Rz Rasel
০ দিন পূর্বে
6:08 pm
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশপত্নীর নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকার চাঁদা দাবি\ গ্রেফতার-৩
০ দিন পূর্বে
6:04 pm
সিন্ডিকেট মুক্ত ছাত্রলীগ হবে জাতিরজনকের প্রকৃত ছাত্রলীগ
২ দিন পূর্বে
6:05 pm
রাবিতে স্থগিতকৃত দশম সমাবর্তন মার্চে
৩ দিন পূর্বে
11:56 pm
‘মৃত্তিকা প্রতিবন্ধীবান্ধব সাংবাদিকতা অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ভৈরবের সুমন মোল্লা
৩ দিন পূর্বে
11:48 pm
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০১৮-এ অপো এফ ৫ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা
৩ দিন পূর্বে
11:43 pm
মোরেলগঞ্জে,শরণখোলায় কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি
৩ দিন পূর্বে
11:39 pm
শ্রীমঙ্গলে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
৩ দিন পূর্বে
11:28 pm
তানোরে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা
৩ দিন পূর্বে
11:23 pm
তানোরে শিশুদের শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন বিভাগীয় কমিশনার
৩ দিন পূর্বে
11:16 pm
বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা ও অসাম্প্রদায়িক,গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার কারিগর ছিলেন শহীদ আসাদ
৩ দিন পূর্বে
10:53 pm
প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ইনস্টাগ্রামে লাইভ, তারপর…
৩ দিন পূর্বে
8:09 pm
এই কলগার্লের জন্যই নাকি পদচ্যুত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী
৩ দিন পূর্বে
8:07 pm
২০ প্রেতাত্মার সঙ্গে ‘যৌন সম্পর্ক’ এই ব্রিটিশ যুবতীর!
৩ দিন পূর্বে
7:40 pm
অন্তরঙ্গ সময়ে টিভির নেশায় বুঁদ প্রেমিকা, ফলাফল…!
৩ দিন পূর্বে
5:58 pm
মা হচ্ছেন প্রীতি জিনতা!
৩ দিন পূর্বে
5:33 pm
খরচ বাঁচাতে ৮ জোড়া প্যান্ট ও ১০ জামা পরে বিমানবন্দরে যুবক
৩ দিন পূর্বে
5:22 pm
‘বিএনপির কোনো নীতি আদর্শ নেই’
৩ দিন পূর্বে
5:19 pm
যে ৮টি উপকারে আসতে পারে ফিটকিরি
৩ দিন পূর্বে
5:17 pm
অমিতাভ ও মাধুরীদের সারিতে সানি লিওন
৩ দিন পূর্বে
5:10 pm
ভারত বিরাটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল : রাবাদা
৩ দিন পূর্বে
5:08 pm
অবশেষে ঢেকে দেওয়া হল দীপিকার উন্মুক্ত পেট (ভিডিও)
৩ দিন পূর্বে
5:05 pm
আসামে ভূমিকম্পের আঘাত
৩ দিন পূর্বে
5:00 pm
রেডিওতে বাংরেজি বন্ধের নির্দেশ দিলেন তারানা
৩ দিন পূর্বে
4:50 pm
চলন্ত গাড়ির জানালার বাইরে টপলেস নারী! হঠাৎ…
৩ দিন পূর্বে
4:46 pm
বিশ্বে প্রথমবারের মতো চালু হলো পুতুলের যৌনপল্লী!(ভিডিও)
মানুষ মরছে যত্রতত্র, দায় কার?

