জনপ্রিয় সংবাদ

x

আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চলে গেলেন

শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারি ২০১৯ | ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ | 70 বার

আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চলে গেলেন

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ (৬৮) ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি সংসদ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। অসুস্থতার কারণে তিনি গতকাল শপথ নিতে পারেননি। গতকালই জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এক চিঠিতে জানিয়েছিলেন, সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে শপথ নেবেন। কিন্তু সেই শপথ নেওয়া আর হলো না আশরাফের। গতকাল রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। আগামীকাল শনিবার তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক জানিয়েছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। জনগণ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর অবদানের কথা চিরকাল স্মরণ করবে। ’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় বলেন, ‘তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন অত্যন্ত সত্, নিবেদিতপ্রাণ ও সাহসী নেতাকে হারালো। এতে দেশের রাজনীতি তথা আওয়ামী লীগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ’ শেখ হাসিনা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেন সৈয়দ আশরাফ। তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহপ্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় চার নেতার একজন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ চার জাতীয় নেতা হত্যাযজ্ঞের শিকার হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফ লন্ডনে চলে যান। দেশে ফেরেন ১৯৯৬ সালে। ওই বছরই তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর) আসন থেকে নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করেন। প্রথমবার এমপি হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরের নির্বাচনেও (২০০১) তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অষ্টম সংসদে তিনি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জয় পান এই জনপ্রিয় নেতা। সেবার তাঁকে দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাঁর ওপর আস্থা রাখে কিশোরগঞ্জবাসী। এবারও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তবে পরে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

দলেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। দুই মেয়াদে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। এ ছাড়া ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর শেখ হাসিনা কারাবন্দি হলে আওয়ামী লীগের যে কয়েকজন নেতা দলের হাল ধরেন সৈয়দ আশরাফ তাঁদের অন্যতম।

বারবার মন্ত্রী হলেও প্রতিবছরই তাঁর সম্পদের পরিমাণ কমতে থাকে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালেও তিনি দলের গ্রুপিংয়ে জড়াননি। এ জন্য দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি প্রিয়ভাজন ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ আশরাফ এক কন্যার জনক। তাঁর স্ত্রী শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের অক্টোবরে ক্যান্সারে ভুগে মারা যান।

শিশু দিবসে পথ শিশুদের ক্ষুধা নিবারণ করলেন আতিকুর রহমান অনিক

Development by: webnewsdesign.com