জনপ্রিয় সংবাদ

x

মুখোমুখি আসতে পারছেন না পায়েল, যিশু!

শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৬ | ১:১৭ পূর্বাহ্ণ | 612 বার

মুখোমুখি আসতে পারছেন না পায়েল, যিশু!
যিশু সেনগুপ্ত ও পায়েল সরকার

একদিকে যেমন ‘চাঁদের পাহাড়’ বা তার সিকুয়েলের মতো নির্ভেজাল মেনস্ট্রিম ছবি করছেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়– অন্যদিকে ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘ক্ষত’-র পর আবার একটা এক্সপেরিমেন্টাল ছবিতে হাত দিলেন৷ ছবির নাম ‘মুখোমুখি’৷ মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন যিশু সেনগুপ্ত, অঞ্জন দত্ত, রজতাভ দত্ত, গার্গী রায়চৌধুরি, পায়েল সরকার৷ সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া এই ছবিতে রজতাভ একজন এক্স আর্মি অফিসার, তার স্ত্রীর চরিত্রে গার্গী, ঔপন্যাসিক৷ গার্গী যে উপন্যাস লিখছে, সেই গল্পের চরিত্ররা হল যিশু, পায়েল, অঞ্জন দত্ত ও অন্যান্যরা৷

কুদঘাট মেট্রোর কাছে একটি স্টুডিওতে সেদিন শুটিং-এ উপস্থিত ছিল গার্গী বাদে সবাই৷ ক্লাইম্যাক্স শট নেওয়ার কথা৷ যিশু এবং অঞ্জন দত্ত মুখোমুখি৷ কমলেশ্বরের এই ছবির গোটাটাই শুটিং হবে কলকাতায় এবং এই একটাই লোকেশনে৷ ‘মুখোমুখি’-র আগে এমন প্রয়াস খুব একটা মনে পড়ছে না৷ ছবির সেট-এ একটা চমক রয়েছে৷ অনেকটা নাটকের মঞ্চের মতো করে সাজানো৷ ড্রইংরুম, বেডরুম, কিচেন, স্টাডিরুম সব একটাই স্পেসে৷ এবং ইচ্ছে মতো পাল্টে নেওয়া যায়৷ এই পরাবাস্তব স্পেসেই প্রতিটা চরিত্র একে অপরের মুখোমুখি৷ সেট ডিজাইন করেছেন তন্ময় চক্রবর্তী৷

শুটিং-এর ফাঁকে ব্রেক৷ কথা হল যিশু সেনগুপ্তর সঙ্গে৷ ‘ব্যোমকেশ’, ‘জুলফিকর’ সাফল্যের পর এই ছবিতে যিশুর লুক স্বাভাবিক৷ তেমন মেকওভার নেই৷ ‘এই ছবিতে আমি শৌনক৷ গার্গীর উপন্যাসের একটা চরিত্র৷ রিলেশনশিপ নিয়ে তৈরি ছবি৷ যে প্রশ্নগুলো আমরা নিজেদের কাছে অ্যাভয়েড করি সেটা উঠে আসে এই ছবিতে৷ ইটস আ ডিফিকাল্ট ফিল্ম৷ শৌনক অ্যাড এজেন্সিতে কাজ করে৷ কিন্তু গায়ক হতে চায়৷

এই সমাজের বাঁধাধরা, একঘেয়ে নিয়ম ভেঙে বেরোতে চায়৷ এর আগে ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’-এ দুটো প্যারালাল স্টোরি ছিল, কিন্তু এই ফরম্যাটের ছবি আমি জানি না ভারতে আগে হয়েছে কি না! গার্গী একরকমভাবে চরিত্রগুলো ভাবে, রনিদা (রজতাভ) বলে, চরিত্রগুলো তো অন্যভাবে বিহেভ করতে পারে৷ যখন রনিদা টেকওভার করে তখন আবার চরিত্রগুলো বদলে যায়৷ আজকের দৃশ্যটা আমার আর অঞ্জনদার৷ শৌনকের কাছে ওর জীবনের আয়নাটা ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়৷ ইটস্ অলমোস্ট দি এন্ড সিকোয়েন্স’, জানালেন যিশু৷

jisu

‘চাঁদের পাহাড় টু’-এর পোস্ট প্রোডাকশনের পাশাপাশি চলছে এই ছবির শুটিং৷ সেই স্ট্রেস পরিচালকের চোখে-মুখে৷ তবু নতুন ছবির উত্তেজনা সেই সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়৷ ‘এই ন্যারেটিভটা অনেকটা ব্রেশটিয়ান ফরম্যাটে৷ তার মাঝখানে লেখক-লেখিকা ওই স্পেসটাতে ঢুকে পড়ে৷ এই স্ক্রিপ্টটা আগে লেখা ছিল৷ এতদিনে ফ্রেন্ডস কমিউনকেশন এগিয়ে এসেছেন প্রযোজনার জন্য৷ এই ছবিটা এইভাবে তৈরি করতে হত কারণ স্ক্রিনপ্লে-টা এই ফরম্যাট ডিমান্ড করে আর দ্বিতীয়ত, আর-একটু অন্যরকম ভিস্যুয়াল এক্সপিরিয়েন্স যাতে হয় সেটা চেয়েছি৷ একটু এক্সপেরিমেন্টাল ছবি৷

