সর্বশেষ সংবাদ

x


অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বাণিজ্য করার সুযোগ না দেওয়ায় ফোনালাপের একাংশ ফাঁস

বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ | ২:২৬ অপরাহ্ণ | 34 বার

অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বাণিজ্য করার সুযোগ না দেওয়ায় ফোনালাপের একাংশ ফাঁস
অধ্যক্ষ কামরুন নাহার

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে বাণিজ্য করার সুযোগ না দেওয়ায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফোনালাপের একাংশ ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কামরুন নাহার।

প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর গত জুন মাসে অধ্যক্ষের সঙ্গে ফোনালাপের একটি অংশ সম্প্রতি ফাঁস হয়। ফোনালাপ ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেছেন টিপু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোনালাপ ফাঁসের পর বিষয়টি গণমাধ্যমেও আলোচিত হতে থাকে। ফোনালাপে উত্তেজিতভাবে অশালীন কথা বলেন অধ্যক্ষ। তবে ঠান্ডা মাথায় কথা বলেন অভিভাবক টিপু।

“গত ২২ মার্চ একটি চিঠিতে শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন জানানো হয়”

 

 

 

 

গত ২২ মার্চ একটি চিঠিতে শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন জানানো হয় ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২২ মার্চ অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর সাহাবুদ্দিন টিপু এবং সংগঠনের সভাপতি স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৌখিকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ চাইলে অধ্যক্ষ লিখিতভাবে গভর্নিং বডির সভাপতি বরাবর আবেদন করতে বলেন। ওই পরামর্শে অভিভাবক ফোরাম আবেদন জানালেও শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে সম্মত হননি অধ্যক্ষ।  গত জুন মাসে কমিটির সদস্যদের অভিযোগ নিয়ে ফোনালাপ হয় অধ্যক্ষ ও অভিভাবক টিপুর মধ্যে। সম্প্রতি ফোনালাপের প্রথম অংশ ফাঁস করে দেওয়া হয়।

অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের দাবি, ভর্তি বাণিজ্য করতে না দেওয়ার কারণে সুপার এডিট করে ফোনালাপের একাংশ ফাঁস করা হয়। তিনি বলেন, ‘ভর্তি বাণিজ্য করার সুযোগ না দেওয়ায় অভিভাবকরা বাসার দরজা পর্যন্ত ধাক্কাধাক্কি করেছেন। কলেজ থেকে বিদায় করার হুমকি দেওয়া হয়েছে আমাকে। ষড়যন্ত্রে অভিভাবকদের একটি অংশের সঙ্গে গভর্নিং বডির সদস্যদের একটি অংশ জড়িত থাকতে পারে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি বাণিজ্য, উন্নয়ন কাজে আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করার অভিযোগে গত ১৮ জুলাই গভর্নিং বডির সদস্যের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে গত ৩০ জুন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরও (ইইডি) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

অধ্যক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে এই দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান। এতে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সদস্যদের একটি অংশ ক্ষিপ্ত হন বলে জানান অধ্যাপক কামরুন নাহার। তিনি বলেন, ‘অভিভাবক ফোরামের দাবির মুখে ভর্তির সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন অভিভাবক টিপুসহ একটি অংশ।’

অধ্যক্ষ কামরুন নাহার আরও বলেন, ‘শুধু ভর্তি বাণিজ্যই নয়, শিক্ষকদের বেতন অর্ধেক করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে অভিভাবক ফোরাম। শিক্ষকদের সঙ্গে কিছু অভিভাবক খারাপ আচরণ করেন। গভর্নিং বডির সদস্যদের কেউ কেউ শিক্ষকদের অসম্মান করেন। এসব প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন (টিপু)।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গভর্নিং বডির সদস্যরা অতীতেও শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছেন অধ্যক্ষদের দিয়ে। সাবেক একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অতিরিক্ত ভর্তি করানোর প্রতিবাদ করে ফরমে সই না করলে তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ করে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগ করতে গেলে তা বন্ধ করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে রাজধানীর দুয়ারীপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ কামরুন নাহারকে গত ২৯ ডিসেম্বর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করে সরকার।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Development by: webnewsdesign.com