Rz Rasel
০ দিন পূর্বে
1:27 pm
সিংহীর কোলে আদরে বড় হচ্ছে হরিণ শাবক!
০ দিন পূর্বে
1:14 pm
ন্যূনতম আইনি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না খালেদা: ফখরুল
০ দিন পূর্বে
1:11 pm
স্ক্যানার মেশিনে ঢুকে পড়লেন চীনা নারী!
০ দিন পূর্বে
1:07 pm
৪জি যুগে বাংলাদেশের অভিষেক আজ
০ দিন পূর্বে
1:05 pm
স্মার্টফোনে পর্ন! সতর্ক থাকুন
০ দিন পূর্বে
1:04 pm
‘নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো’
০ দিন পূর্বে
1:01 pm
সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে ক্যাটরিনার দুঃসাহসিক ছবি
০ দিন পূর্বে
1:00 pm
মমর ‘উল্টো পিঠে ভালবাসা’
০ দিন পূর্বে
12:58 pm
টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেই ডি ভিলিয়ার্স
০ দিন পূর্বে
12:56 pm
নির্বাচন সুষ্ঠ করতে আনসার-ভিডিপিকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
০ দিন পূর্বে
12:54 pm
অকালে চুল পড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
০ দিন পূর্বে
12:50 pm
শেষ ইচ্ছা লেখার পর কিশোরের ফাঁসি স্থগিত!
০ দিন পূর্বে
12:45 pm
খালেদার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত : কাদের
১ দিন পূর্বে
5:00 am
সাজাপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারমুক্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি
২ দিন পূর্বে
1:29 pm
শাকিব খানের বয়স কত?
২ দিন পূর্বে
1:22 pm
প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতির মেরুদণ্ড ধ্বংসের আলামত
২ দিন পূর্বে
1:20 pm
ভার্জিন বার্থ ! যৌন মিলন ছাড়াই মা হছেন নারীরা
২ দিন পূর্বে
1:18 pm
নেতাকর্মীদের ধৈর্যহারা না হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
২ দিন পূর্বে
1:10 pm
সকালে যৌন মিলন ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রনে সহায়ক
২ দিন পূর্বে
1:07 pm
মেয়েরা মিলনের জন্য পাগল হয়ে ওঠে কেন জানেন?
২ দিন পূর্বে
1:04 pm
বিয়ের আগে যৌন মিলন করলে কী হয়?
২ দিন পূর্বে
12:53 pm
যৌন জিবনে স্ত্রীর সাথে মধুর মিলন ও যৌন উত্তেজিত করার পদ্দতি
২ দিন পূর্বে
12:39 pm
সাপের সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছে জাকার্তা!
২ দিন পূর্বে
12:36 pm
মৃত ব্যক্তির শুক্রাণু থেকে জন্ম নিল যমজ শিশু
২ দিন পূর্বে
12:33 pm
রাজধানীতে ইউলুপের বিম ভেঙে পড়ল রাস্তায়
সাঁওতাল বিদ্রোহ ও আদিবাসীদের ভূমির অধিকার

ঘন মেঘের আড়ালে মুখ লুকিয়েছে সূর্যটা। তবু চনকালির মাঠে ভিড় জমিয়েছে আদিবাসীরা। হাতে হাতে ফুলের তোড়া। নামিদামি ফুল নেই তাতে। অচেনা সব ফুলের মাঝে মুখ তুলে আছে কেবল কয়েকটি চেনাফুল,  জবা। মাঠের পাশে ছোট্ট একটি স্মৃতিসৌধ। তাতে একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে নানা বয়সী আদিবাসী। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সিধু-কানুকে। দিনাজপুরের এ গ্রামটি সাঁওতালদের। প্রতি বছর ৩০ জুনে আদিবাসী এই গ্রামে চলে নানা রকম আয়োজন। এরা নিজেদের ‘সানতাল’ বলতে বেশি পছন্দ করে। তাই তাদের কাছে দিনটি ‘সানতাল বিদ্রোহ দিবস’। অনেকে আবার বলেন, ‘সিধু-কানু দিবস’। শ্রদ্ধা শেষে শুরু হয় কলাগাছে তীর বিদ্ধ করার খেলা। নানা ঢঙে তীর-ধনুক নিয়ে আদিবাসীরা অংশ নেন খেলাটিতে। একটি শেষে শুরু হয় আরেকটি। চোখ বেঁধে হাঁড়িভাঙা। এটি সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী খেলা। কলাগাছে তীরবিদ্ধ ও লাঠি দিয়ে হাঁড়িভাঙাকে এরা অপশক্তির প্রতীকী বিনাশ বলে মনে করে। হঠাৎ মুষল ধারে বৃষ্টি শুরু হলো। খেলা থামিয়ে সবাই ছুটে পালায় মাঠ থেকে। কেউ বটের তলায়, কেউ রাস্তার পাশে বা দোকানের ছাউনিতে আশ্রয় নেয়। আমাদের