যেভাবে প্রথাগত স্টাইলে শুটিং হয়, তার বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি৷ আর চরিত্রগুলো আমার ভীষণ চেনা৷ আসলে মূল বিষয়টা হল দু’জন মানুষকে কিছুতেই মেলানো যাচ্ছে না পাশাপাশি থাকা সত্ত্বেও৷ পৃথিবীর সব মানুষ মিলবে কী করে সেটাই হল প্রশ্ন৷ এটা অত্যন্ত রাজনৈতিক একটা ছবি৷ শুধু সরল সম্পর্কের ছবি নয়”, বলছিলেন কমলেশ্বর৷ এও জানালেন অঞ্জন দত্ত এই ছবিতে বিবেকের চরিত্রে৷ ছবিতে মিউজিক করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র৷

অঞ্জন দত্ত এলেন মেক-আপ করে৷ তার পরনের পোশাক আপাদমস্তক কালো৷ ‘আমি গল্পের মাঝখানে ঢুকে, গল্পটাকে পাল্টে দিয়ে চলে যাই৷ যিশুই কেন্দ্রীয় চরিত্রে৷ আমার চরিত্রের নাম নেই কোনও৷ খানিকটা ‘আগন্তুক’ ছবির চরিত্রটার মতো৷ সারা পৃথিবী ঘোরা৷ সে দুম করে দেখা দেয়৷ ‘চিত্রাঙ্গদা’ ছবিতে এই ধরনের একটা চরিত্রে অভিনয় করেছি৷ কিন্তু সেই ছবির চরিত্রটা অনেক শান্ত, সে চুপ করে শোনে, ঋতুর (ঋতুপর্ণ ঘোষ) অল্টার ইগোর মতো৷ এখানে এ অনেক বেশি একসেনট্রিক, অ্যাগ্রেসিভ, ওয়াইল্ড৷ ফাইনালি দেখা যায় যে লোকটা এগজিস্ট করে না৷

rojotav

গার্গী ছেড়ে দেওয়ার পর রনি যখন লিখতে শুরু করে, ওর ভার্সানে আমি আসছি৷ ‘উড়ো চিঠি’তে একটা ছোট কাজের পর কমলের সঙ্গে এটাই আমার মেজর কাজ৷ হি ইজ ভেরি সেন্সিটিভ৷ আমি একটু সেন্সিটিভ মানুষদের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি৷ তা মৃণাল সেনই হোক বা অপর্ণা সেন বা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত৷ কিন্তু পরের দিকে তেমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল৷ এখন অনেকে আছে৷ কমল খুব শান্তভাবে কাজটা করিয়ে নিতে জানে৷ সেট-এ হইহল্লা করা দেখছি একটা রিসেন্ট ফেনোমেনা৷ যার যুক্তি খুঁজে পাই না৷ আমার প্রোজেক্টটা ইন্টারেস্টিং মনে হয়ছে তাই করেছি৷ আমার ‘নির্বাক’ও তেমন মনে হয়েছিল৷ কিন্তু কিছু হল না৷ অল অফ আস ওয়েন্ট রং আই থিংক, সামহোয়্যার! যা হচ্ছে তার থেকে একটু অন্যরকম হলে কাজটা করতে উৎসাহ আসে৷ যেমন এই ছবিটা’, অনেকটা বলে অঞ্জন দত্ত থামলেন৷

রজতাভ দত্ত এই ছবিতে অগ্নিভ এবং গার্গীকে দেখা যাবে এষার চরিত্রে৷ অগ্নিভ এবং এষার জীবনদর্শনে একটা বিভেদ আছে৷ ‘আমি কোথাও গিয়ে প্রতিবাদ করি, বলি এভাবেও তো ঘটনাগুলো ঘটতে পারে, এই ডিসকোর্সের মধ্যে দিয়ে আমার একটা ভার্সান তৈরি হয়৷ পুরোটাই ঘটে একটা স্পেসের মধ্যে’, জানালেন রজতাভ দত্ত৷ পায়েল রয়েছে যিশুর স্ত্রীর চরিত্রে৷ এই ছবিতে অনসূয়া৷ ‘অনসূয়ার জীবনে একটা লক্ষ্য আছে৷ শৌনকের অ্যাম্বিশন আলাদা৷ সেই জায়গায় দু’জনেরই একটা কনফ্লিক্ট রয়েছে৷ সম্পর্ক না কেরিয়ার এই ব্যালেন্সটা সবসময় করা হয়ে ওঠে না৷ তেমন জায়গায় রয়েছে আমার আর যিশুর চরিত্রটা৷’ জানালেন পায়েল৷ এই ছবিতে দেখা যাবে সাহেব, দর্শনা, উষসী এবং পদ্মনাভ দাশগুপ্তকেও৷

দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রমার্ট লিমিটেড গ্রে ও কনকা এর যাত্রা শুরু

Development by: webnewsdesign.com