জনপ্রিয় সংবাদ

x

ঘুরে আসুন পেট্রোনাস টাওয়ারের দেশে

সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৬ | ১:৪০ পূর্বাহ্ণ | 688 বার

ঘুরে আসুন পেট্রোনাস টাওয়ারের দেশে

একসময় ইউরোপ-আমেরিকার মানুষের কাছে অবকাশযাপনের জায়গা বলতে ছিল শুধু ক্যারিবীয় আর প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলো। আর এশিয়ায় তাদের কাছে বিনোদন অবকাশের নাম ছিল থাইল্যান্ড। এখন অবস্থা পাল্টেছে। ধনী দেশের পর্যটকদের কাছে এখন শীর্ষস্থানীয় গন্তব্যগুলোর একটি মালয়েশিয়া। বাংলাদেশিদের কাছে বিদেশ ভ্রমণের আগে যে কয়টা দেশের নাম উঠে আসে, সেগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম। মালয়েশিয়ার ভিসা পাওয়া অনেক দেশের তুলনায় বেশ সহজ। তার জন্য তোমাকে যা করতে হবে তা হলো, প্রথমে ভিসার জন্য যেসব প্রয়োজনীয় তথ্য দরকার, তা জোগাড় করা। যেমন তোমার গত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (স্টুডেন্ট হলে ব্যাংকে ৫০-৬০ হাজার টাকা রেখে একটা স্টেটমেন্ট নিয়ে নাও), যাওয়া-আসার প্লেন টিকিট (বিলাসী না হলে এয়ার এশিয়ার টিকিট কাটতে পারো, রিটার্ন টিকিট ১৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে, বিশেষ অফার থাকলে অনেক সময় ছয়-আট হাজার টাকায়ও টিকিট পেতে পারো)। প্লেনের ভেতর ফ্রি কোনো খাবার পাবে না, যেটা পাবে সেটা খেতে হলে এক্সট্রা পে করতে হবে। টাকা বাঁচাতে চাইলে গুড়-মুড়ি আর একটা ড্রিংকস নিয়ে উঠতে পারো। টিকিটের জন্য এয়ার এশিয়ার ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখতে হবে। আর স্বাচ্ছন্দ্যে যেতে চাইলে সবচেয়ে ভালো সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। সে ক্ষেত্রে খরচ পড়বে প্রায় দ্বিগুণ।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট, প্লেন টিকিট, পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি- সব জোগাড় করে ভিসা ফি ৩০০০ টাকাসহ গুলশানের মালয়েশিয়ান হাইকমিশনে সাবমিট করতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তিন দিন পরই ভিসা পেয়ে যাবে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া যেতে টিকিট কাটতে পারো ইউনাইটেড এয়ার, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, বাংলাদেশ বিমান ও মালয়েশিয়ান এয়ারে। সময়ভেদে টিকিটের দাম কমবেশি হতে পারে। যাওয়া-আসার টিকিট মিলিয়ে ইউনাইটেড এয়ার ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের টিকিটের দাম পড়বে ২২ হাজার ৫০০ থেকে ২৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশ বিমানের টিকিট পাবে ২৪ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। মালয়েশিয়ান এয়ারের টিকিটের দাম ২৭ হাজার থেকে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর পৌঁছাতে সময় লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টা। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সময়ে পার্থক্য দুই ঘণ্টা। তাই গভীর রাতে এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর ঝামেলা এড়াতে রাতের বিমানে রওনা দেওয়াই উত্তম।