photo-1465286043 একই দিনে চাঞ্চল্যকর দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটল বাংলাদেশে। একজন পুলিশের এসপির স্ত্রী। সকালে তাঁর ছেলেকে স্কুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে খুন হন। আরেকজন মুদির দোকানি। নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ার মিশনপল্লীতে সকাল ৮টার সময় হত্যা করা হয় তাঁকে। পুলিশ জানে না তাঁদের কে বা কারা হত্যা করেছে? কেন হত্যা করা হয়েছে? আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর মতোই একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে তাঁদের। এবার ছুরিকাঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুলি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন এসপির স্ত্রী হত্যার পেছনে জঙ্গিগোষ্ঠী দায়ী। কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন দীর্ঘদিন এসপি বাবুল আক্তার জঙ্গি দমনের সঙ্গে জড়িত। আর ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স’ টুইট করে বলেছে আইএস সুনীল গোমেজের হত্যার দায় স্বীকার করেছে। গত তিন বছরে এ রকম প্রায় ১৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে যাতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। হত্যাকাণ্ডের ধরনগুলো প্রায় একই রকম। চাপাতি কিংবা অন্য কোনো ধারারো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে অথবা কুপিয়ে হত্যা। তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের যাত্রা শুরু ২০০৪ সালে অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদের ওপর আক্রমণের মধ্য দিয়ে। তারপর থেকেই একে একে হত্যার শিকার হয়েছে ব্লগার, প্রকাশক, লেখক, সাংবাদিক, বিদ্যালয় শিক্ষক, সমকামী অধিকারকর্মী। ২০০৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো বিশ্লেষণ করলে কিছু বিষয় উঠে আসে। ২০০৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত যারা হত্যার শিকার হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের মুক্তমনা, ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। কিন্তু ২০১৫ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করেই সেটা অন্যদিকে মোড় নেয়। এর পর থেকে বিদেশি নাগরিক ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করা শুরু হয়। জাপানি নাগরিক, ইতালি নাগরিক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান বাদ পড়ছে না কেউ। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখন কেউ কথা বলতেও নারাজ। কারণ কেউ ঘাড়ে হাত দিয়ে দেখতে চায় না যে, তার গর্দানটি শরীরের সঙ্গে নেই। পরিস্থিতি এমন যে সবাই তার নিজ প্রাণ হাতে নিয়ে ঘুরছে। এ যেন বাপ্পা মজুমদারের গানের মতো ‘আমাদের মাথা থাকতে নাই, মাথা থাকার নিয়ম নাই’। উল্লেখিত ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে এখন পর্যন্ত একটি সমীকরণ দাঁড় করানো যায় যে, মুসলমানদের মধ্যে যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তাদের মধ্যে কোনো কট্টরপন্থী সুন্নি মুসলমান ছিল না। একজন আলেমকে হত্যা হয়েছে যিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী। অর্থাৎ এই থেকে এটা অনুমান করা যেতে পারে, ঘটনাগুলো যারাই ঘটায় না কেন তারা কট্টরপন্থী সুন্নি ও গোড়া মুসলমানদের ঘাড়ে দায় চাপাতে চাইছে। আইএসের যুক্ত থাকার যে খবর পাওয়া যাচ্ছে সেটাও যাচাই করে দেখতে হবে। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পরপরই সাইট ইন্টেলিজেন্স থেকে বলা হয় ‘এই ঘটনায় আইএস দায় স্বীকার করেছে’। খ্রিস্টান দোকানি সুনীল গোমেজের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও তার ব্যতিক্রম নয়। ‘সাইট ইন্টেলিজেন্সে’র টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বৌদ্ধভিক্ষু হত্যা ও খ্রিস্টান দোকানি হত্যার দায় শিকার করেছে আইএস। তাহলে সাইট ইন্টেলিজেন্স কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত? এরা কি বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র বানিয়ে এখানে হস্তক্ষেপ করতে চায়? এ তো গেল একদিকের বিশ্লেষণ। এবার সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাক। সরকার বারবার অস্বীকার করে আসছে বাংলাদেশে আইএস নেই। সরকার এটিকে বাইরের দেশের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করছে। আমরাও ধরে নিলাম সরকারের কথা সত্য। আমাদের দেশে হস্তক্ষেপ করার জন্য বাইরের কোনো শক্তি এ কাজটি করাচ্ছে। সেই মতে বাইরের সেই বিশেষ শক্তির একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। সরকারের উচিত সেই উদ্দেশ্য কী তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করা। এখন দ্বিতীয় প্রশ্ন, বাইরের সেই গোষ্ঠী যা সরকারের