ঠাঁই মেলে মাঠের পাশের একটি বাড়িতে। এখানকার আদিবাসী সমিতি প্রতিবারই ঘটা করে পালন করে সিধু-কানু দিবস। সমিতির সভাপতি বিমল মার্ডি। পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। পরিবারে বাবা মা ধর্মান্তরিত না হলেও বছর দুয়েক আগে তিনি গ্রহণ করেছেন খ্রিস্টান ধর্ম। আদিবাসীদের আন্দোলন সংগ্রামের বিষয়ে বেশ ভালো তথ্য জানেন তিনি। মিশন থেকে আনা বই সমৃদ্ধ করেছে তাঁর জ্ঞানভাণ্ডার। বৃষ্টির সময়টাতে বিমলের সঙ্গে সিধু-কানুকে নিয়ে আমাদের আলাপ জমে। কান পেতে শুনি ইতিহাসের নানা তথ্য। সাঁওতালরা সে সময় জঙ্গল কেটে চাষাবাদের জমি তৈরি করতে। সে জমিতে চোখ পড়ে কোম্পানির অনুগত জমিদারদের।  সাঁওতালরা মেহনত করে ফসল ফলাত, কিন্তু ব্যাপারি আর মহাজনরা সামান্য দেনার অজুহাতে তাদের ঠকাত। ফলে সাঁওতাল কৃষকদের দেনা কখনো শেষ হতো না। দেনা পরিশোধের জন্য অনেককে মহাজনের বাড়িতে পরিবারসহ গোলামি করতে হতো। শুধু তাই নয়, এরা আদালত আর পুলিশ থেকেও কোনো সাহায্য পেত না। বরং পুলিশ কাজ করত শোষক শ্রেণির স্বার্থে। এতে ক্রমেই সাঁওতালদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। ১৮৫৪ সালের প্রথম দিকের কথা। গোপনে সাঁওতালরা শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। বীর সিংএর নেতৃত্বে তৈরি হয় একটি দল। কিন্তু টিকতে পারে না তারা। পাকুড় রাজার দেওয়ান জগবন্ধু রায়ের বিশ্বাসঘাতকতায় বীর সিংকে ধরে আনা হয়। জরিমানা করেও পরে সবার সামনে তাঁকে জুতাপেটা করা হয়। বিমল এবার শুরু করেন গোচ্চোর কথা। গোচ্চো ছিলেন ধনী সাঁওতাল। তাঁর টাকার ওপর ছিল মহাজনদের বিশেষ লোভ। তাই তারা মহেশ দারোগাকে দিয়ে তাঁকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া হয় চুরির মামলা। জমিদার, মহাজন আর পুলিশের এ জুলুম-পীড়নের কাহিনি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সাঁওতালরা ভেতরে ভেতরে ক্ষিপ্ত হতে থাকে। সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব ছিলেন চার ভাই। সাঁওতাল পরগনার ভাগনাদিহি গ্রামের এক দরিদ্র সাঁওতাল পরিবারে এঁদের জন্ম। এক সময় এঁরা বেশ সচ্ছল ছিলেন। একবার ফসল না হওয়ায় মহাজনদের কাছে তাদের দেনা বেড়ে যায়। ফলে ক্রমেই তাঁরা দরিদ্র হয়ে পড়েন। বীর সিং আর গোচ্চোর অপমান ও পীড়ন সিধু-কানুর মনে দাগ কাটে। সাঁওতালদের ওপর জুলুম আর অত্যাচার দেখে তাঁরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। জমায়েত হওয়ার জন্য চারপাশের সাঁওতালদের কাছে পাতাসমেত ছোট শালের ডাল পাঠান তাঁরা। এভাবে ডাক দেওয়ার রীতিটি ছিল সাঁওতালদের ঐতিহ্য। ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন। সিধু-কানুর ডাকে প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল একত্রিত হয় ভাগনাদিহি গ্রামে। সেদিন তাঁরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। সবাই শপথ নেয়, জমিদার মহাজন, ইংরেজ শাসক, পুলিশ-পাইক-পেয়াদা আর জজ ম্যাজিস্ট্রেটদের নিপীড়ন ও দাসত্ব সহ্য করবে না। সে সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয় খাজনা না দেওয়ার। বিদ্রোহী কণে।ঠ সবাই স্লোগান দিতে থাকে, ‘জমি চাই, মুক্তি চাই’। বিমল জানালেন, তারা বিশ্বাস করেন সিধু-কানুর সংগ্রামে পরাজয় ছিল, আপস ছিল না। সে সময় ইংরেজ শাসকবর্গও এ কথা স্বীকার করেছে। ওল্ডহাম সাহেব লিখেছেন : ‘পুলিশ ও মহাজনের অত্যাচারের স্মৃতি যাদের দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলেছিল, আন্দোলন তাদের সবাইকে আকৃষ্ট করল; কিন্তু যে মূল ভাবধারা কাজে পরিণত করবার চেষ্টা চলছিল তা ছিল সাঁওতাল অঞ্চল ও সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার চিন্তা।’ সে সময় বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিলেন ছটরায় দেশমাঝিও। বিদ্রোহের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন : ‘বিদ্রোহ আরম্ভ হওয়ার পূর্বে সিধু-কানু জাহির করল, আমরা মহিষ-টানা লাঙল ৮ আনায় ও বলদে টানা লাঙল ৪ আনায় দেব আর সরকার আমাদের কথা না রাখলে আমরা যুদ্ধ আরম্ভ করব, দোকোদের খতম করব এবং আমরাই রাজা হব।’ অরণ্যরাজ্যে সুখশান্তিতে বসবাস করার জন্য সাঁওতালরা জমি করেছে, গ্রাম বসিয়েছে, শান্তির দেশ গড়ে তুলেছে। কিন্তু সেই শান্তির দেশে তাদের শ্রমের অংশ লুট করে নেওয়ার জন্য কোম্পানির অনুগত জমিদার ও মহাজনরা হাত বাড়ায়। তারা প্রতিবাদ জানালে ব্রিটিশ শাসকরা কর্ণপাত করে না। তাদের সহ্যের সীমা যখন অতিক্রম করল তখন তারা বহুদিনের জমানো বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এভাবে ছড়িয়ে পড়ল বিদ্রোহ। বারহেট দখলের পরই সিধু-কানু সাঁওতাল বাহিনী গড়ে তুলতে লাগলেন। সে সময় রেলপথ তৈরি হচ্ছিল বলে জোয়ান জোয়ান সাঁওতাল ছেলেরা কাজে গিয়েছিল। তাদের ডেকে আনা হলো যুদ্ধে যাওয়ার জন্য। এ ছাড়া সাঁওতাল নেতারা গ্রামে গ্রামে শালডাল পাঠাতে লাগলেন। সাঁওতালদের কাছে শালডাল হলো একতার প্রতীক। তারা দলবেঁধে গ্রামে গ্রামে গিয়ে গান গেয়ে সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে লাগল বিদ্রোহে যোগ দেওয়ার জন্য। বিদ্রোহে সিধু-কানুর কী হয়েছিল? দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে সে ইতিহাস বলেন বিমল : ‘নভেম্বরের শেষভাগে জামতাড়া এলাকা থেকে বন্দি হয় কানু। সিধু ধরা পড়ে তার আগেই ঘাটিয়ারিতে। পরে তাকে ভাগনাদিহি গ্রামে নিয়ে হত্যা করা হয়। কানুর বিচার হয় আদালতে। বিচারে তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।’ সাঁওতাল বিদ্রোহীরা মৃত্যুবরণ করলেও তাদের উদ্দেশ্য বিফলে যায়নি। এ সংগ্রাম বাংলার ও ভারতের কৃষক সংগ্রামের ঐতিহ্যকে গৌরবান্বিত করেছে। বিদ্রোহীদের বীরত্বের কাহিনি পরবর্তী কৃষক সংগ্রামে ও সিপাহী বিদ্রোহের প্রেরণা জুগিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাঁওতালদের সংখ্যালঘুর স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাদের জন্য পৃথক সাঁওতাল পরগনা জেলা গঠন করা হয়, সেখানে জমির ওপর তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা পায়। তাই সাঁওতালরা আজও বিশ্বাস করে তাদের সত্ত্বায় সিধু-কানু বারবার ফিরে আসে। যেকোনো অন্যায় আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধ হয় সিধু-কানুর চেতনায়। সময় গড়িয়েছে। কিন্তু এদেশে সাঁওতালসহ আদিবাসীরা আজও পায়নি তাদের ভূমির নায্য অধিকার। বিশেষ করে সমতলের আদিবাসীদের বেশির ভাগ জমি ছিল কালেকটিভ। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর সেগুলো জমিনদারি খাস হয়ে যায়। এখনো অনেক এলাকায় আদিবাসীরা থাকছে, চাষ করছে এমন জমিকে সরকার খাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া ব্যক্তিমালিকানার জমিগুলোও আদিবাসীরা দখলে রাখতে পারছে না। প্রশাসনের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আদিবাসীদের জমিগুলো দখল করে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী বাঙালিরা। এ নিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে হরহামেশাই। সমতলের আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় আলাদা কার্যকরী ভূমি কমিশন গঠন করা এখন জরুরি। সে সঙ্গে জমির ওপর তাদের প্রথাগত মালিকানারও স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। তাহলেই সাঁওতাল জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব সত্তা ও সংস্কার নিয়ে টিকে থাকার প্রণোদনা পাবে।