malayshiya

বিমানবন্দরের নাম কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) হলেও সেটি কিন্তু কুয়ালালামপুর মূল শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। তার পাশেই আরেকটি এয়ার এশিয়ার নিজস্ব বিমানবন্দর আছে। এয়ার এশিয়ায় মালয়েশিয়া এলে খরচ অনেক কম। কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে নেমে মূল শহরে আসতে হলে তোমাকে ট্যাক্সি বা বাসযোগে আসতে হবে। কুয়ালালামপুরে থাকার জন্য বুকিট বিনতাং এলাকাটি বেছে নিতে পারো। পর্যটক হিসেবে মালয়েশিয়া এসে বুকিট বিনতাং এলাকায় থাকলে সব রকমের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। বেশির ভাগ পর্যটকই মালয়েশিয়া এসে থাকার জন্য বুকিট বিনতাং এলাকার হোটেলগুলোই বেছে নেন। হোটেলের ভাড়া দিনপ্রতি ৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত থেকে ৫০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত। নিজের রুচির ওপর নির্ভর করে ঠিক করো তুমি কেমন হোটেলে থাকতে চাও।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বুকিট বিনতাং আসতে হবে ট্যাক্সিযোগে, ভাড়া লাগবে ৭০-১০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। বাসে আসতে চাইলে ১০ রিঙ্গিত। বাস আসবে পুডু পর্যন্ত। পুডু থেকে নেমে একটু হেঁটে সামনের দিকে এলেই বুকিট বিনতাং। এখান থেকে বাসে অথবা ট্যাক্সি করে যেখানে খুুশি যেতে পারো। বুকিট বিনতাংয়ে মালয়েশিয়ার অতি পরিচিত শপিং মার্কেট প্যাভিলিয়ন। তবে প্যাভিলিয়ন মার্কেট থেকে কেনাকাটা না করাই ভালো। সেখানে সবকিছুর মূল্য অনেক বেশি। রাতে বুকিট বিনতাংয়ের সড়কগুলোতে গানের আসর হয়। নানা রকমের খাবারের দোকান বসে।
মালয়েশিয়ার সব হোটেলেই চেকইন করার সময় দুপুর ১২টা। তাই সকালে কুয়ালালামপুর পৌঁছে হোটেল খুঁজতে বের করতে হলে ঝামেলায় পড়তে পারো। তাই আগেভাগে হোটেল বুকিং করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অসংখ্য হোটেলের মধ্যে টাইমস স্কয়ার, পার্ক রয়্যাল, ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল, রয়্যাল বেনতান ইত্যাদি পর্যটকদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়। টাইমস স্কয়ার ও পার্ক রয়্যালে সকালের বুফে নাশতাসহ দিনপ্রতি খরচ পড়বে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল ও রয়্যাল বেনতানে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যেই থাকতে পারবে।

পরিবার নিয়ে গেলে নিতে পারো টাইমস স্কয়ারের স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টগুলো। রান্নাবান্নাসহ সব ঘরোয়া পরিবেশই পাওয়া যাবে এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে। তবে দিনপ্রতি গুনতে হবে ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল ও রয়্যাল বেনতানে পাবে সর্বোচ্চ চারজনের প্যাকেজ, খরচ ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে এই দুই প্যাকেজে নেই সকালের নাশতার ব্যবস্থা। কুয়ালালামপুর থেকে একটু উপকণ্ঠের দিকে গেলেই চোখে পড়বে পাহাড়ের কোলে কিংবা উপত্যকায় সেখানকার ‘ভূমিপুত্র’-খ্যাত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিচিত্র জীবনযাপন।

রাজধানী কুয়ালালামপুর কিংবা প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়া থেকে খানিকটা বাইরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখান থেকে রাজধানীর অভিমুখে যাত্রা করলে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি পামগাছের দৃশ্যই বলে দেয় পাম তেল রপ্তানিতে দেশটি কেন এতটা এগিয়ে।

সুউচ্চ অট্টালিকাশোভিত কুয়ালালামপুর শহর পুরোটাই ট্রেনে করে ঘোরা যায়। অত্যাধুনিক বিপণিবিতানের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপত্য, বৌদ্ধ ও হিন্দু মন্দিরের মতো স্থানগুলোতে সারা বছর পর্যটকদের ভিড় লেগেই আছে। আছে উদ্দাম আনন্দে বিশ্বাসী পর্যটকদের জন্য গেন্টিং হাইল্যান্ড। তবে ইউরোপ-আমেরিকার পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মালয়েশিয়ার কয়েকটি দ্বীপ। যারা কোলাহল থেকে একটু দূরে শান্ত-নিরিবিলি-নির্জন পরিবেশে সময় কাটাতে চাও তাদের জন্য এসব দ্বীপে রয়েছে অসাধারণ সব আয়োজন।
এমনই এক দ্বীপ মাবুল। মালয়েশিয়ার দ্বীপমালার রাজ্য সাবাহের একটি ছোট্ট দ্বীপ মাবুল এখন সারা বিশ্বের সাগরতলার সৌন্দর্যপিয়াসী ডুবুরিদের কাছে অতিপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দ্বীপের চারপাশের স্বচ্ছ পানির নিচে ডুব দিয়ে দেখা যায় সাগরতলের বিচিত্র সব প্রাণী। এই দ্বীপেই গড়ে উঠেছে অনুপম সুন্দর ‘ওয়াটার বাংলো’। এ যেন পানিতেই বসবাস।
হিন্দুধর্মালম্বীদের জন্য কুয়ালালামপুরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং সুন্দর জায়গা বাতু গুহা। পাথরের গুহার ভেতরে মন্দির। প্রায় ১০তলা সমান উঁচু সিঁড়ি বেয়ে গুহায় প্রবেশ করতে হয়। মূল গেটের একটু ভেতরেই বিশাল বড় মূর্তি। আশপাশের পাহাড় এই গুহার সৌন্দর্য আরও ফুটিয়ে তুলেছে। এ ছাড়া দেখতে পাওয়া যায় শত শত কবুতর ও বানর। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক বিভিন্ন দেশ থেকে বাতু গুহায় ভিড় করেন।

মালয়েশিয়া আসার পর টুইন টাওয়ার না দেখলে যেন সবই বৃথা। পুরো বিশ্বে পরিচিত পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার। মালয়েশিয়ার নাম এলে সর্ব প্রথম টুইন টাওয়ারের নাম বলতে হবে। সন্ধ্যার পর টুইন টাওয়ারের সামনে কেএলসিসি এলাকায় যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো সময়। সন্ধ্যা থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়তে থাকে। এই এলাকায় বসে আনন্দ মেলা। রাতের টুইন টাওয়ারের সৌন্দর্য দিনের টুইন টাওয়ারের চেয়ে পুরো ব্যতিক্রম। আনন্দের সঙ্গে যোগ হয় আলোকসজ্জায় সজ্জিত কেএলসিসি এলাকা।
মালয়েশিয়ার জাতীয় চিড়িয়াখানা। নানান রকমের পশুপাখি। বাঘ আর সিংহ ছাড়া সব প্রাণী ছোঁয়া যায়। পশুপাখিকে জড়িয়ে ধরে ছবি তোলা যায়। আদর করা যায়। জু-নিগারা থেকে বের হয়ে আসে পাশের শপিং মার্কেটগুলো ঘুরে দেখতে পারো। পছন্দমতো কেনাকাটা করতে পারো।

চায়না টাউন মূলত মার্কেট। মালয়েশিয়ার সবচেয়ে কম মূল্যে পণ্য কেনাবেচার মার্কেট। সেখানে বেশিরভাগ বিদেশিকে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। তবে চায়না টাউন থেকে তোমাকে দামদর করে পণ্য কিনতে হবে।

malayshiya-2

চায়না টাউনের সঙ্গেই এই মন্দিরটির অবস্থান। ১৮৭৩ সালে দথামবোসামি পিল্লাইদ নামক এক ব্যক্তি এই মন্দিরটি তার নিজ উদ্যোগে বানিয়েছিলেন। তখন এই মন্দিরটি ছিল তার ব্যক্তিগত পারিবারিক মন্দির। ১৯২০ সালে এই মন্দিরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কেএল টাওয়ারের ওপর থেকে কুয়ালালামপুর শহর দেখার দৃশ্য দেখতে মিস করবে না। বিশেষ করে রাতের বেলা। রাতের দৃশ্য আমার চোখে সবচেয়ে সুন্দর লাগে। কেএল টাওয়ারে উঠতে জনপ্রতি খরচ হয় ৩০ রিঙ্গিত। কুয়ালালামপুর থেকে গাড়ি নিয়ে পর্যটকদের স্বর্গখ্যাত গেন্টিং হাইল্যান্ড না দেখে এলে মালয়েশিয়া সফর বৃথা হয়ে যাবে। গাড়ি নিয়ে আসার পথে ঘুরে আসতে পারো চকলেট ফ্যাক্টরি থেকে। পাহাড়ের গা বেয়ে খানিকটা দূরে শুরু পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ রোপওয়ে। ক্যাবল কারে ওঠার আগে ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করেন অনেকেই। ছবি তুললে রোপওয়ে থেকে নামার সময়ই ছবির প্রিন্ট হাতে পাবে।
গেন্টিং হাইল্যান্ডে নামার পরই ভিন্ন এক জগৎ। চারদিকে রঙিন আলোর ঝলকানি। বড় বড় হোটেল। থিমপার্কে বিনোদনের সবই আছে। মনোরম সব দৃশ্য দেখার পর সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যাবে দৃশ্যপট। সেখানকার ক্লাবগুলো জমে উঠবে। নাচ, গান, বাজি আর সুরার আবেশে উপভোগের ষোলোকলা পুরো করতে গেলে পকেট খালি হয়ে যাবে। এখানে আছে অনেকগুলো ক্যাসিনো। বিদেশি ধনকুবেররা সেখানে খইয়ের মতো অর্থ ওড়ায়। পশ্চিমা থেকে আরব কোটিপতি, এশিয়ার সব অঞ্চলের পর্যটক গিজগিজ করছে।

কুয়ালালামপুর থেকে যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। যেতে পারো বাস অথবা ট্যাক্সিতে। তবে বাসে যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো। খরচ কম। মালয়েশিয়া ফেডারেল সরকারের বর্তমান রাজধানী পুত্রাজায়া। এই শহরের নামকরণ করা হয়েছে মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী টেঙ্কু আবদুর রহমান পুত্রার নামানুসারে।
* পারদানা পুত্রা : এটি শহরের প্রধান পাহাড়ে অবস্থিত, যা মালয়েশিয়ান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
* পুত্রা মসজিদ : শহরের প্রধান মসজিদ।
* পুত্রাজায়া স্বাধীনতা স্কয়ার : বিভিন্ন উৎসব ও প্যারেড এখানে অনুষ্ঠিত হয়।
* পুত্রা সেতু : ৩৩৫ মিটার দীর্ঘ দর্শনীয় সেতুটি মনোরেল (মেট্রোরেল), যানবাহন ও পথচারী চলাচলের জন্য তিনটি আলাদা আলাদা স্তরে বিভক্ত।
* পুত্রাজায়া হ্রদ : ৬৫০ মিটারের এই কৃত্রিম হৃদ নগরীকে ঠান্ডা রাখার জন্য নির্মিত। এটি এখন মালয়েশিয়ার জলক্রীড়ার প্রধান স্পটে পরিণত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রথম শহর মেলাক্কা। ১৫১১ সালে পর্তুগিজদের হাত ধরে মেলাক্কায় ইউরোপীয় উপনিবেশের পত্তন ঘটলেও বহু আগে থেকেই চীনা, ভারতীয় ও আরব নাবিকদের আনাগোনায় মিশ্র সংস্কৃতির এই শহর গড়ে উঠেছিল। মেলাক্কাকে মালয়েশিয়ার ইতিহাসের শহর বলা যায়। সুমাত্রার রাজপুত্র পরমেশ্বর এই নগরীর পত্তন করেন। মালয়েশিয়ার বিচিত্র বর্ণময় ইতিহাসের একটা বড় অংশই রয়েছে মেলাক্কাকে ঘিরে। পুরোনো মেলাক্কায় সেন্ট পলের চার্চ ও দুর্গের ভগ্নাবশেষটিই ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন। যারা গোয়ায় সেন্ট জেভিয়ার্সের সমাধি দেখেছো তারা ইতিহাস খুঁজতে এখানে আসতেই পারো। ১৫৩৩ সালের ২২ মার্চ থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেন্ট জেভিয়ার্সের দেহটি এখানেই সমাধিস্থ ছিল।
মালয়েশিয়ার দীর্ঘতম সমুদ্রবন্দর পেনাং। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত জাহাজের মালামাল খালাস করা হয় এখানে। এশিয়ার দীর্ঘতম সেতু দেখা যাবে পেনাংয়ে। এশিয়ার দীর্ঘতম এবং বিশ্বে পঞ্চম ১৩.৫ কিলোমিটার পেনাং ব্রিজ।
ব্রিটিশ উপনিবেশের স্মৃতিচিহ্ন সেন্ট কর্নওয়ালিস ফোর্ট ও সেন্ট জর্জেস চার্চ। চার্চের গায়েই পেনাং মিউজিয়াম পেনাংয়ের অতীত ইতিহাসের সাক্ষী।

পেনাং থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে মালয়েশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধমন্দির কেক লোক সি বর্মীয়, চীনা ও থাই স্থাপত্যের সংমিশ্রণের নিদর্শন। সাততলা প্যাগোডা বা বান পো থর চমৎকৃত করে। ছোট ট্রেনে চড়ে পাহাড়ের বুকে একের পর এক টানেল পেরিয়ে মিনিট কুড়িতে পৌঁছে যাওয়া যায় ২,৪২৮ ফুট উচ্চতায় পেনাং পাহাড়ের মাথায়। ওপর থেকে অসাধারণ লাগে বিস্তীর্ণ দ্বীপভূমি। এখান থেকে আরও ছয় কিলোমিটার দূরে বোটানিক্যাল গার্ডেন। জর্জটাউন থেকে বাসে আজার ইতামে পেনাং হিল কেবল ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাতে হবে। শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে রংবেরঙের প্রজাপতির দুনিয়া বাটারফ্লাই ফার্ম। ১২ কিলোমিটার দূরে সর্পমন্দির।

পেনাংয়ে থাকার জন্য আছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। সমুদ্র পাড়ে কাটাতে পারো সুন্দর কিছু মুহূর্ত। সঙ্গে পানিতে গা ভেজাতে ঝাঁপ দিতে পারো সমুদ্রের বুকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে আশা করি ভালোই সময় কাটবে।

পেনাং থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরে লংকাউই। যাওয়া যায় আকাশ ও জলপথে। পেনাং থেকে জলপথে জাহাজে করে লংকাউই যাওয়াটা খুব উপভোগ্য। যেতে সময় লাগবে প্রায় ৫ ঘণ্টা। যাওয়ার পথে চোখে পড়বে অনেকগুলো ছোট ছোট দ্বীপ।

আমার চোখে মালয়েশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর জায়গা লংকাউই। সমুদ্রে ঘেরা চারদিক লংকাউই দ্বীপ সিঙ্গাপুরের চেয়েও নাকি বড়। লংকাউই পৌঁছে যাতায়াতের জন্য গাড়ি অথবা মোটরসাইকেল ভাড়া নিতে পারো। প্রাইভেট কার ভাড়া নিতে গেলে খরচ হবে দিনপ্রতি ৬০ রিঙ্গিত। মোটরসাইকেল দিনপ্রতি ৩০ রিঙ্গিত। প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল যা-ই ভাড়া নাও না কেন চালাতে হবে তোমাকে নিজে। আর হ্যাঁ অবশ্যই ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে (যে কোনো দেশের)। ক্যাবল কার লংকাউইর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। ক্যাবল কারে উঠতে খরচ হয় জনপ্রতি ৩০ রিঙ্গিত। লংকাউইতে আবাসিক হোটেলে থাকতে হলে ভাড়া লাগবে ৬০ থেকে ১০০ রিঙ্গিত দিনপ্রতি।

এ ছাড়াও পুরো কুয়ালালামপুর ঘুরে দেখার জন্য নিতে পারো যে কোনো সিটি ট্যুর প্যাকেজ। এতে করে দেখার মতো স্থানগুলো সহজেই ঘুরে দেখতে পারো।
পৃথিবীর সবগুলো ব্র্যান্ডের পণ্যই পাবে এই মার্কেটগুলোয়। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার স্থানীয় পণ্যগুলোও গুণগত মানসম্পন্ন, দামও ক্রয়সীমার মধ্যেই। আর ইলেকট্রনিকস পণ্য কিনতে চাইলে অবশ্যই যেতে হবে ল-ইয়েট প্লাজা। এ ছাড়া লাংকাউ ডিউটি ফ্রি কেনাকাটার জন্য জনপ্রিয়। তা ছাড়া পুরো মালয়েশিয়ায় পাবে প্রচুর সুপার শপ ও রোড সাইড দোকান। যেখান থেকে কিনে নিতে পারো নিজের পছন্দের জিনিস।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে মালয়েশিয়ার খাবার খরচ অনেক কম। দিনপ্রতি তিনবার খাবার খেতে খরচ হবে ১৫ থেকে ২৫ রিঙ্গিত। খাবারের তালিকায় থাকবে মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ অন্যান্য খাবার পছন্দমতো বেছে নিতে পারো। পানির দাম মালয়েশিয়ায় বেশি। ১.৫ লিটার পানির দাম ২ রিঙ্গিত, কোথাও কোথাও আরও বেশি। মালয়েশিয়ানরা খাবারে একবারেই ঝাল কম খায়। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার নাসি গরেং। ভাতকে বলা হয় নাসি। ভাতের সঙ্গে ডিম মাংস মিক্স করে খাবার তৈরি করা খাবারকে বলে নাসি গরেং। গরুর মাংস খেতে চাইলে নাসি গরেং দাগিং, মুরগির মাংস নাসি গরেং আজাম, চিংড়ি মাছ হলে নাসি গরেং উদাং। ফাস্ট ফুড খাবার খেতে চাইলে আছে ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি। সব ধরনের ফাস্ট ফুড চেইনের স্বাদ নিতে পারবে মালয়েশিয়ায়। কমতি নেই স্থানীয় খাবারের। সকালের নাশতায় দুই রিঙ্গিতের বিনিময়ে খেতে পারো চানারুটি।