ভাষ্যমতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা তো জানে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি ক্ষমতায়, তাহলে কেন তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে যাবে? সরকারের দৃষ্টিকোণে দ্বিতীয় বিশ্লেষণ। যদি এটি বিদেশিদের ষড়যন্ত্রই হয়ে থাকে এবং সরকারের ভাষ্যমতে দেশে আইএস না থাকে, তাহলে এই হত্যাকাণ্ডগুলো কারা ঘটাচ্ছে? সরকার কখনো বলছে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আবার কখনো বলছে এটা বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্র আবার কখনো বলছে এটা এদেশীয় যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী রয়েছে তাদের কাজ। সরকারের এই তিনটি বিকল্পের মধ্যে প্রথম দুটি বিকল্প ভ্রান্ত ও অবাস্তব। এক. একই ধরনের ঘটনা যখন বারবার ঘটে, তখন তা আর বিচ্ছিন্ন থাকে না। দুই. বিএনপি-জামায়াতকে দোষারোপ একটি রাজনৈতিক বিবৃতি। বাকি থাকল এদেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠী। যদি এদেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠী করে থাকে, তাহলে সরকারের কেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সেই জঙ্গিগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন এগুলোর সুরাহা করতে ব্যর্থ হচ্ছে? তা ছাড়া এদেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যে আইএসের কোনো যোগসাজশ নেই তার নিশ্চয়তাই বা কে দেবে। আমরা আফ্রিকা অঞ্চলে বোকো হারামকে আইএসের আনুগত্য স্বীকার করতে দেখেছি। সরকার কেন এই বিষয়গুলো সুরাহা করছে না? এবার ধরা যাক দেশে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে তা আইএস ঘটাচ্ছে অথবা তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কেউ করছে। তাহলে কি আমরা সত্যই ঝুঁকির মধ্যে আছি! সেই রকম কিছু হলে, তাদের দমন করার জন্য কি সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে? সে ক্ষেত্রে সরকার কি বাইরের কোনো শক্তির সাহায্য নেবে? এই বিষয়গুলোর অবশ্যই সুরাহা হওয়া উচিত।  বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলছে, বাংলাদেশে যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে, এগুলো বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের অংশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য রাষ্ট্র এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে চায়। এগুলো কিসের আলামত? তাহলে কি সত্যিই বাইরের শক্তি আমাদের এখানে আইএস আছে বলে হস্তক্ষেপ করতে চায়? একটি ব্যাপারে সরকারের দ্বৈতনীতি লক্ষণীয়। কোনো রকম কিছু ঘটলেই এটি বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্র অথবা কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলে এটি ‘জঙ্গিগোষ্ঠীর’ কাজ বলে দায় এড়াতে চায়। আবার সরকার বাংলাদেশে আইএস নেই কিংবা এ দেশে আইএসের কোনো প্রতিনিধি নেই সেটাও প্রমাণ করতে খুব তৎপর। অর্থাৎ সরকার এই ইস্যুটিকেও তাদের ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। একদিকে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা জঙ্গিবিরোধী এবং জঙ্গিদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। আবার আইএস ইস্যুতে এ দেশের মানুষকে বোঝাতে চাইছে যে বিদেশিরা এ দেশের ইসলাম ধ্বংস করার জন্য আইএস ইস্যু তুলছে। কিন্তু সত্যিকারে এই ঘটনাগুলো কারা ঘটাচ্ছে, তাদের শক্তির উৎসই বা কী, কীভাবে তারা একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে? কেন এই ব্যাপরে কোনো কূল-কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না? এসব আমাদের নাগরিক মনের প্রশ্ন। আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা বীতশ্রদ্ধ। আমরা নিজেদের অসহায়ত্ব টের পাচ্ছি প্রতিনিয়ত। আমরা চাই আমাদের সরকার এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আমাদের স্বস্তির মধ্যে রাখবে। ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ টাইপের কথা বলে সরকার তার দায় এড়াতে পারে না। ঘটনা আইএস করুক, দেশীয় জঙ্গি করুক কিংবা বিচ্ছিন্ন হোক ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করাই সরকারের কাজ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা আমাদের দেশকে পাকিস্তান, ইরাক কিংবা সিরিয়া হিসেবে দেখতে চাই না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ হিসেবে সুদীর্ঘকাল পরিচিতি পাওয়া এ দেশে ঈদ-পূজা একসঙ্গে উদযাপিত হয়। সেই দেশে আইএসের নামে বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ মানুষ যেমন কামনা করে না তেমনি অদৃশ্য শক্তির হাতে স্বাধীনচেতা মুক্তমনা কিংবা সংখ্যালঘু মানুষের মৃত্যুও দেখতে চায় না। লেখক : গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক