Rz Rasel
০ দিন পূর্বে
6:08 pm
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশপত্নীর নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকার চাঁদা দাবি\ গ্রেফতার-৩
০ দিন পূর্বে
6:04 pm
সিন্ডিকেট মুক্ত ছাত্রলীগ হবে জাতিরজনকের প্রকৃত ছাত্রলীগ
২ দিন পূর্বে
6:05 pm
রাবিতে স্থগিতকৃত দশম সমাবর্তন মার্চে
৩ দিন পূর্বে
11:56 pm
‘মৃত্তিকা প্রতিবন্ধীবান্ধব সাংবাদিকতা অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ভৈরবের সুমন মোল্লা
৩ দিন পূর্বে
11:48 pm
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০১৮-এ অপো এফ ৫ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা
৩ দিন পূর্বে
11:43 pm
মোরেলগঞ্জে,শরণখোলায় কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি
৩ দিন পূর্বে
11:39 pm
শ্রীমঙ্গলে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
৩ দিন পূর্বে
11:28 pm
তানোরে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা
৩ দিন পূর্বে
11:23 pm
তানোরে শিশুদের শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন বিভাগীয় কমিশনার
৩ দিন পূর্বে
11:16 pm
বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা ও অসাম্প্রদায়িক,গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার কারিগর ছিলেন শহীদ আসাদ
৩ দিন পূর্বে
10:53 pm
প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ইনস্টাগ্রামে লাইভ, তারপর…
৩ দিন পূর্বে
8:09 pm
এই কলগার্লের জন্যই নাকি পদচ্যুত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী
৩ দিন পূর্বে
8:07 pm
২০ প্রেতাত্মার সঙ্গে ‘যৌন সম্পর্ক’ এই ব্রিটিশ যুবতীর!
৩ দিন পূর্বে
7:40 pm
অন্তরঙ্গ সময়ে টিভির নেশায় বুঁদ প্রেমিকা, ফলাফল…!
৩ দিন পূর্বে
5:58 pm
মা হচ্ছেন প্রীতি জিনতা!
৩ দিন পূর্বে
5:33 pm
খরচ বাঁচাতে ৮ জোড়া প্যান্ট ও ১০ জামা পরে বিমানবন্দরে যুবক
৩ দিন পূর্বে
5:22 pm
‘বিএনপির কোনো নীতি আদর্শ নেই’
৩ দিন পূর্বে
5:19 pm
যে ৮টি উপকারে আসতে পারে ফিটকিরি
৩ দিন পূর্বে
5:17 pm
অমিতাভ ও মাধুরীদের সারিতে সানি লিওন
৩ দিন পূর্বে
5:10 pm
ভারত বিরাটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল : রাবাদা
৩ দিন পূর্বে
5:08 pm
অবশেষে ঢেকে দেওয়া হল দীপিকার উন্মুক্ত পেট (ভিডিও)
৩ দিন পূর্বে
5:05 pm
আসামে ভূমিকম্পের আঘাত
৩ দিন পূর্বে
5:00 pm
রেডিওতে বাংরেজি বন্ধের নির্দেশ দিলেন তারানা
৩ দিন পূর্বে
4:50 pm
চলন্ত গাড়ির জানালার বাইরে টপলেস নারী! হঠাৎ…
৩ দিন পূর্বে
4:46 pm
বিশ্বে প্রথমবারের মতো চালু হলো পুতুলের যৌনপল্লী!(ভিডিও)
কুরআন-সুন্নাহ ও শবেবরাত

লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রজনী হচ্ছে আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে শবেবরাত নামে পালিত একটি পুণ্যময় রাত। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মুসলমান বিভিন্ন কারণে এটি পালন করেন। এই রাতকে লাইলাতুল বরাত বলাও হয়। মধ্য শাবানের এ রজনী নিয়ে এ উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ল করা যায়। এ রাতের ফজিলতের মহাগুরুত্ব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আছে। কুরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞানই এই পথ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। আর এতে মুসলিম উম্মাহর বিভাজনের রেখা অনেকাংশেই মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, শবেবরাত নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোনো বিভেদ-বিবাদ নেই। আছে এই দিনকে কেন্দ্র করে যেসব বিদায়াত আমাদের সমাজে প্রচলিত হয়েছে, সেসব নিয়ে। সঠিক কোনো প্রমাণ না থাকলেও মুসলিম সমাজে ইবাদতের মধ্যে বিদায়াত চালু হয়েছে ব্যক্তিবিশেষের দোহাই দিয়ে। অনেকে বলে থাকেন, কুরআন-হাদিসের কোথাও শবেবরাত শব্দ নেই। মূলত শবেবরাত এবং এর ফজিলত পবিত্র কুরআনের আয়াত ও হাদিস শরিফ দ্বারা প্রমাণিত। কিছু আলেমের মতে, কুরআন মজিদে শবেবরাতকে লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর হাদিস শরিফে শবেবরাতকে লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান বা শাবান মাসের মধ্য রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআনে ব্যবহৃত ‘লাইলাতুল মুবারাকাহ’ বাক্যাংশটি অনেকে ‘শবেবরাত’ উল্লেখ করেন। এই আয়াত সূরা দুখানে এভাবে এসেছেÑ ‘আমরা এই কুরআনকে এক মহিমাময় (বরকতময়) রাতে নাজিল করেছি। আমরা অবশ্যই সতর্ক কারী। আমারই নির্দেশক্রমে উক্ত রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয় ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।’ (৪৪:৩)। এখানে উল্লেখিত আয়াতটি শবেকদর হিসেবে আমরা জানি। তবে যারা আয়াতটির অর্থধারাকে শবেবরাতেও প্রসারিত করেন, তাদের ব্যাখ্যাও শুনতে পারি। এই ব্যাখ্যাধারার তারতিব (ক্রম) হচ্ছে এই যে মধ্য শাবানের রাতে গোটা কুরআন বাইতুল মামুর থেকে দুনিয়ার আসমানে আসে এবং এতে এককালীন গুরুত্ব প্রকাশ পায়। তারপর, লাইলাতুল কদরের রাতে প্রথম অংশ নাজিল হয় এবং তাৎপর্যের দিক দিয়ে এটাই বৃহত্তর ও মূল তাঞ্জিল। ওই রাতেই (অর্থাৎ শবেকদরের রাতে) আল্লাহর নির্দেশে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আর এভাবেই তারা এ দুই রাত-কেন্দ্রিক বর্ণনার সমন্বয় করেছেন। হজরত সাইয়্যিদুনা আলী মুরতাদা রা: থেকে বর্ণিত, নবী করিম সা:-এর মহান বাণী, যখন শাবানের ১৫তম রাতের আগমন ঘটে তখন তাতে কিয়াম (ইবাদত) করো আর দিনে রোজা রাখো। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ তাজাল্লি বর্ষণ করেন এবং ইরশাদ করেন : কেউ আছো কি আমার নিকট মা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি মা করে দেবো! কেউ আছো কি জীবিকা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি জীবিকা দান করব! কেউ কি আছো মুসিবতগ্রস্ত? তাকে আমি মুক্ত করব! কেউ এমন আছো কি! কেউ এমন আছো কি! এভাবে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে ডাকতে থাকবেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, ২য় খণ্ড, পৃ: ১৬০, হাদিস নং-১৩৮৮)। এ প্রসঙ্গে মুফাসসিরকুল শিরোমণি বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: স্বীয় তাফসিরে উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহ পাক লাইলাতুম মুবারাকাহ বলতে শাবান মাসের মধ্যরাত বা শবেবরাতকে বুঝিয়েছেন। আল্লাহ পাক এ রাতে প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলোর ফায়সালা করে থাকেন। (ছফওয়াতুত তাফাসির, তাফসিরে খাজিন ৪র্থ খণ্ড : ১১২ পৃষ্ঠা, তাফসিরে ইবনে আব্বাস, তাফসিরে মাজহারি ৮ম খণ্ড : ৩৬৮ পৃষ্ঠা, তাফসিরে মাজহারি ১০ম খণ্ড)। লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবেবরাতকে বুঝানো হয়েছে, তার যথার্থ প্রমাণ সূরা দুখানের ৪ নম্বর আয়াত। এই আয়াত শরিফের ‘ইয়ুফরাকু’ শব্দের অর্থ ফায়সালা করা। প্রায় সমস্ত মুফাসসিরিনে কেরাম ইয়ুফরাকু শব্দের তাফসির করেছেন ইয়ুকতাবু অর্থাৎ লেখা হয়, ইয়ুফাছছিলু অর্থাৎ ফায়সালা করা হয়, ইয়ুতাজাও ওয়াজু অর্থাৎ বণ্টন বা নির্ধারণ করা হয়, ইয়ুবাররেমু অর্থাৎ বাজেট করা হয়, ইয়ুকদিয়ু অর্থাৎ নির্দেশনা দেয়া