ওই ইউনিয়নের হেঙ্গাডোবা গ্রামের পইজউদ্দিনের স্ত্রী মোছা: মিনা খাতুন(৪৫) সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। যাহার তেঁতুলিয়া থানার মামলা নম্বর ৬, তারিখ: সাতাশে ডিসেম্বর ২০১৭ অতঃপর স্পেশাল জজ আদালত, পঞ্চগড়-এর স্পেশাল মামলা নং- ০২/২০১৯, ০১/২০২০ ও ০২/২০২০।



 

এজারভুক্ত বীরকান্ত রায়ের এই মামলার তদন্ত করেন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুর, দুদকের দুই কর্মকর্তা উপ-সহকারী পরিচালক মো: আব্দুল করিম মোল্লা (বর্তমানে মৃত), উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম। তবে গত ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখের দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়, ঢাকার ৩২১৭(১০০) নং স্বারকে আব্দুল করিম মোল্লাকে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনায় বদলী করা হলে পরবর্তীতে তদন্তভার বহন করেন সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম। তদন্তকর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম গত ২৮ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে অভিযোগপত্র নং-২(পঞ্চগড়) এর নিয়ন্ত্রণ নং-২৭২ এর দন্ডবিধির ৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সনের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে আসামীরা বর্তমানে জামিনে আছেন উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার এবং অভিযোগপত্রের সূত্রে জানাগেছে- দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, দিনাজপুরের ১৯শে জুন ২০১৬ তারিখের ই/আর নং- ১১/২০১৬ এর অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত কাগজপত্র, নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর পরিমাপ প্রতিবেদন, অভিযোগকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তেঁতুলিয়া এর বক্তব্য, উপস্থিত সাক্ষীদের বক্তব্য, ওয়ার্ড কমিটির আহবায়কদের বক্তব্য, কোটেশন দাতা ঠিকাদারদের বক্তব্য পর্যালোচনা দেখেন যে, পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭নং দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে এলজিএসপি-২ এর ১ম কিস্তির ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫২ টাকার মধ্যে ৪টি প্রকল্পের ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৯৮২ টাকা, ২য় কিস্তির বরাদ্দকৃত ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৯ টাকার মধ্যে ২টি প্রকল্পের ৪ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা, ৩য় কিস্তির বরাদ্দকৃত ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭৫ টাকার মধ্যে ৮টি প্রকল্পের ৭ লাখ ২০ হাজার ৪৭৫ টাকা। সর্বমোট ১৪টি প্রকল্পের ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৭ টাকা সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, ভজনপুর শাখা, তেঁতুলিয়ার হিসাব নং- ৬৫১ হতে টাকা উত্তোলনপূর্বক প্রকল্পের কোন কাজ না করে এজাহারভুক্ত আসামীরা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়ে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করতঃ তা ব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে উক্ত টাকা আত্মসাত করেন।
প্রকল্পগুলো হল (১ম কিস্তির), ওই ইউপির হতদরিদ্্রদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য নলকূপ স্থাপনের জন্য বরাদ্দকৃত ২লাখ টাকার মধ্যে ব্যাট কর্তন বাদে ১লাখ ৮৯হাজার টাকা, ইউপির অসহায়, দুঃস্থ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলাদের মাধে সেলাই মেশিন সরবরাহের জন্য বরাদ্দকৃত ২লাখ টাকার মধ্যে ব্যাট কর্তন বাদে ১লাখ ৮৯হাজার টাকা, ইউপির ১হতে ৯নং ওয়ার্ডের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে গাছের চারা রোপন ও গাছ রক্ষণাবেক্ষন এর জন্য টব নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত ৭৩ হাজার ৬৩৫ টাকার মধ্যে ভ্যাট কর্তন বাদে ৭৩ হাজার ৫০০টাকা, ইউপির ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের ফটোস্ট্যাট মেশিন, মডেম ও অন্যান্য আসবাবপত্রের ক্রয় প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৮ টাকার মধ্যে ভ্যাট কর্তন বাদে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৮২ টাকা। (২য় কিস্তির) ইউপির ১হতে ৯নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের মাঝে স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরি ও বিতরণের জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা, ইউপির ১নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্্রদের মাঝে বিনামুল্যে নলকূপ সরবরাহের জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। (৩য় কিস্তির) ইউপির ১নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্্রদের মাঝে বিনামুল্যে নলকূপ সরবরাহের জন্য ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের মাঝে স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরি ও বিতরণ বাবদ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের মাঝে স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরি ও বিতরণ বাবদ ১ লাখ ৪ হাজার টাকা, ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের মাঝে স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরি ও বিতরণ বাবদ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের মাঝে স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরি ও বিতরণ বাবদ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের মাঝে স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরি ও বিতরণ বাবদ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বাবদ ৭৫ হাজার টাকা, শিতাপাড়া তহিদুলের বাড়ির পুকুরের পাশ্বে বাদ নির্মাণের জন্য ৬৮ হাজার ৯৭৫ টাকা। সর্বসাকুল্যে এলজিএসপির ৩টি কিস্তিতে ১৪টি প্রকল্পের ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৭ টাকা আত্মসাত করেন।
অভিযোগপত্রের সূত্রে স্পষ্টকারে জানাগেছে, এলজিএসপি-২ এর আওতায় গৃহীত ৩কিস্তির ১৪টি প্রকল্পের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ও ইউপি সচিব সুস্পষ্ট কোন মাস্টাররোল দেখাতে পারেননি এবং তৎকালীন ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রকল্পে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের স্বীকারক্তিতে প্রকল্পের টাকা গ্রহন করেননি জানিয়েছেন তবে কতিপয় স্বাক্ষর তাদের নিজেদের অন্যথায় প্রকল্পের কাগজপত্রের বিল ভাউচার ভূয়া তৈরি করা হয়েছে জানিয়েছে তাঁরা।
এজাহার এবং অভিযোগপত্রের সূত্রে আরোও জানাগেছে, পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ৭নং দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে এলজিএসপি-২ এর ১ম কিস্তির ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫২ টাকা, ২য় কিস্তির ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৯ টাকা, ৩য় কিস্তির ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭৫ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হলে বরাদ্দ প্রাপ্তির পর তৎকালীন চেয়ারম্যান তরিকুল এলজিএসপি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। অতঃপর ওয়ার্ড কমিটির তত্ত্বাবধানে ঠিকাদার কর্তৃক স্পষ্ট কোটেশনের মাধ্যমে কাজ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি এবং এলজিএসপি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব এবং ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের একজন সদস্যের নামে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, ভজনপুর শাখা, তেঁতুলিয়ার হিসাব নং- ৬৫১ তে উক্ত টাকাগুলি জমা করতঃ উহা ব্যয় করার বিধান থাকলেও তাহা করা হয়নি জানা যায়।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয়, দিনাজপুরের তদন্ত কর্মকর্তা উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম জানান, মামলাটি ২০১৭ সালের মামলা তখন দুদকের সহকারী পরিচালক বীরকান্ত রায় এই মামলাটি করেন। তিনি বদলীতে চলে গেলে মামলার তদন্তভার উপ-সহকারী পরিচালক মো: আব্দুল করিম মোল্লা (বর্তমানে মৃত) দেয়া হয় তিনিও বদলীতে চলে গেলে পরিশেষে তাকেই এই মামলার তদন্ত করতে হয়। তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শনে গোপনে কিংবা স্বাক্ষীদের মোকাবেলার জিজ্ঞাসাবাদে যা তিনি জানতে পেরেছেন তাই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন। তিনি ওই দপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুরের তদারকিতে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। আসামীরা এযাবৎ গ্রেফতার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে, তিনি সে বিষয়ে অবগত নয়। তবে আসামীরা জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারের পর্যায়ে জানিয়েছেন তিনি।
এরপর দুদকের প্রসিকিউটর ইউনিট সূত্রে জানাযায়, স্পেশাল জজ আদালত, পঞ্চগড়ের ১৯ অক্টোবর ২০২০ তারিখের জেজপ-২৭০(ক) নং স্বারকের আদেশ নং-৬৬ তে মামলাটি ২০ অক্টোবর ২০২০ স্পেশাল জজ আদালত, দিনাজপুরে পাঠানো হয়েছে। যাহা দিনাজপুর, জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর মো: আমিনুর রহমানকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর, জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর মো: আমিনুর রহমান জানান, এই কেসের ফাইলটি তাকে দেয়া হয়েছে অবগত আছেন তবে দুদক এখন পর্যন্ত ফাইলের কোন কাগজপত্র তার হাতে পৌছায়নি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই কেসের ধার্য্য তারিখ রয়েছে তবে কোন দিনের কত তারিখ জানতে পারা যায়নি।

মুুহম্মদ তরিকুল ইসলাম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

Development by: webnewsdesign.com