জনপ্রিয় সংবাদ

x

রাতে নিরাপত্তার নামে রক্ষক যখন ভক্ষক ! পুলিশ পরিচয়ে রাতের রাস্তায় কারা করছে ছিনতাই ?

মঙ্গলবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১০:৩০ অপরাহ্ণ | 48 বার

রাতে নিরাপত্তার নামে রক্ষক যখন ভক্ষক ! পুলিশ পরিচয়ে রাতের রাস্তায় কারা করছে ছিনতাই ?
পুলিশ পরিচয়ে রাতের রাস্তায় কারা করছে ছিনতাই ?

রাতে জরুরী প্রয়োজনে আপনি যখন বাড়ীর বাহিরে যাবেন, অথবা কাজ শেষ করে কর্মক্ষেত্র থেকে যখন বাড়ী ফিরবেন আপনার ভরসা আপনার কাছেই নয়  ভরসা তখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনির হাতেই । আর তারাই যদি রাতে নিরাপত্তার নামে রক্ষক হয়ে ভক্ষক বনে যান । তখন জাতি কী আর আশা করবে? কথাটি যদিও বর্তমানে আমাদের দেশের সাথে বেমানান তবু কিছু কিছু সময় এটিই প্রকৃত সত্য!

সোমবার রাতে যাত্রাবাড়িতে পুলিশধারা ছিনতাইয়ের শিকার হয় দু’জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের (H M Faruk Ahmed) স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে এই কথাটির সংশ্লিষ্টতা!

সোমবার রাত ১২টা, স্থান যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভারের নিচে। আমি আর আমার ফ্রেন্ড মিজান। একজন সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করছি নিজ এলাকার এক কলেজে অন্যজন কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়ছে উত্তরার একটি কলেজে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি টুকি-টাকি সাংবাদিকতা করি। কয়েকটি পত্রিকা-অনলাইনে কাজ করেছি। মোটামুটি অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তারপরও কখনও নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার বা কাউকে ক্ষতির করার মতো কাজ আমাকে দিয়ে হয়নি! কোথাও নিজের সাংবাদিকতার পরিচয়টাও দেয় না।

সোমবার সন্ধ্যার পর যাত্রাবাড়ি মোড়ে গিয়েছিলাম এক বড় ভাইয়ের ওয়েব সাইটের কাজ বুঝিয়ে দিতে। তিনি সেখানকার স্থানীয় রাজনীতিবিদ। নেতাও বটে। ওনার ওখানে কাজ শেষ করে বের হতে হতে রাত ১২টা বেজে গেল। যাত্রাবাড়ি মোড় থেকে একটা সিএনজি নিলাম উত্তর বাডার (আমাদের বাসা) উদ্দেশ্যে। সিএনজি রওয়ানা হলো যাত্রাবাড়ি মোড় ছেড়ে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে কিছু দূর যেতেই সায়েদবাদ পেট্রোল পাম্পের আগে পুলিশের চেক পোস্টে আমাদের সিএনজিটি সিগনাল দেওয়া হলো থামানোর জন্য। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সিএনজি ড্রাইভার সিএনজিটি থামালো। তার পর পুলিশ বললো কোথায় যাছ? গাড়ি থেকে নাম! আমরাও নামলাম। তার পর একে একে ব্যাগ, মানিব্যাগ, পকেট, দেহ কোনো কিছুই রেহাই পায়নি পুলিশের তল্লাসী থেকে। মোবাইলের গ্যালারিটাসহ চেক করেছে পুলিশ। জাতির কাছে প্রশ্ন হচ্ছে? একজনের ব্যক্তিগত জিনিষ চেক করার এখতিয়া তাকে কে দিয়েছে?

অবৈধ কিছু না পেয়ে এবার শুরু হলো কিভাবে আমাদের ফাঁসানো যায় সেই ফন্দি! পুলিশ সফলও হলো! মিজানের মানিব্যাগে বাংলাদেশী পুরোনো টাকা (তৎকালীন পাকিস্তানী) টাকা দেখে শুরু হলো ওদের ফাইজলামি! আমরা নাকি পাকিস্তান থেকে এসেছি! পাসপোর্ট দিতে হবে! না হয় জেলে যেতে হবে! এভাবে আমাদের ওপর চলতে থাকলো মানসিক টর্চার!

কোনো কোনো পুলিশ সদস্য বলছে হ্যান্ডক্যাপ লাগাও থানায় নিতে হবে! কেউ বলছে আমরা নাকি জঙ্গি, আমাদেরকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে, তার পর আমি বললাম আমরা ওমুক নেতার কাজ শেষ করে এসেছি, আমরা স্টুডেন্ট, আমাদেরকে ছেড়ে দিন। আমরা কিছু করি নাই। এতেই তারা আরো ক্ষেপে উঠলো! নেতা-টেতা টাইম নাই, যা তা বাজে গালি আর ব্যবহার। তখন বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করবো? ঠিক তখনই আল্লাহর রহমত! একজন বলে উঠলো তোমরাতো ফেঁসে গেছো কিভাবে সমাধাণ করবা করো! তখন আরেকজন বললো এতো (২০০০) টাকা লাগবে! তবেই তোমরা মুক্তি পাবে না হয় জেলে! তারপর অনেক দর কষাকষির পর ৫০০ টাকা দিয়ে মুক্তি পেলাম! কিন্তু আগেই যে মানিব্যাগ থেকে আরো ২৫০০ টাকা নিয়ে গেছে সেটা টের পাইনি। মানি ব্যাগ চেক করার সময় আমার মানিব্যাগের টাকাগুলো তারাতো আগেই মেরে দিয়েছে। সিএনজিতে উঠার পর টের পেলাম সেটা ভোগে চলে গেছে! কি আর করার সবই কপাল। ভাগ্য মেনে নিয়ে সিএনজি গুরিয়ে রওয়ানা দিলাম সেই বড় ভাইয়ের (নেতা) কাছে। ভাইয়ার কাছে সব খুলে বলার পর অনেক ফোন আর কথাবার্তা, টাকা ফেরত!

কিন্তু কথা হলো এটা কি স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও কি আমি স্বাধীনতা পেয়েছি? যাদের দেয়া হয়েছে জনগণকে রক্ষার দায়িত্ব তাদের মাধ্যমেই আজ জনগণ লাঞ্চিত, নিপিড়িত! ৭১এ যেমন পাকিস্তানীদের হাতে লুন্ঠন হয়েছি আমরা ঠিক একই ভাবে আজ ওদের (পুলিশ) নির্যাতিত হচ্ছি আমরা।আজ আমরা হয়তো বড় ভাইর (নেতা) মাধ্যমে ক্ষমতার দাপটে টাকা ফেরত পেয়েছি! কিন্তু এরকম হাজারো স্টুডেন্ট, চাকরিজীবী মানুষ যখন এরকমের রক্ষকের ভূমিকায় থাকা ভক্ষকদের হাতে সর্বচ্ছ হারাচ্ছে সেই দায়ভার কে নিবে?

Development by: webnewsdesign.com