হয়। কাজেই ইয়ুফরাকু’র অর্থ ও তার ব্যাখ্যার মাধ্যমে আরো স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবেবরাত বা ভাগ্যরজনীকে বুঝানো হয়েছে। যেই রাতে সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্যগুলো সামনের এক বছরের জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সেই ভাগ্যলিপি অনুসারে রমজান মাসের লাইলাতুল কদর বা শবেকদরে তা চালু হয়। এজন্য শবেবরাতকে লাইলাতুত তাজবিজ, অর্থাৎ ফায়সালার রাত এবং শবেকদরকে লাইলাতুল তানফিজ, অর্থাৎ নির্ধারিত ফায়সালা কার্যকরী করার রাত বলা হয়। (তাফসিরে মাজহারি, রুহুল বয়ান, লুবাব)। শবেবরাত সম্পর্কিত হাদিস ও সনদ : ১. ‘হযরত আয়েশা রা: হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, একদা আল্লাহ তায়ালার হাবিব হুজুরে পাক সা:-এর সাথে কোনো এক রাত যাপন করছিলাম। এক সময় তাকে বিছানায় না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিনি হয়তো অন্য কোনো আহলিয়া রা:-এর হুজরা শরিফে তাশরিফ নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে তাকে জান্নাতুল বাকিতে পেলাম। সেখানে তিনি উম্মতের জন্য আল্লাহ পাকের নিকট মা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরিফে ফিরে এলে তিনিও ফিরে এলেন এবং বললেন : আপনি কি মনে করেন আল্লাহ পাকের হাবিব আপনার সাথে আমানতের খিয়ানত করেছেন? আমি বললাম : ইয়া রসূলাল্লাহ সা:! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোনো আহলিয়ার হুজরা শরিফে তাশরিফ নিয়েছেন। অতঃপর হুজুরে পাক সা: বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক শাবানের ১৫ তারিখ রাতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন; অর্থাৎ রহমতে খাস নাজিল করেন। অতঃপর তিনি বনি কালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে বেশিসংখ্যক বান্দাকে মা করে থাকেন। (সুনানে তিরমিজি (২/১২১,১২২), (মুসনাদে আহমাদ ৬/২৩৮) ইবনে মাজাহ, রজিন, মিশকাত শরিফ)। ২. মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিলোকের দিকে দৃষ্টি দান করেন এবং সবাইকে মাফ করে দেন কেবল মুশরিক ব্যক্তি ছাড়া ও যার মধ্যে ঘৃণাবিদ্বেষ রয়েছে তাকে ছাড়া। বর্ণনায়, মুয়াজ বিন জাবাল। আবু বাকর রা: বর্ণনা করেন আল্লাহ তায়ালা মধ্য শাবানের রাতে (দুনিয়ার আসমানে) আসেন এবং সবাইকে মাফ করে দেন কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া, যার হৃদয়ে ঘৃণাবিদ্বেষ রয়েছে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করে (অর্থাৎ মুশরিক)। (আল-আলবানি বলেন, ‘হাদিসটি অন্য সূত্রে সহি।’ তাখরিজ মিশকাত আল মাসাবিহ, (ক্রম, ১২৫১) (ইবন হাজর আল-আসকালানি তার আল-আমাল আল-মুথলাকাহ গ্রন্থ (ক্রম, ১২২)। হজরত আলী রা: বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাকের হাবিব হুজুরে পাক সা: বলেন, যখন অর্ধশাবানের রাত তথা শবেবরাত উপস্থিত হবে তখন তোমরা ওই রাতে সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগি করবে এবং দিনের বেলায় রোজা রাখবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক ওই রাতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে রহমতে খাস নাজিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করতে থাকেন, কোনো মা প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি মা করে দেবো। কোনো রিজিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিজিক দান করব। কোনো মুসিবতগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুসিবত দূর করে দেবো। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস-১৩৮৪)। তবে এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে যে কাদের আমল কবুল হয়, আর কাদের হয় না। বিভিন্ন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যেসব লোকের আমল কবুল হয় না তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ এক. মুশরিক, অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে যেকোনো ধরনের শিরকে লিপ্ত হয়, দুই. যে ব্যক্তি কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তিন. আত্মহত্যার ইচ্ছা পোষণকারী, চার. যে ব্যক্তি অপরের ভালো দেখতে পারে না অর্থাৎ পরশ্রীকাতরতায় লিপ্ত, পাঁচ. যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, চাই তা নিকটতম আত্মীয় হোক বা দূরবর্তী আত্মীয় হোক, ছয়. যে ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, সাত. যে ব্যক্তি মদপানকারী অর্থাৎ নেশাকারী, আট. যে ব্যক্তি গণকগিরি করে বা গণকের কাছে গমন করে, নয়. যে ব্যক্তি জুয়া খেলে, দশ. যে ব্যক্তি মাতাপিতার অবাধ্য হয়, এগারো. টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী পুরুষ। তাই শুধু শবেবরাত নয়, সব রাতের পূর্ণ ফজিলত ও দোয়া কবুল হওয়ার জন্য উল্লেখিত কবিরা গুনাহগুলো থেকে খাঁটি দিলে তাওবা করা উচিত। শবেবরাত সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাস ও আমল রয়েছে যা থেকে বিরত থাকা কল্যাণকর। এর মধ্যে রয়েছে, রাতে গোসল করাকে সওয়াবের কাজ মনে করা। মৃতব্যক্তিদের রূহ এ রাতে দুনিয়ায় তাদের সাবেক ঘরে আসে বলে মনে করা। এ রাতে হালুয়া-রুটি তৈরি করে নিজেরা খাওয়া ও অন্যকে দেয়া জরুরি মনে করা। বাড়ি বাড়ি এমনকি মসজিদে মসজিদেও মিলাদ পড়ার রেওয়াজ বানানো। আতশবাজি করা, সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা। কবরস্থানগুলো আগরবাতি ও মোমবাতি দিয়ে সজ্জিত করা। দলে দলে কবরস্থানে যাওয়া ইত্যাদি। জয়িফ হাদিস প্রসঙ্গ জয়িফ হাদিসের দুর্বলতার কম বা বেশি হতে পারে। কম দুর্বলতা হাসানের নিকটবর্ত্তী আর বেশি হতে হতে মওজুতে পরিণত হতে পারে। এ ধরনের হাদিস আমলে উৎসাহিত করার জন্য বর্ণনা করা যেতে পারে বা করা উচিত, তবে আইন প্রণয়নে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ প্রসঙ্গে হজরত ইমাম ইবনে হুমাম রহ: বলেন, ‘জয়িফ হাদিস, যা মওজু নয় তা ফজিলতের আমলগুলোতে গ্রহণযোগ্য।’ (ফতহুল কাদির ২/৪৩৮)। বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকিহ হজরত মোল্লা আলী কারি রহ: বলেন, ‘সকলেই একমত যে জয়িফ হাদিস ফজিলত হাসিল করার জন্য আমল করা জায়েজ আছে।’ (আল মওজুআতুল কবির, ১০৮ পৃষ্ঠা)। উপরের উক্ত বর্ণনার দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, জয়িফ হাদিস ফজিলত হাসিল করার জন্য আমল করা জায়েজ আছে। তবে জয়িফ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত সব আমল মুস্তাহাব। যেমনÑ আল্লামা ইব্রাহিম হালবি রহ: তার গুলিয়াতুল মুস্তামালি ফি শরহে মুনিয়াতুল মুসাল্লি কিতাবে উল্লেখ করেছেন, ‘গোসলের পরে রুমাল (কাপড়) দিয়ে শরীর মোছা মুস্তাহাব। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রা: হতে বর্ণিত আছেÑ আল্লাহ পাকের হাবিব সা:-এর এক টুকরা কাপড় ছিল, যা দিয়ে তিনি অজুর পরে শরীর মুবারক মুছতেন।’ (তিরমিজি শরিফ)। এটা জয়িফ হাদিস। কিন্তু ফজিলত হাসিল করার জন্য আমল করা যাবে। এই রাতের আমল : এ রাতের আমলগুলো ব্যক্তিগত, সম্মিলিত নয়। ফরজ নামাজ তো অবশ্যই মসজিদে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বে। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার কোনো প্রমাণ হাদিসে নেই। আর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর কোনো প্রচলন ছিল না। ইকতিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম : ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ ২১৯। এ সম্পর্কিত হাদিস : হজরত আয়েশা রা: বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সা: রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হলো তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। নবীজী সা: জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সা: তখন ইরশাদ করলেনÑ ‘এটা হলো অর্ধশাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত)। আল্লাহ তায়ালা অর্ধশাবানের রাতে তাঁর বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং প্রার্থনাকারীদের মা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুয়াবুল ঈমান, বায়হাকি : ৩/৩৮২-৩৬৮। ইমাম বায়হাকি এর সনদের ব্যাপারে বলেছেন এটি মুরসাল হাদিস।) বিখ্যাত হাদিস ব্যাখ্যাকারী আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিার (রহ: বলেনÑ এটা লাইলাতুল বরাত, এ রাতের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসগুলো সহি। (আরফুশ শাজি শরহে তিরমিজি, পৃষ্ঠা-১৫৬) এ ছাড়া মুফাসসিরিনদের অনেকে দাবি করেছেন, সূরা দুখানে বর্ণিত যে রাতকে লাইলাতুম মুবারাকাহ বলা হয়েছে তা অবশ্যই শবেবরাত। (ইমাম কুরতবি, মোল্লা আলী কারি (রহ:), বুখারি শরিফের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহ: এবং হাম্বলী মাজহাবের অন্যতম ইমাম বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহিসহ আরো অনেকে এ বিষয়ে একমত)। শেষ কথা আল্লাহ তায়ালা এ রাতে যদি দুনিয়ার আকাশে আসেন, যদি তিনি তাঁর বান্দাদের মা করেন, যদি অসংখ্য পাপীতাপী লোক আল্লাহর কৃপা লাভ করেন, যদি তারা গ্লানি নিঃশেষে মুক্তচিত্তে পুণ্যপথে অগ্রসর হন; তবে কোন যুক্তিতে তাতে বাধা আসবে? যেসব সাধারণ মানুষ এতকাল ধরে শবেবরাত পালন করে আসছে তাদের সামনে শবেবরাতের গুরুত্ব খাটো করে ব্যাখ্যা হাজির করা যাবে বটে; কিন্তু এতে দ্বীনের কোনো উপকার হবে না। শুধু এই একটি রাতে কত শত-সহস্র লোক আল্লাহর দিকে রুজু হয়ে ইবাদত-বন্দেগি করে, আল্লাহর নাম নেয়, নামাজ পড়ে, জিকির-আজকার করে। এই সুবাদে তাদের ছেলেমেয়েরাও ইবাদতের এহসাস লাভ করে কান্নাকাটি করে। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত কখন কোন বান্দার প্রতি খাস রহমতের দ্বার খুলে কবুল করে নেন, সেটা আমরা কী করে বলি। ওইসব লোক তো হাদিস শরিফে বর্ণিত অশেষ ফজিলতের প্রতি বিশ্বাস করেই এ রাতে কিছু হলেও ইবাদত করার চেষ্টা কোশেস করেÑ এটাকে নিরুৎসাহিত করে কী লাভ হবে? কবে বরাতের ব্যাপারে এক সপ্তাহ ধরে আমরা দেশের শীর্ষ উলামা মাশায়েখ ও শতাধিক মুফতির মতামত গ্রহণ করি। সবারই প্রায় এক ও অভিন্ন অভিমত হলো- ১. শবেবরাত উপলক্ষে প্রচলিত সব বিদায়াত ঘৃণিত অপরাধ। ২. এ রাতকে কেন্দ্র করে যাবতীয় নফল ইবাদতকে ফরজ হিসেবে চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই। ৩. যারা দ্বীনি মহব্বতে নফল ইবাদতে মশগুল হন ও মসজিদপানে ছুটে চলেন, তাদেরকে থামিয়ে দেয়া সমীচীন নয়। ৪. মসজিদ বা বিভিন্ন মাহফিলে এ রাত উপলক্ষে যারা সমবেত হন সেসব আল্লাহর বান্দাদের নিরুৎসাহিত না করে কুরআন-সুন্নাহর মানদণ্ডে দ্বীনের আসল চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলা দ্বীনি দাওয়াতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লেখক : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক ই-মেইল: khalilmadani07@gmail.com