ফলপ্রেমীরা পাবে নানা রকম ফল। অনেক রকম ফলের সম্ভার পাবে এখানে। দাম ১-৩ রিঙ্গিতের মাঝে। ফল ও ফলের জুস এখানে অনেক সহজলভ্য ও সুস্বাদু।

পেনাংয়ে গেলে ওখানকার স্ট্রিট ফুড টেস্ট করতে ভুলবে না। পেনাংয়ের মতো মজাদার, বৈচিত্র্যময় ও সহজলভ্য স্ট্রিট ফুড মালয়েশিয়ায় আর কোথাও পাওয়া যায় না। এখানে লাকসা নামের একটা স্যুপ পাওয়া যায়, যা অনেক সুস্বাদু ও এখানের ঐতিহ্যপূর্ণ খাবারের মধ্যে একটা। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় দুপুরের খাবারে খেতে পারো মিক্সড ফ্রাইড রাইস নাসিগরেঙ্গ, খরচ পড়বে সাত থেকে আট রিঙ্গিত। এ ছাড়া লাংকাভিউয়ের বিচে সান সাইট ডিনার করতে ভুলবে না যেন। এত সুন্দর ও রোমান্টিক ডিনারের সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। এ ছাড়া আছে পাকিস্তানি ও বাঙালি রেস্তোরাঁ। পাবে কাচ্চি বিরিয়ানি, তন্দুরি চিকেন, কাবাব ইত্যাদি। ২০ রিঙ্গিত বা ৫০০ টাকাতেই ভরপেট খেতে পারবে এই রেস্তোরাঁগুলোয়। এ ছাড়া পুরো মালয়েশিয়ায় ওদের স্ট্রিট ফুড অনেক প্রসিদ্ধ। এখানে পাবে নানা স্বাদের ও বৈচিত্র্যের খাবার।

আর এক দিন সময় করে কুয়ালালামপুরের চায়না টাউনে লাঞ্চ বা ডিনার করতে ভুলবে না যেন। এখানের হোল স্টিম ফিশগুলো সত্যিই সুস্বাদু।

ডেজার্ট হিসেবে বেছে নিতে পারো সিক্রেট রেসিপির কেক ও নানা স্বাদের আইসক্রিম। ওদের ধনপ নামের একটা আইসক্রিম, যা অনেক জনপ্রিয় ও সুস্বাদু। হ্যাঁ, মালয়েশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান ঠিকই; তবে বিদেশি পর্যটকদের বিনোদনের জন্য নাইট ক্লাবসহ কোনো কিছুরই কমতি নেই!

মালয়েশিয়ায় ভ্রমণের জন্য প্রায় সারা বছরই প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করে থাকে বাংলাদেশের কয়েকটি ট্যুর অপারেটর ও দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনস। মালয়েশিয়ায় তিন থেকে চার দিন বেড়ানোর জন্য মাথাপিছু কমবেশি ৪০ হাজার টাকা নেয়। এদের কোনো কোনোটি ভিসার ব্যবস্থা করারও দায়িত্ব নেয়। তবে এর জন্য দিতে হয় বাড়তি অর্থ। তুমি চাইলে নিজেই ভিসা সংগ্রহ করে একাই যেতে পারো মালয়েশিয়া, সে ক্ষেত্রে খরচ গুনতে হবে অনেক বেশি।

বালিয়াডাঙ্গীতে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত

Development by: webnewsdesign.com